ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাথরঘাটায় মসজিদের ইমামের রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার এক মসজিদের ইমামের রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকার তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের কালীবাড়ি গ্রামে এক মাহফিলে বক্তব্য দেয়ার সময় মাইক্রোফোনে বিস্ফোরণ ঘটলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইমাম সগীর মল্লিক পাথরঘাটার নিজলাঠিমারা গ্রামের মোঃ দেলোয়ার হোসেন মল্লিকের ছেলে। তিনি স্থানীয় সংগ্রাম মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে নামাজ পড়াতেন। প্রতি শুক্রবার তার বয়ান শুনতে মসজিদে মুসুল্লিদের ভীড় হতো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এভাবে মাইক্রোফোন (স্থানীয় ভাষায় মাইক) বিস্ফোরণের ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি। আর এর ভেতরে কি এমন ছিল যে এত বড় বিস্ফোরণ ঘটলো এবং ঘটনাস্থলেই ইমাম সাহেবের মৃত্যু হলো।
স্থানীয়রা জানান, মাওলানা সগীর মল্লিক কুরআন শরীফের বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করতেন এবং সমসাময়িক সময়ের সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করতেন। তিনি পীর-মুরিদ প্রথার বিভিন্ন বাড়াবাড়িরও সমালোচনা করতেন। এসব কারণে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদসহ অনেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ওই দিন মাইক বিস্ফোরণে ছগির মাওলানার গলা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান বিশেষ করে শরীরের ডান অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রাশেদ নামে স্থানীয় একজন জানান, মাইকে এভাবে বিস্ফোরণ ঘটলো কিভাবে? আর যেভাবে তার শরীর পুড়ে গেছে তা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।
নিহত ছগির মল্লিকের ছোট ভাই টিপু মল্লিক অভিযোগ করেন, বিস্ফোরণের পর তার ভাই মুমূর্ষু অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিলেন। তাকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে যেতে দেয়া হয়নি। এমনকি থানা সদর থেকে অ্যাম্বুলেন্স গেলে সেই অ্যাম্বুলেন্সেও বেশ কিছুক্ষণ মুমূর্ষু ছগির মল্লিককে উঠাতে দেয়নি তারা। টিপু মল্লিক আরো অভিযোগ করেন, মনে হচ্ছিল স্থানীয় ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অপেক্ষা করছিলেন যাতে তার ভাইয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে লাশ প্রথমে পাথরঘাটা থানা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে বরগুনা জেলায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং জেলার জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত করা হয়।
অপর এক সূত্রে অবশ্য জানা যায়, যে মাইকে ছগির মল্লিক বয়ান করছিলেন সেটির স্পিকার একটি বাঁশের সাথে বাঁধা ছিল। সেই বাঁশটি পাশের বিদ্যুতের তারের ওপর গিয়ে পড়লে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন নিহতের ভাই টিপু মল্লিক। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পেয়েছেন তার ভাইয়ের কাছে মাটিতে অনেকখানি জায়গায় প্লাস্টিকের বস্তা ছড়ানো রয়েছে। তবে, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ