ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের জামিন স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মুদ্রাপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা পাঁচ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তিন ভাইকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। আগামী ২১ ডিসেম্বর এ বিষয়ে সরকারের করা লিভ টু আপিলের শুনানি হবে। ওই দিন পর্যন্ত তাদের জামিন স্থগিত করা হয়েছে।
হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে সরকারের করা আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার জজ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী এ আদেশ দেন।
আদালতে সরকার পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আপন জুয়েলার্সের মালিকদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও মুন্সী মুনিরুজ্জামান।
ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু পরে বলেন, তিন মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাইকে দেয়া জামিন ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে চেম্বার জজ আদালত। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করেছে। ২১ ডিসেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হবে।
গত ১৪ ডিসেম্বর তিন মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের জামিন হয় হাইকোর্টে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন দেন।
এর আগে ২২ নবেম্বর আপন জুয়েলার্সের মালিকদের কেন জামিন দেয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় শুরু হলে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী গত মে মাসে দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদকে গ্রেফতার করে। সাফাতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে আপন জুয়েলার্সের অবৈধ লেনদেনের তদন্ত শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দারা।
গত ১২ আগস্ট শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দিলদার আহমেদ ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় পাঁচটি মামলা করে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার এনে এর অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের সঠিক পরিমাণ তারা আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করেনি। এসব মামলায় দিলদার আহমেদের দুই ভাই হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তবে জামিনের সময়সীমা শেষ শেষ হওয়ার পর তারা নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। পরে তিন জনই গত ২৪ অক্টোবর ঢাকার মহানগর আদালতে ভিন্ন ভিন্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
বিচারিক আদালতে জামিন না পেয়ে দিলদার আহমেদ ও তার ভাইয়েরা হাইকোর্টে আবেদন করেন।
আদেশের পর আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, একটি সোনার দোকানকে কেন্দ্র করে শুল্ক আইনে নোটিশ দেয়া হযেছিল, সেখানে চোরাচালানের অভিযোগের কথাও বলা ছিল। সেই নোটিশ বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মামলা করেছে। কিন্তু এটা অর্থ পাচার আইনের বিষয়ই নয়। ব্যবসার সুনাম নষ্ট করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ