ঢাকা, সোমবার 18 December 2017, ৪ পৌষ ১৪২৪, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বড়াল নদী দখল করে চলছে স্থাপনা নির্মাণ

তাড়াশ: বড়াল নদীর ভিতর স্থাপনা নির্মাণ চলছে

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: রাজশাহীর চারঘাট থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি পর্যন্ত প্রবাহমান বড়াল নদী এখন অবৈধ দখলদারদের কবলে।
চাটমোহরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এই বড়াল। নদীর দু’পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। চাটমোহর নতুন বাজার, পুরাতন বাজার, হরিপুর, জোনাইল এলাকায় বড়াল নদীর পাড় দখল করে প্রভাবশালীরা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে বড়াল নদীর পাড় দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করছেন।
চাটমোহরের পুরাতন বাজারে পৌরসভা কর্তৃক একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। সেটি নদীতে ধসে যাওয়ার পর বাকি অংশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী বাজার।
নতুন-পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল এলাকার নদীর মাঝে বাড়ি নির্মাণ করছেন কয়েকজন স্থানীয় অধিবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর উপর বাড়ি নির্মাণ করছেন হাবিবুর রহমান, সাজেদুল ইসলাম ও হায়দার আলী।
স্থানীয়রা জানান, বড়াল নদী দখল করে তারা বাড়িগুলো নির্মাণ করেছে। বসতবাড়ির মালিক হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন জানায়, নদীর খাস জমির পাড় দখল করে তারা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
বড়াল নদী অবমুক্ত ও রক্ষার দাবিতে ২০০৮ সালে গড়ে ওঠে বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটি। বড়াল পাড়ের মানুষ সম্পৃক্ত হয় এই আন্দোলনে। ২০১৪ সালে বড়াল রক্ষার দাবিতে নদীর ২২০ কিলোমিটার পাড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এই আন্দোলনে সহায়তা করে। বেলার পক্ষ থেকে বড়াল রক্ষায়, নদীর সকল বাঁধ ও সড়ক অপসারণ করার জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে। আদালতের নির্দেশে নদীর ৩টি ক্রসবাঁধ, পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অপসারিত হয়েছে। নির্মাণ হয়েছে ব্রিজ। অথচ বড়াল দখল প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা।
শুধু তাই নয়, নদীর বুকে আবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ফসলের। এ ব্যাপারে বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এসএম মিজানুর রহমান জানান, বড়াল নদী অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করতে নদী বিষয়ক টাস্ক ফোর্স এবং হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট এলাকার ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন। তারাই পদক্ষেপ নিবেন।
বড়ালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি ড্রেজিংও করতে হবে। তিনি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও নতুন করে নদী দখল রোধে অতি দ্রুত প্রশাসনের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ