ঢাকা, সোমবার 18 December 2017, ৪ পৌষ ১৪২৪, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শুঁটকি মওসুমকে ঘিরে সরগরম দুবলার চরের জেলে পল্লী

খুলনা : শুঁটকি মওসুমকে ঘিরে সুন্দরবনের দুবলার চরের জেলে পল্লী সরগরম হয়ে উঠেছে

খুলনা অফিস : শুঁটকি মওসুমকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের দুবলার চরের জেলে পল্লী। সকাল থেকে রাত অবধি মাছ ধরা, বাছাই, গ্রেডিং ও প্রক্রিয়াকরণে ব্যস্ত সময় পার করছে জেলে ও ব্যবসায়ীরা। তবে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর অনুন্নত প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় মানসম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ভালো মানের শুঁটকি উৎপাদন করা গেলে রফতানি আয় কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সুন্দরবনের মাঝে, বঙ্গোপসাগরের মোহনায়- দুবলার চরসহ সাতটি চরে গত চার দশক ধরে গড়ে উঠেছে দুবলা শুঁটকি পল্লী। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ মাস চালু থাকে শুঁটকি  তৈরীর এই মওসুম। এরই মধ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ২০ হাজার জেলে ও ব্যবসায়ী দুবলা শুঁটকি-পল্লীতে সাগর থেকে ধরা মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুবলা শুঁটকিপল্লী গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। তাই সনাতন পদ্ধতিতে ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে এখানে মানসম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারি সহায়তায় শুঁটকিপল্লীর আধুনিকায়ন হলে গুণগত মানসম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদন ও রফতানি কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করে ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে সাগরের মৎস্য সম্পদ থেকে আয় বাড়াতে দুবলা শুঁটকি পল্লীর আধুনিকায়নের উদ্যোগের কথা জানালেন সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা।
শুঁটকি ব্যবসায়ী সমিতির হিসেবে, সুন্দরবনের দুবলা শুঁটকিপল্লীতে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়। যা দেশে মোট উৎপাদিত শুঁটকির ৮০ শতাংশ।
জেলে ও মহাজন সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও শুঁটকি মওসুমকে ঘিরে এ বছর ১০-১৫ হাজার জেলে ও মৎস্য আহরণকারী জড়ো হয়েছেন সুন্দরবনের দুবলার চর, মেহের আলীর চর, আলোরকোল, অফিসকিল্লা, মাঝেরকিল্লা, শেলার চর ও নারকেলবাড়িয়া চরে। সুন্দরবনের ভেতরে ছয়টি মৎস্য আহরণ, শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নিয়ে এই দুবলা জেলে পল্লি। এখানে জেলেরা নিজেদের থাকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা ও শুঁটকি তৈরির জন্য অস্থায়ী ডিপো ঘর ও মাচা তৈরি করেন। জেলেরা সমুদ্র মোহনায় বিভিন্ন প্রকার জাল দিয়ে মাছ ধরে তা বাছাই করে শুঁটকি তৈরি করেন। পরে সেই শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি বিদেশেও বাজারজাত করা হয়।
পূর্ব সুন্দরবন সদরের এসিএফ (সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা) মো. মেহেদীজ্জামান জানান, দুই কোটি টাকা রাজস্ব আদায় নির্ধারণ করে এবার দুবলার চরে শুঁটকি আহরণে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ছয় হাজার জেলেকে পারমিট দেয়া হয়েছে। জেলেদের মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের জন্য তাদের নিরাপত্তাসহ সব রকম ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এসব জেলেদের জন্য চরে ৮৭০টি জেলে ঘর এবং মহাজনের জন্য ৩৮টি ডিপো ঘরের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২৮ ফিট দৈর্ঘ্য এবং ১২ ফিট প্রস্থ নির্ধারণ করে ঘরের মাপও ঠিক করে দেয়া হয়েছে। এর থেকে বড় ঘর তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মৎস্যজীবীদের বৃহৎ সংগঠন ‘দুবলা ফিশারম্যান’ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও জলদস্যুদের উৎপাতের আতঙ্ক মাথায় নিয়েই উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা সাগরে ছুটছেন। জেলেদের নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, দুবলার চরে অবস্থানরত জেলেরা সুন্দরবনের গাছ দিয়ে ঘর তৈরি বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। গত শুঁটকি মওসুমেও সুন্দরবনের গাছ ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি।
বন বিভাগের খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, পাস-পারমিট ছাড়া জেলে ও মৎস্যজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করলে এবং জেলেদের কাছ থেকে সুন্দরবন বিভাগের কেউ টাকা আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে  দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে চলতি  মওসুমের শুরুতেই নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ