ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তোমাকেই প্রয়োজন হে রাসূল (সা:)

মাকসুদা সাকি : একটা সুন্দর সকাল, ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফজর পড়লেন, কুরআন পড়লেন, মর্নিং ওয়াক শেষে দৈনিক পত্রিকা নিয়ে বসলেন, ব্যস এই পর্যন্ত.....। প্রতিদিনের মত আজও বাদ যায়নি ধর্ষণ, খুন, লুণ্ঠন, প্রতারণা, চিরন্তন দ্বন্দ্ব, কলহ, বিবাদ....। আর আন্তর্জাতিক নজর দিলে,  ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, কাশ্মীর... জন্তু জানোয়ারের মত শেষ করা হচ্ছে মুসলিমদের....
এই যখন পত্রিকার অবস্থা তখন আপনার বাস্তব জীবন কেমন চলছে? নিত্যদিনের বাজার কি আপনার সাধ্যের মধ্যে? আপনি আপনার শিশু কিংবা কিশোরী কন্যাকে স্কুলে কিংবা তরুণী কন্যাকে ভার্সিটিতে পাঠিয়ে নিরাপদ মনে করেন তো? আপনার ব্যবসা কিংবা চাকরি ঠিকমত চলছে তো? ঠিক এমন অনেক হাজারো প্রশ্নের উত্তর কি আপনার কাছে আছে?.....  মুসলমানের রাজত্বে জোর যার মুল্লুক তার এ নীতিতেই বন্দী আমি আপনি। তাহলে এটা কি মনুষ্যজীবন? আমরা না সৃষ্টির সেরা আশরাফুল মাখলুকাত? তাহলে এ দুদর্শা,  অবক্ষয় কেন? প্রকৃত শিক্ষা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতাবোধ পরিত্যক্ত কেন? জৈবিক ও দৈহিক প্রবৃত্তি এবং পার্থিব ও ইহজাগতিক নেশায় আজ সবাই উন্মাদ কেন?
আমরা কি এই উন্মাদনায় গা ভাষিয়ে দিব?
প্রকৃতসত্য হচ্ছে আমরা আশরাফুল মাখলুকাত, আমরা বাস্তব পরিবেশ - পরিস্থিতির কাছে হাত জোর করে আত্মসমর্পন করতে পারিনা। আর এই শিক্ষা আমরা বহু পূর্বেই একজন প্রকৃত মানব ত্রাতার কাছ থেকে পেয়ে গেছি।যিনি এই ভংগুর নিষ্ঠুর সমাজ কে অনন্য সুন্দর কাঠামো আর অতি মজবুত বুনিয়াদের উপর দাড় করিয়েছিলেন। হ্যাঁ, সেই সোনালী যুগ অনেক প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে মানব সভ্যতায় রেখে গেছে অফুরন্ত অবদান। মানবতার নব অভিযানে সে সব ই অমূল্য পাথেয় আর সেই মানবত্রাতা মহামানব ই একমাত্র আদর্শ। আজ এই অসময়ে তাঁর দেখানো পথই একমাত্র অবলম্বন।
এমন এক সময় ছিল দুনিয়ার বুকে ১৪ শত বছর আগে, তখনকার অবস্থা গুলো ছিলো-
১. আল্লাহ্ কে বাদ দিয়ে অনেক দেব দেবীর পূজা।
২. দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার।
৩. ছোটখাট বিষয়কে কেন্দ্র করে দাংগা, হাংগামা রক্তারক্তি।
৪. নারী জাতি ছিল সবচেয়ে অবহেলিত ও নিগৃহীত।
৫. শ্রমজীবীরা ছিল চরম অবহেলিত।পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট ছিল জীবন।
৬. চুরি-ডাকাতি, হত্যা,  লুণ্ঠন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
৭. মদপান, ব্যাভিচার, অশ্লীলতার ছিল ব্যাপক প্রচলন।
৮. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ছিল সুদ, জুয়া, লটারী।
৯. আইনের শাসনের অনুপস্থিতি ও ন্যায়বিচার ছিল না।
আমরা একটু যদি মিলিয়ে নেই তবে কি আমাদের বর্তমান অধপতিত সমাজের সাথে পুরোপুরি মিলে যায় না? অবশ্যই মিলে যায়। সেই অন্ধকারে নিমজ্জিত সমাজের জন্য উজ্জল আলো হয়ে এসেছিলেন রাসূল মুহম্মদ (সা:)। যার ছোয়ায় শত সহস্র বছরের অনাচার,  অশান্তির অবসান ঘটে প্রতিষ্ঠিত হয় সুস্থ সুন্দর মানবিক সমাজ। আর এর পেছনে যে আশ্চর্যজনক ঘটনা সেটি হলো রাসূল (সা:) মসজিদ থেকে বাজার, বিদ্যালয় থেকে আদালত, গৃহ থেকে রনাংগন সব জায়গাকেই মহান প্রভু আল্লাহ্ তায়ালার রং এ রঞ্জিত করে দিয়েছিলেন। আর তার ফলে বদলে গেল মানুষের মন-মগজ, চিন্তাধারা পাল্টে গেল, রীতিপ্রথা ও অভ্যাস পরিবর্তিত হলো, অধিকার ও কর্তব্যের নীতি পাল্টে গেলো, ন্যয় ও অন্যায়ের, হালাল ও হারামের মানদন্ড বদলে গেলো, আইন ও সংবিধানের পরিবর্তন ঘটল। মোটকথা এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত কোথাও কল্যান ও মংগল ছাড়া অন্য কিছুই চোখে পরেনা।
প্রকৃতপক্ষে মহানবীর হাতে সাধিত হয়েছিল মানবজাতির সর্বাত্মক পুনোরুত্থান ও পুনোরুজ্জীবন। হ্যাঁ, ঠিক সে কারনেই আজকের বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বের জন্য প্রয়োজন রাসুল (সা:) কে। কোনো দ্বিধা-সংকোচ বিভ্রান্তি - বিতর্ক  নয়, মানবজাতিকে আজ সত্যান্বেষনে ব্যাপৃত হয়ে সত্যকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে ব্যক্তিজীবন ও সামষ্ঠিক জীবন তথা মানব কল্যানমুখী শাশ্বত সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় একমাত্র রাসুল (সা:) এর আদর্শকেই অনুসরণ ও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।আর এজন্য যে পদক্ষেপগুলো নিতে হবে -
১. লা-শরীক আল্লাহর উপর ঈমান আনা ও সামগ্রিক জীবন এর ভিত্তিতেই পরিচালনা।
২. সমগ্র মানবজাতি আদমের সন্তান। আর প্রত্যেকে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বে সমান এই ভিত্তিতেই ভাই ভাই সমাজ প্রতিষ্ঠা।
৩. নারীর সঠিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। (ভোগের পন্য না বানিয়ে সঠিক মর্যাদার জন্য পর্দা ব্যাপক প্রচলন ও অশ্লীলতার মূলোৎপাটন)
৪. শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন করা।
৫. চুরি, ডাকাতি, জুলুম, শোষন, হত্যা  দমনে কঠোর আইনের যথাযথ প্রয়োগ।
৬. মদ্যপান, ব্যভিচার, অশ্লীলতা নৈতিকতা বিরোধী সকল কাজ রহিতকরন।
৭. মৌলিক মানবিক অধিকার,  ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা।
৮. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুদ ঘুষ, জুয়া, মজুতদারী, মুনাফাখোরী বন্ধ করা।
৯. আখিরাতের প্রতি অবিচল বিশ্বাস।
এটা অবশ্যই ঠিক যে হঠাৎ ই কোনো কিছুর আমুল পরিবর্তন সম্ভব হয় না, এবং প্রিয় রাসূল সাঃ ও একদিনেই সমাজকে পাল্টে দেন নি। শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য রাসূল (সা:) দীর্ঘ তেইশ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, কঠোর আত্মত্যাগ,  দুঃখ-কষ্ট -জুলুম-নির্যাতন ভোগ করে বিজয়ের শিখরে উপনীত হয়েছেন। অতি নিষ্ঠার সাথে ক্রমাগত ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন দ্বার থেকে দ্বারে। তৌহিদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে গড়ে তুলেছেন সুসংবদ্ধ সমাজ। আর এভাবেই দূর হয়েছিল অন্যায় অনাচারের নিকষ কালিমা।আর তাইতো যুগে যুগে সকল মনীষীরা খুজে গিয়েছেন রাসুলের আদর্শ। অন্য ধর্মের গুণী ব্যক্তিরাও স্বীকার করে নিয়েছেন বিশ্বের মহামানব কে। বার্নার্ড ’শ বিশ্বাস করতেন,  মহানবী (সা:) বর্তমান বিশ্বের একনায়কত্ব পেলে বিশ্ব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।
সত্য সব সময়ই চিরন্তন। রাসূল (সা:) এর অনুসৃত জীবন এবং তাঁর প্রদর্শিত পথই আমাদের জন্য একান্ত ও একমাত্র পথ, এই পথেই রয়েছে প্রকৃত কল্যাণ। আর তাই আজ শুধু রাসূল সাঃ কেই একান্ত প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ