ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছিনতাইকারীর কবলে মা কোল থেকে পড়ে প্রাণ হারাল শিশু

গতকাল সোমবার রাজধানীর দয়াগঞ্জে ছিনতাইয়ের সময় মায়ের কোল থেকে পড়ে পাঁচ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির নাম আরাফাত -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : এক সন্তানের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে আরেক সন্তানকে হারিয়েছেন শরিয়তপুরের এক মা। আকলিমা নামের ওই নারী গতকাল সোমবার ভোরের দিকে সদরঘাটে নেমে পাঁচ মাসের ছেলে আরাফাতকে কোলে নিয়ে রিকশায় করে যাচ্ছিলেন শনির আখড়ায় বোনের বাসায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নুরুল আমিন জানান, দয়াগঞ্জ রেল লাইনের পূর্ব পাশে এক ছিনতাইকারী টান দিয়ে রিকশারোহী আকলিমার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। চলন্ত রিকশায় ওই হেঁচকা টানে বেসামাল হয়ে পড়েন আকলিমা, তার কোল থেকে পড়ে যায় আরাফাত। শিশুটিকে তখনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছিলেন তার মা। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক আরাফাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
আকলিমা হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলায়। তার স্বামী শাহ আলম এলাকায় কৃষি কাজ করেন। তাদের দুই বছর বয়সী বড় ছেলে আলামিন বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। তাকে ডাক্তার দেখাতেই সকালে তারা চারজন ঢাকায় আসেন। সদরঘাটে নেমে দুই সন্তানকে নিয়ে তারা রিকশায় করে রওনা হন শনির আখড়ায় আকলিমার বোন মাকসুদার বাসায়। পথে তারা ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া বলেন, “শিশুটির মাথা ও নাকে মুখে জখম ছিল। হাসপাতালে আনার পরপরই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ উপ-কমিশনার নুরুল আমিন বলেন, দয়াগঞ্জে ঘটনাস্থলে একাধিক ছিনতাইকারী ছিল বলে তাদের ধারণা। তবে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।
হাতিরঝিল এলাকা থেকে শিশু উদ্ধার :  তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন হাতিরঝিলের একটি ড্রেনের পাশ থেকে এক শিশুকে (১৫ মাস) উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে তাকে উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) ভর্তি করে পুলিশ। বর্তমানে শিশুটি শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আব্দুর রশীদ বলেন, ‘উদ্ধারের পর মেয়ে শিশুটিকে আমরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। শিশুটি প্রতিবন্ধী, রোগা। দেখে মনে হচ্ছে দরিদ্র কোনও পরিবারের। শিশুটিকে রাতে কেউ হাতিরঝিলে রেখে যায়। শিশুটিকে উদ্ধারের পর চিকিৎসা করাই।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ