ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আইনী জটিলতায় আটকে যাচ্ছে রিজার্ভ চুরির টাকা

এইচ এম আকতার: ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে চুরি হওয়া ৮১০ কোটি টাকা ফেরত আনতে এখনও আইনী জটিলতায় আটকে আছে। টাকা ফেরত আনতে ফেডারেল ব্যাংক এবং ফিলিপাইন সহায়তা না করায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে বাংলাদেশ। ফেডারেল ব্যাংক সহায়তা না করলে মামলা করতে পারবে না বাংলাদেশ। মোটা জরিমানা, ব্যবসায়িক ক্ষতি কিংবা দেশে বিদেশে সুনাম নষ্ট হওয়ার পরও বাংলাদেশের চুরি যাওয়া রিজার্ভের টাকা ফেরত দিতে এখনো গড়িমসি করছে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংক। ফলে, অনিশ্চিত হয়ে আছে সে দেশে খোয়া যাওয়া ৬৫ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার বিষয়টি। ফিলিপাইনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ মনে করেন, এমন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে আরসিবিসি।
ম্যানিলার প্রাণকেন্দ্রে যে কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন ভবন রয়েছে তার অন্যতম আরসিবিসি প্লাজা। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম গ্রুপ অব কোম্পানি ইউচেঙ্কোর প্রতিষ্ঠান। কিন্তু, অর্থপাচার কেলেঙ্কারির ঘটনায় নিজ দেশ ফিলিপিনে যেমন মোটা জরিমানা গুণতে হয়েছে, তেমনি সুনাম নষ্ট হয়েছে বিদেশেও। কিন্তু, তারপরও যেন টনক নড়েনি বিলিয়ন ডলারের ওই প্রতিষ্ঠানের। কেননা, দোষী প্রমাণিত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত শক্ত কোনো অবস্থান নেয়নি বাংলাদেশ পক্ষ।
শুরুটা ২০১৬-এর ফেব্রুয়ারিতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে ফেডারেল রিজার্ভের মাধ্যমে ১০১ মিলিয়ন ডলারের প্রদান আদেশ দেয় হ্যাকাররা। ফেডারেল রিজার্ভ তা গ্রহণ করে তিনটি রিটেইল একাউন্টের মাধ্যমে পাঠায় শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপিনে। কিন্তু ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কায় আটকে গেলেও বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার পাচার হয় ফিলিপিনের রিজাল ব্যাংকের মাধ্যমে, চারটি নাম সর্বস্ব একাউন্টে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০ মিলিয়ন জমা হয় জেসি ক্রিস্টোফারের একাউন্টে। সেখান থেকে ২৩ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেয়া হয় অন্যত্র। আর বাকি অর্থ ফিলরেম থেকে পেসোতে ভাঙিয়ে নেয়া হয় উইকাং জু, ইস্টার্ন হাওয়াই এবং সোলায়ার ক্যাসিনোতে। অর্থাৎ পাচারের এই ঘটনা প্রমাণ হওয়ার পরও, বাংলাদেশের পক্ষে এখনো অবস্থান জোরালো হয়নি আরসিবিসির। কিন্তু কেনো?
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচিত ফিলিপিন। দেশটির সিনেট থেকে আদালত, সবখানেই মত ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। কিন্তু তারপরও, রিজাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে নেয়া ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ ছিল কেবল জরিমানাতেই। চাপ তৈরি করা যায়নি, পুরো টাকা বাংলাদেশকে ফেরত দিতে। আর পাচার হওয়া অর্থ কোথায়, কিভাবে আছে তা জানা গেলেও, বছরখানেক পর ফেরত আনা গেছে মাত্র ১৫ মিলিয়ন ডলারের মতো।
এমন বাস্তবতায় আবারো নতুন করে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। আভাস দেয়া হয়েছে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করারও। এই বিষয়ে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংককে এই মামলায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এই মামলায় যুক্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ প্রদর্শন করছে না।
সুইফট পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে এই অর্থ চুরির পরে ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের ব্যাংক একাউন্টে পাঠানোর পরে ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ইন্ডাস্ট্রিতে সেই অর্থ বিলীন হয়ে যায়। প্রায় দুই বছর হয়ে গেলেও এখনো জানা যায়নি এই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে। উত্তর কোরিয়া সংশ্লিষ্ট ল্যাজারাস হ্যাকার গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে রয়েছে বলে অনেক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই বিষয়ে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
সূত্র জানায়,যদি ফেডারেল স্বীকার করে তাদের ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরি হয়েছে তাহলে কেবল মামলা করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য প্রথম বিবৃতি দিয়ে তাদের স্বীকার করতে হবে। তা না হলে মামলা করতে পারবে না বাঙলাদেশ। কারন ফেডারেল ব্যাংক বলছে নিয়ম মেনেই তারা টাকা ছাড় করছে। এখানে কোন চুরির ঘটনা ঘটেনি। হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে বৈধ নিয়মেই টাকা উত্তোলন করেছে। এজন্য তারা কাউকে দায়ী করতে পারবে না।
তাছাড়া এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পরে ফেডারেল ব্যাংক একাধিকবার বিবৃতি দিয়েছিল যে,তাদের ব্যাংক থেকে কোন টাকা চুরি হয়নি। কিংবা কোন হ্যাকিং এ ঘটনা ঘটেনি। তাহলে কিভাবে বাঙলাদেশ ব্যাংক মামলা করবে। এজন্য ফেডারেল ব্যাংকের সহাযতা চেয়েছে বাঙলাদেশ। কিন্তু সেই সহায়তা এখনও পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স নিজস্ব সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও নিউইয়র্ক ফেডের কর্মকর্তারা গত মাসে একটি কনফারেন্স কলে (আরসিবিসি)-র বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে কথা বলে। কনফারেন্স কলে সুইফটের দুই প্রতিনিধিও অংশগ্রহণ করে। এটা নিশ্চিত করে ওই সূত্র যে এই বিষয়ে নিউইয়র্ক ফেডের কাছে প্রস্তাব পাঠাবে। সূত্র জানায়, এখন লক্ষ্য হচ্ছে মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নিউইয়র্কে একটি মামলা দায়ের করা। এই বিষয়ে কাজ অব্যাহত আছে, বাংলাদেশ ব্যাংক খুব দ্রুতই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংককে কিছু (প্রস্তাব) পাঠাবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভ অর্থ পুনরুদ্ধারে ফিলিপাইন সরকার সব ধরনের আইনি সহায়তা দিচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর যদি আমরা চুরি হওয়া সম্পূর্ণ অর্থ উদ্ধার করতে না পারি, তাহলে আরসিবিসি’র বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করবো।
তিনি বলেন, ফিলিপাইনের বিভিন্ন আদালতে এ নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা চলছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সার্বক্ষণিকভাবে এসব মামলার অগ্রগতি মনিটর করছে। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দায়ের করা হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
রয়টার্সের সূত্র জানিয়েছে, অর্থ পুনরুদ্ধারে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে নিউইয়র্কে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আবেদনে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ও সুইফট যৌথ পিটিশনকারী হিসেবে থাকবে। নিউইয়র্ক ফেড ও সুইফট এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের এক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক বহির্ভূত একজন আইনি উপদেষ্টা আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কথাটি কনফারেন্স করের সময় বলেন। ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখবে কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এই যৌথ আইনি উদ্যোগে সম্মতি প্রদান করেনি। এবং ওই কনফারেন্স কলের পরে এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে এই বিষয়ে কোনো কিছু শোনা যায়নি বলে জানিয়েছে সূত্র।
এদিকে আরসিবিসি এই রিজার্ভ চুরির জন্য তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের দায়ী করেছে। ফিলিপাইনের প্রসিকিউটররা সাবেক আরসিবিসি ম্যানেজার ও যেসব ব্যাংকে অর্থ পাঠানো হয়েছে এমন চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু একাউন্টগুলো ভুয়া নামে থাকায় তাদের চিহ্নিত করা যায়নি। আরসিবিসির নথির বরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, ফেব্রুয়ারির ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যখন অর্থ ব্যাংকের একাউন্টে প্রবেশ করে তখন আরসিবিসির প্রধান কার্যালয় থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ অর্থ আটকে রাখার পরামর্শ দেয়া হলেও সেটাতে দেরি করে।
আরসিবিসি রয়টার্সের অনুরোধের পরে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অতীতে তারা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতির কারণে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে তাই তারা কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না। চুরির অর্থ তাদের ব্যাংক থেকে বের হয়ে যাওয়ায় আরসিবিসিকে গত বছর ১ বিলিয়ন পেসো (২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) জরিমানা করে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে বাংলাদেশের আদালত থেকে এই বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এই মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে আমাদের কিছু প্রশ্ন আছে, আমরা এফবিআইয়ের অনুসন্ধান সম্পর্কে জানতে চাই। এফবিআইয়ের মুখপাত্র জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এমন বিষয়ে মন্তব্য করবে না এফবিআই।
যদিও ফিলিপাইনের সিনেট এ ঘটনার তদন্ত আগেই শেষ করেছে। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। চুরি হওয়া অর্থ যে ব্যাংকটিতে প্রবেশ করে ও পরে বের হয়ে ক্যাসিনোয় চলে যায়, বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে সেই রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনে (আরসিবিসি)। জরিমানাও গুনতে হয়েছে ফিলিপাইনের এ ব্যাংকটিকে।
রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে এক বছর ধরে নানা তৎপরতা চালিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। নিউইয়র্ক ফেডসহ সুইফট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সর্বশেষ গত নবেম্বরে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে ফিলিপাইন সফর করে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি তারা বৈঠক করে আরসিবিসির সঙ্গে। এসব সত্ত্বেও চুরি যাওয়া রিজার্ভের ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
 যোগাযোগ করা হলে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্ত করে যেটি সত্য মনে হয়েছে, সেটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছি। এরপর তদন্ত কমিটির আর কোনো দায়দায়িত্ব থাকে না। সরকারকেই জিজ্ঞেস করা উচিত কেন তারা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
মামলাটি আন্তঃদেশীয় হওয়ায় তদন্তে সময় লাগছে বলে জানান তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ আলম। তিনি বলেন, আমরা সঠিক তদন্ত করতে চাই, যাতে কোনো ভুল থাকবে না। কারণ আমাদের এ তদন্তের দিকে বিশ্বের অনেক সংস্তার দৃষ্টি রয়েছে। এ সবকিছু মাথায় রেখেই তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত ২৩ বিদেশী নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে।
এত কিছুর পরেও কি বাঙলাদেশ চুরি হওয়া রিজার্ভ ফিরে পাবে? নাকি আইনী জটিলতায় আটকে যাবে চুরি যাওয়া অর্থ। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে আইনী প্রক্রিয়ায় টাকা ফেরত পেতে হলে সময় লাগবে ১৫-২০ বছর। এত দীর্ঘ সময মামলা পরিচালনায় ব্যয় হবে চুরি হওয়ার টাকার চেয়ে বেশি। এ ব্যাপারে বাঙলাদেশ নিযুক্ত পিলিপাইনের সাবেক রাষ্টদূত জন গোমেজ বলেন, আমাদের কাছে সব ধরনের প্রমান হয়েছে। এই ঘটনায় আরসিবিসি জড়িত। তারা কিভাবে ভুয়া ৬টি একাউন্টের অনুমোধন দেয়। তাদের মাধ্যমেই এই টাকা চুরি হয়েছে। ফেডারেল ব্যাংক সহায়তা করলে এই মামলায় অবশ্যই বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। তবে ফেডারেল ব্যাংক সহায়তা না করলে এ টাকা ফেরত আনা কঠিন হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ