ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

আরেকটি বিজয় চাই
সুরাইয়া নাজনীন বুশরা

আরেকটি বিজয় চাই-
যে বিজয় হবে সত্য ও ন্যায়ের বিজয়
যে বিজয় হবে সামনে এগিয়ে চলার পাথেয়।
পিছিয়ে পড়ার নয়!
যে বিজয় আনবে নব বার্তা।
যে বিজয়ে নব সৃষ্টির আনন্দে-
হবে সকলে আত্মহারা
বিলীন হবে স্রষ্টাপ্রেমে।
যে বিজয় আনবে হাসি
প্রতিটি ঘরে, দেশের প্রতিটি কোণে।
যে বিজয় সব কালিমা ধুয়ে
পৃথিবীকে করবে সাফ।
যে বিজয় বুঝবে বঞ্চিতের ব্যথা
গাইবে মানবতার গান।
সেই বিজয় চাই!
যে বিজয় আনবে শান্তি ও সমৃদ্ধি
শ্যামলে ভরা দেশ।
সেই বিজয় চাই গো আমি
আরেকটি বিজয় চাই-
কোন সে বিজয়?
আরো একটি মক্কা বিজয়।।


আজ তুমি নিশ্চুপ কেন?
লামিয়া তানজীম লিমু

আজ তুমি নিশ্চুপ কেন?
বলবে না কিছু?
যখন তোমার বুক,
রক্তিম সার দিয়ে করেছিল উর্বর,
ছিলেনা তো সেদিন নিচু।
সেদিন তো লেলিয়ে দিয়েছিলে,
লাশ হয়ে ফিরতে।
তবে আজ কেন নির্বাক,
বলো, বলো??
আজতো কারোর কানে,
কিংবা মনের অন্তরালে,
আঁকোনা ছবি ঝলমল?
যে ছবি নিয়ে তোমার জন্য,
পারবে আবার লড়তে।
ও! পেয়ে গেছো বিজয় নামখানি
এই তো চেয়েছিলে তাই না!
বড্ড স্বার্থপর তুমি তাই,
নিজের স্বার্থ লুটিয়ে
ঘুমিয়ে আছো আনমনা!
কিন্তু আমি যে নির্ঘুম,
শুধু পাই আঁধারের ক্ষোপ দেখতে।
মৃত্যু আর নিপীড়নের সাক্ষী
আর কত থাকবো?
তোমার পরে বন্দন ঝরে কার,
শুনেছো? বুঝেছো আছো আগ্রাসনে?
তবুও বিজয়ী বিজয়ী জপ?
না, কিছুই পারছো না বুঝতে,
সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরে,
তোমার কাছে এসেছি।
ভেবেছিলাম তুমি পারবে,
তোমার ভালোবাসা বিছিয়ে,
সত্যি বিজয় করতে দেশই।
কিন্তু তুমিও হার মানলে,
বিজয় নামে নয় বাস্তবে আনতে...


উদাত্ত আহ্বান
মানছুরা আল আজাদ

মানবতা ফিরে এসো,
দু’হাত আজ বড় ক্লান্ত,
তোমার আজ এই আঙ্গিনায় প্রয়োজন বেশ,
রমরমা তেজারতির বিষাক্ত পরিবেশ।
মানবতা আজ বিষাক্ত কীট,
মানবতা আজ নীরব বিধ্বংসী,
মানবতা আজ রুদ্ধদ্বারে বন্দী।
হে স্বার্থপর মানবতা!
তুমি শুধু কবির কবিতায়,
লেখকের লেখায় ভাড়াটে নট।
তুমি কেন মানুষের হৃদয় ছুয়ে দেখো না,
তুমি কেন শুধু লিপিবদ্ধ থাকো মলাটেই?
তুমি কেন মানবতাবাদীর থিসিস পেপারে বন্দী?
মানুষের চোখের জল কেন তোমাকে সিক্ত করে না?
কেন কড়াপড়া ঘর্মাক্ত শ্রমজীবীকে আশ্রয় দিলে না?
যে শান্তির বাহন শুরু হয়েছিলো পবিত্র নগর থেকে
সে নগর আজ তোমার কারণে লজ্জিত।
চারদিকে রক্তচক্ষু গুলো তোমার কারনে উজ্জীবিত হয়েছে,
হে মানবতা!
তুমি বড় পুঁজিবাদ হয়ে উঠেছো,
সমাজতন্ত্রী দেয়ালে মুখরোচক হয়ে থাকো।
মিলনায়তনে রোজ সভা,
ব্যানারে,
উগ্র মানবতাদের চিৎকারে তুমি শোভা পাও,
রাতের খোলা আকাশে উদ্ধাস্ত শিশুর আয়েশি চাদর হও।
ঝিরঝির বৃষ্টির ধোয়ায় নিয়ে এসে দাও রক্তের ফাগুন,
চক্ষুগুলো ঝাপসা করতে তোমার ভূমিকা অপরিসীম,
হীরার মূল্য গুলো তোমার কাছে বড্ড সস্তা,
সেগুলো সচরাচর বাঁশ ঝাড়ে আবৃত রাখো।
হে মানবতা!
এই দুনিয়াই তোমার মৃতকায়ার দাফন সম্পন্ন,
গোরস্তানে আবাস।
তবু এই মানবতার দিনে আহ্বান থাকবে-
শুধু ঝরা-খরা মুছে ফিরে এসো,
ফিরে এসো এই আঙ্গিনায়।


“বিজয় স্বাধীনতা”
আফসানা মিমি

জান কি ?
এ ধরার দুর্লভ কি?
শৃঙ্খল মুক্তি, স্বাধীনতা
ঠিক, ঠিক ইহাই দুর্লভ, জটিতা
জান কি ?
স্বাধীনতা কি ?
স্বাধীনতা হলো সাহসী জাতির অনিবার্য পরণতি
স্বাধীনতা হলো ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি
জান কি ?
বাঙালীর ইতিহাস, কি?
ইতিহাস হলো নবাব সিরাজ, শরীয়তউল্লাহ, তিতুমীর
ইতিহাস হলো ক্ষুদিরাম বসু, প্রীতিলতা, ভাসানীর
জান কি?
বাঙালীর অর্জন কি?
অর্জন হলো ভাব প্রকাশে আমি তুমি,

অর্জন হলো সবুজে ঢাকা প্রাণের ছোট্ট ভূমি
জান কি?
আমরা বিজয়ি কি?
হ্যাঁ হ্যাঁ আমরাই বিজয় করেছি স্বাধীনতা
রুখে দিয়েছি, ঘুচে দিয়েছি বধির মানবতা
হঠিয়ে দিয়েছি, ভেঙে দিয়েছি রাঙা হাত ওদের
ভুলবে না ওরা, ভুলবে না কেহ, ইতিহাস ১৬ই ডিসেম্বরের!!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ