ঢাকা, শনিবার 16 December 2017, ২ পৌষ ১৪২৪, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উঃ কোরিয়ার ওপর মার্কিন হামলার পরিণতি হবে ভয়াবহ : পুতিন

ডিসেম্বর ১৫, পার্স টুডে : উত্তর কোরিয়ার ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার চলমান সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা তারা সমর্থন করেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত কিছু কর্মকা- পিয়ংইয়ংকে ২০০৫ সালের চুক্তি লঙ্ঘন করে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে উৎসাহিত করেছে।’

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির রাশ টেনে ধরার জন্য রাশিয়া, চীন, আমেরিকা, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে ওই চুক্তি হয়। কিন্তু চলমান পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে চুক্তির কয়েক মাস পরই আমেরিকা উস্কানিমূলক তৎপরতা শুরু করে। অথচ বেইজিংয়ে চুক্তির সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করবে না এবং পিয়ংইয়ংয়ের ওপর হামলার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।

পুতিন জানান, এ আশ্বাসের ভিত্তিতে উত্তর কোরিয়ার সেসমরে নেতা কিম জং ইল পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত রাখেন। এর কিছুদিন পর মার্কিন সরকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে উত্তর কোরিয়ার এক কোটি ৪০ লাখ ডলার আটক করে।

পুতিনের প্রশ্ন, “কী প্রয়োজন ছিল এসব করার?” মার্কিন পদক্ষেপের কারণে উত্তর কোরিয়া মনে করেছে, পরমাণু বোমাই কেবল তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে এবং পিয়ংইয়ং সে পথ বেছে নিয়েছে। 

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা নিয়ে অনেক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পাল্টাপাল্টি হুমকি দিয়েছে দুই দেশের নেতা। ২৯ নভেম্বর উত্তর কোরিয়া দাবি করেছিল তারা সবচেয়ে আধুনিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে।হোয়াসং-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে ব্যাপক এ বিমান মহড়া শুরু হয়।

পুতিন বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তার বাহিনীকে উত্তর কোরিয়ার ওপর আগে ভাগে হামলা নিন্দেশ দেন তাহলে মার্কিন সেনারা সব লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা করতে সক্ষম হবে না এবং তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি দু পক্ষের এখন এই শোচনীয় পরিস্থিতিতে শান্ত হওয়া উচিত।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ