ঢাকা, শনিবার 16 December 2017, ২ পৌষ ১৪২৪, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভরা মওসুমেও খুলনায় চালের বাজার অস্থিতিশীল

খুলনা অফিস : আমন ফসল ঘরে উঠেছে। বাজারেও আসতে শুরু করেছে। তবে অস্থিতিশীলতা কাটেনি চালের বাজারে। মওসুম শুরু হলে বাজারে চালের মূল্য কমার চিরাচরিত নজির থাকলেও এবার এমন কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ভারতীয় চালের দাম বেড়েছে আবারো। এদিকে খোলা বাজারে ন্যায্য মূল্যে ওএমএস, ফেয়ার প্রাইসসহ অন্যান্য সেবা বন্ধ রয়েছে।
 খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমনের ধান আসতে শুরু করেছে। তবে মিল মালিকরা এখনও সম্পূর্ণ চাল বাজারে ছাড়েনি। গত বছর এ সময় বাজারে নতুন চাল আসায় সব ধরনের চালে বর্তমানের চেয়ে অন্তত কেজি প্রতি ১৫ টাকা কমে বিক্রি ছিল।
বৃহস্পতিবার নগরীর বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, মোটা চাল বিক্রি হয়েছে ৪৬, বালাম ৫০ থেকে ৫২ ও মিনিকেট ৫৫ টাকায়। ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বরের বাজার দর অনুযায়ী মোটা চাল ছিল স্বর্ণা ৩২ টাকা, আটাশ বালাম ৪০ টাকা ও মিনিকেট ৪৫ টাকায়। যা বর্তমানের চেয়ে সব ধরনের চালে কেজি প্রতি অন্তত ১৫ টাকা কম। সর্বত্র চালের বাজারে স্থিতিশীলতার খবরের পরেও দাম না কমার কারণ জিজ্ঞাসা করলে নিউমার্কেট চালপট্টির বিক্রেতা আহমেদ বললেন পাইকারী বাজারে না কমালে কিভাবে কমাবো।
নগরীর বড় বাজারে নবযুগ ট্রেডার্স, রাজলক্ষী ভান্ডার, দৌলতপুর ট্রেডার্স, নওয়াপাড়া ট্রেডার্স, মেসার্স মুনির ট্রের্ডাস-এ গিয়ে দেখা যায় স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৩ টাকায়, বালাম ৫০ টাকায়, মিনিকেট (ভারত) ৫৮, মিনিকেট (দেশি) ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলেন এখনও পুরোপুরি চাল আসেনি। আসলে কিছুটা কমবে। তবে ভারতে চালের দাম না কমলে তেমন হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ধান চাল বণিক সমিতির সভাপতি মো. মুনির আহমেদ বলেন, চালের দাম অনেকটাই কমেছে। বাজারে নতুন চাল পুরোপুরি আসলে দাম কমবে। তবে সম্প্রতি ভারত থেকে আমদানি করা চালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম কমাতে পারছে না ব্যবসায়ীরা।
এদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায় চলতি মওসুমে জেলার ৯৮টি মিল থেকে ৩৭শ’ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চাল সংগ্রহ শুরু করেছে জেলা খাদ্য অফিস। বৃহস্পতিবার থেকে খোলা বাজারে ওএমএস-এর চাল বিক্রি বন্ধ করেছে খাদ্য বিভাগ। এছাড়া আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে টিআর, কাবিখা ও ফেয়ার প্রাইস কার্যক্রম।
 জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন বলেন, খুলনার চালের বাজারে সারাদেশের তুলনায় অনেক ভালো। খুলনার সরকারি গুদাম ও বেসরকারি পর্যায়ে চালের কোন সংকট নেই। সঠিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে চালের মূল্য কমে আসবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ