ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অর্জনে বৈধপথে বিদেশে কর্মী প্রেরণ নিশ্চিত করার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার : বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, বিকর্ত প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনে পালিত হলো বিশ্ব অভিবাসী দিবস। দিনটি উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় সংসদভবনের সামনে র‌্যালি, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনাসভা এবং পরে একইস্থানে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট লক্ষমাত্রা ১০.৭ অর্জনে বৈধ পথে অভিবাসী কর্মীদের গমন নিশ্চিত করতে হবে। অভিবাসী কর্মীদের বৈধ পথে বিদেশ গমন নিশ্চিত ও মানব পাচার রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে। এছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ে মানব পাচাররোধ এবং বৈধ পথে অভিবাসী কর্মীদের বিদেশ গমনের জন্য সচেতনতামূলক প্রচার/প্রচারণার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশ ফেরত কর্মীদের বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য  বিমানবন্দরে আলাদা কাউন্টার/ডেস্ক স্থাপন প্রয়োজন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রাণালয়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ সেলিম রেজা। পরে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০১৭ উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম। এছাড়াও  আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বায়রার সভাপতি বেনজীর আহমেদ, আইওএম এর ডেপুটি মিশন চীফ আব্দুস সাত্তার, ইউ এন উইমেন-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিস শকো ইশিকাওয়া, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস, এনডিসি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. নমিতা হালদার।
সভাপতির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, এবারের আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে নিরাপদ অভিবাসন যেখানে, টেকসই উন্নয়ন সেখানে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকল্পে বিশ্ব শ্রম বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা আমাদের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনার আলোকে দক্ষ কর্মী তৈরিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। পরে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে সকল প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে দুইজন অভিবাসী কর্মী নারায়নগঞ্জের নার্গিস আক্তার জুই এবং পিরোজপুরের পরিমল বাদল তাদের বিদেশে অবস্থান, সাফল্য ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের ৪টি ক্যাটাগরিতে ৮জন ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক হস্তান্তর করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে মোট ৪টি ক্যাটাগরিতে ১২৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে প্রায় দুই কোটি টাকা শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী কর্মীদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নানা সমস্যার কথা শোনেন এবং তাদের সাথে কথা বলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, এমপি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ অভিবাসী মেলা উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এবারের অভিবাসী মেলায় ৪৫টি সরকারি, আর্থিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও এনজিও, রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহসহ অন্যান্য ৬০টি স্টল অংশগ্রহণ করে।
প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানের শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠনের আয়োজন করা হয়। এর আগে সকাল ০৮.০০ টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা হতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র পর্যন্ত একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. নমিতা হালদার, এনডিসি’র সভাপতিত্বে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চত করা সম্ভব, বিষয়ক একটি বির্তক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি সার্বিক তত্ত্বাবাধনে ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ওভারসীজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি সঞ্চালনা করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ এবং আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়েসেল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরণ কুমার চক্রবর্তী। পরে চিত্রাংকন, রচনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও অভিবাসী মেলায় নির্বাচিত সেরা স্টলের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ