ঢাকা, সোমবার 18 December 2017, ৪ পৌষ ১৪২৪, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঐতিহাসিক কর্ণফুলী উৎসবে ২৫টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি

চট্টগ্রাম: ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী নদী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে “কর্ণফুলী নদী বাঁচলে চট্টগ্রাম বাঁচবে” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ঐতিহাসিক কর্ণফুলী উৎসব ২০১৭-এ কর্ণফুলী নদীকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে ২৫টি প্রস্তাবণা দ্রুতভাবে সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে ঐতিহাসিক কর্ণফুলী উৎসব সুসম্পন্ন হয়। ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় নেভাল-২ ফিরিঙ্গিবাজারস্থ অভয়মিত্র ঘাটে এই কর্ণফুলী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক ও গ্রন্থপ্রণেতা সোহেল মো.ফখরুদ-দীনের সভাপতিত্বে এই উৎসবে কর্ণফুলী নদী বাঁচানোর তাগিদে: কর্ণফুলী নদী ও চট্টগ্রাম শিরোনামে প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি পটিয়া উপজেলা শাখার প্রাক্তন সভাপতি মাস্টার হাফেজ আহমদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশ গবেষক ও পরিবেশবাদী সংগঠক ড. অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। পরিবেশবাদী সংগঠক ও প্রাবন্ধিক এ কে এম আবু ইউসুফ এর সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ আবদুর রহিম, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নুর হোসেন, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ আবু বক্কর চৌধুরী, অ্যাডভোকেট খায়ের আহমদ, চন্দন দাশ বাপ্পী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুচ কুতুবী, প্রফুল্ল বড়–য়া, মৃধান সরকার, জানে আলম, তাবাস আল করিম, মোহাম্মদ শফি, খায়রুল, প্রতুল্লা মিয়া, নুরুল কাদের, আনু মাঝি, ওবায়দুল কাদের মুবিন প্রমুখ। কর্ণফুলী উৎসবে ২৫টি প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, কর্ণফুলী অতি প্রাচীন একটি নদী। এই নদী মানুষের মঙ্গলজনক কাজে দেশ ও পরিবেশের জন্য অসাধারণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
এই নদীর উপর নির্ভর করে হাজার হাজার কৃষক শ্রমিক মেহনতি মৎস্যজীবী নৌজীবী জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছে হাজার হাজার বছর ধরে। এই নদীকে ধ্বংস করা মানে চট্টগ্রামকে ধ্বংস করা। কর্ণফুলী নদীকে বাঁচিয়ে রাখলে চট্টগ্রাম বাঁচবে। আর চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। লুসাই পাহাড় থেকে গড়িয়ে আসা পাহাড়ি শত মাইল পথ অতিক্রম করে সবুজের অরণ্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, কাপ্তাই, চট্টগ্রাম জেলা, চট্টগ্রাম মহানগর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে এই কর্ণফুলী নদী। সেই কর্ণফুলী নদীর মোহনায় গড়ে উঠেছে পৃথিবীর বিখ্যাত সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। যার আয় দিয়ে বাংলাদেশের সিংহভাগ  উন্নয়ন পরিচালিত হয়। বক্তারা আরো বলেছে, দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি, আজ সেই কর্ণফুলী নদীর প্রাচীন বন্দরও অবহেলিত। কর্ণফুলী নদী রক্ষা হওয়া মানেই চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা হওয়া। বক্তারা কর্ণফুলী নদী রক্ষার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত পৃথিবী বিখ্যাত বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। কর্ণফুলী উৎসবে বক্তারা ২৫টি প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের দাবি জানান। প্রস্তাবনাগুলো কর্ণফুলী নদীর পানি দূষণমুক্ত রাখতে হবে, কর্ণফুলী নদী দখলমুক্ত রাখতে হবে, কর্ণফুলী নদীর অবৈধ ভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, কর্ণফুলী নদীর শাখা নদীগুলো অবৈধ দখলদারের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে, কর্ণফুলী নদীতে ছোট ছোট জেগে উঠা চরগুলো রক্ষা করতে হবে, কর্ণফুলী নদীর মৎস্য প্রজন্ম বাড়িয়ে সামুদ্রিক ও নদীর পানির সাথে বৈজ্ঞানিকসম্মত গবেষণার মাধ্যমে মৎস্য চাষ করতে হবে, কর্ণফুলী নদীতে অবৈধ কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ ফেলে দূষণ রোধ করতে হবে, নদীর নাব্যতা ধ্বংসকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাসহ আইনের আওতায় আনতে হবে, কর্ণফুলী নদীকে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে, কর্ণফুলী নদীর সাথে জীবন নির্বাহে মৎস্যজীবী ও মাঝিমাল্লাদেরকে সরকারি উদ্যোগে সহজশর্তে ঋণ প্রদান করতে হবে, প্রাচীন কর্ণফুলী নদীতে ব্যবহৃত অনেক নৌকা ও সাম্পান এলাকার পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহে নষ্ট হতে চলেছে তা সংরক্ষণ করে জাদুঘরে রাখতে হবে, কর্ণফুলী নদীর দুই ধারে ভাঙনকৃত এলাকায় পাথর স্লেপ বসানোর মাধ্যমে নদীর সৌন্দর্য রক্ষা করতে হবে।
কর্ণফুলী নদীর প্রথম কালুরঘাট সেতু ইতিহাসের স্বার্থে নষ্ট না করে সংরক্ষণ করতে হবে, কালুরঘাট এলাকায় নতুন সেতু নির্মাণ করতে হবে, কর্ণফুলী নদীর পার্শ্ববর্তী দেওয়ান পরগনার ছোট ছোট পাহাড়গুলোকে নদীর ভারসাম্যের জন্য রক্ষা করতে হবে, কর্ণফুলী নদীর উপর স্থানীয় মাঝিমাল্লা ও শিল্পীদের আঞ্চলিক ভাষায় গীতসমূহ সংরক্ষণ করতে হবে, কর্ণফুলী নদীতে পুরাতন কালুরঘাট ব্রিজ থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত নিয়মিত নৌ সার্ভিস চালু করতে হবে। মূলত কর্ণফুলী নদীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারি উদ্যোগে উল্লিখিত প্রস্তাবনাসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সভায় বক্তারা বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দাবি জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ