ঢাকা, রোববার 17 December 2017, ৩ পৌষ ১৪২৪, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দামুড়হুদা প্রাণী সম্পদ হাসপাতালের বেহাল দশা

এফএ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের বেহাল দশা। ৪টি পদের মধ্যে ৩টিই রয়েছে শূন্য, বিগত ১০ বছর ধরে ভেটিরিনারী সার্জন ছাড়াই চলছে এই সরকারী হাসপাতাল। সুরম্য ভবন আছে, এলাকায় পর্যাপ্ত গবাদিপশু আছে,নেই শুধু সেবা দেবার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, তাই জনগন ছুটছে চিকিৎসার জন্য হাতুড়ে চিকিৎসকদের কাছে।
জানাগেছে-দর্শনার ভৌগলিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ১৯৬৮ সালে তৎকালিন সরকার দর্শনা সরকারী কলেজ সংলগ্ন ১ একর জমির উপর থানা পশু সম্পদ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। হাসপাতালটি এক পযার্য়ে জরাজীর্ন হয়ে পড়লে পত্রপত্রিকায় প্রচুর লেখালেখির পর বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় একটি সুরম্য ভবন তৈরী করা হয়। হাতের কাছে হাসপাতাল, সরকারী প্রনোদনা আর অর্থিক লাভের কথা বিবেচনা করে এক সময় এখানে বিপুল পরিমান গরু, ছাগল ও পোলট্রি খামার গড়ে ওঠে।
বর্তমান সরকার যখন দেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করতে বিভিন্ন উপায়ে যেমন, ছাগল পালন, হাঁস-মুরগীর খামার,গবাদী পশু পালনে মানুষদের আগ্রহী করছেন ঠিক সেই সময়ে সরকারি প্রাণিস¤পদ অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অসচেতনা ও অবহেলায় যেমন আগ্রহ হারাতে বসেছে পশু পালনকারীরা তেমনি নষ্ট হচ্ছে প্রাণিসম্পদ হাসপাতালটিও । কারন প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে উপজেলার এই প্রাণী সম্পদ হাসপাতালটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়েছে। অবাক হলেও সত্য সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির ৪টি পদের মধ্যে ৩টি পদই দীর্ঘ দিন ধরে শুন্য রয়েছে।
প্রাণী সম্পদ হাসপাতালটিতে ৪টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে একজন ভেটেনারী সার্জন,একজন ক¤পাউন্ডার, একজন এফইএআর (কৃত্রিম প্রজননকারী) ও একজন ড্রেসার। বর্তমানে এখানে শুধুমাত্র একজন ক¤পাউন্ডার নিযুক্ত আছে।
জানাযায়,এখানে এক সময় প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন বিভিন্ন সেবা যেমন কৃত্তিম প্রজনন ,ছাগলের ঠান্ডা কাশিসহ ভ্যাক্সিন দিতে আসতো। বর্তমানে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে কিংবা একজন ব্যক্তি এসকল কাজ করতে অনেক সময় লাগে বলে অনেকে সময় ক্ষেপন না করে অন্যত্র চিকিৎসা নিতে চলে যায়।
বিষয়টি অনুধাবন করে উপজেলা প্রাণী স¤পদ কর্মকর্তা কোঁটচাদপুর থেকে প্রেষনে আমিরুল ইসলাম নামের একজন ড্রেসার এনে কোন রকমে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। আর দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মশিউর রহমান এখানকার ভেটিনারী সার্জনের অতিরীক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এমনিতেই উপজেলা সদর থেকে দর্শনার দুরত্ব ১২ কিলোমিটার, তারপরও তাকে কখনো ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বসহ নানাবিধ দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় এখানে সপ্তাহে ২দিন আসলেও সেবা প্রত্যাশীদের সাথে দেখা হয় খুবই কম। আর সরকারী সেবার এই দৈন্যদশার সুযোগে এখানে গড়ে উঠেছে পশু ডাক্তারের নামে হাতুড়ে ডাক্তারের ছড়াছড়ি। আর এদের হাতে গলাকাটা সেবার শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ। এক সময় এই হাসপাতালটি হতে সপ্তাহে একদিন বিনা মূল্যে হাঁস মুরগী ভ্যাকসিন প্রদান করা হতো। সে সময় দর্শনাও পার্শ¦বর্তী এলাকায় বাড়ীতে বাড়ীতে প্রচুর পরিমান হাঁস মুরগীর পালন হতো।
বর্তমানে সেটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষ বিপাকে পড়েছে। কারণ বর্তমানে বাজারে হাজারের নীচে ২০/২৫ টির হাঁস মুরগীর কোন ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। আর সাধারণ মানুষের পক্ষে এতদামের ভ্যাকসিনও কেনা সম্ভব হয় না।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রানী স¤পদ কর্মকর্তা ডাঃ মশিউর রহমান জানান- আমি প্রত্যেক মাসিক সভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করি এবং লিখিত আবেদন করি কিন্তু কোন ফল আসে না। কর্মকর্তারা বলেন লোক নেই কোথা থেকে দেব, যেভাবে চলে সেভাবে চালাতে হবে।
এ ব্যাপারে যশোরে অবস্থিত খুলনা বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কল্যাণ কুমার ফৌজদারের সাথে কথা বললে তিনি দৈনিক সংগ্রামকে জানান-প্রাণী সম্পদ বিভাগের ভেটেনারী সার্জনের পদটি মুলতঃ বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের পদ। বর্তমানে প্রানী সম্পদ বিভাগে এই পদ এত বেশী খালি রয়েছে যে,জনবল সংকটের কারনে যশোরের ২ টি উপজেলাতে বর্তমানে উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা পদায়ন করা যাচ্ছে না। তারপরও বিষয়টি নিয়ে আমি উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ