ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউতে বিদেশী আইনজীবী চান বাদী

স্টাফ রিপোর্টার : উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) শুনানিতে বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন পাঠিয়েছে রিটের বাদীপক্ষ। আবেদন হাতে পাওয়ার দশদিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বার কাউন্সিলকে অনুরোধও করেছেন আবেদনকারী।
গতকাল সোমবার রিটের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া ডাকযোগে বার কাউন্সিল চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন করেছেন। পদাধিকার বলে সরকারের এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।
আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানীতে ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি দেয়া হোক। বিদেশী আইনজীবী হিসেবে তিন ভারতীয় আইনজীবীর নাম রয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এই তিন আইনজীবী হলেন-এডভোকেট আগারওয়াল আমবুজ, এডভোকেট আগারওয়াল অনামিকা গুপ্তা ও অধিমোলাম ভেঙ্কটারমন।
পরে একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, যতটুকু জেনেছি রাষ্ট্রপক্ষ (নরকার) দ্রুত এ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করবে। ইতিমধ্যে সরকারের এটর্নি জেনারেলর কার্যালয় রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পেয়েছে। মামলাটি জনগুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আন্তর্জাতিকমানের সংবিধান বিশেষজ্ঞ তিন আইনজীবীর জন্য আবেদন করেছি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তারা এ মামলার বিষয়ে সহযোগিতা করতে সম্মতি দিয়েছেন।
গত ১১ অক্টোবর রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার কথা জানান এটর্নি জেনারেল। এরপর গত ২০ অক্টোবর এটর্নি জেনারেল গণমাধ্যমকে জানান ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের আপিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ১ আগস্ট প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ১০ আগস্ট সাংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, মামলার ফ্যাক্ট অব ইস্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা প্রধান বিচারপতি তার রায়ে বলেছেন। রায়ে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে কটূক্তির পাশাপাশি পর্যবেক্ষণে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তির কারণে হয় নাই’ এমন বক্তব্যকে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে অস্বীকার করার চেষ্টা মত দেয় ক্ষমতাসীনরা। এই নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি করে আল্টিমেটাম দেয়। গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ ছটি শেষ হওয়ার আগেরদিন অসুস্থাতার কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটি নেন। ছটিতে অস্ট্রেলিয়া গেলেও সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে এসে পরে গত ১০ নবেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি।
১৪ সেপ্টেম্বর ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ