ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেসিসির তেল চুরির  ঘটনায় তোলপাড়

 

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) কর্তৃক বরাদ্দকৃত জ্বালানি তেলে চলছে একটি ট্যুরিস্ট প্রতিষ্ঠানের নৌযান (লঞ্চ)। সিটি কর্পোরেশনের যান্ত্রিক (যানবাহন) ও কঞ্জারভেন্সি বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসেই কেসিসির তেল (ডিও) হাতবদল হয়ে বিক্রি হচ্ছে বহিরাগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে। এ খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে নগরভবনে। দফায় দফায় বৈঠক হলেও কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। তবে সঠিক প্রমাণ সাপেক্ষে এসব দুর্নীতিবাজদের ধরতে মরিয়া খোদ মেয়র বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানান। দু’জনের বিরুদ্ধে নোট শিট দিয়েছে এক কর্মকর্তা। তবে মেয়রের সাথে একাধিকবার বৈঠক হলেও তিনি দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেননি বলে ওই সূত্রটি জানান। তবে এ চক্রের অন্যতম হোতা মাস্টাররোল শ্রমিক হলেও নিজেকে প্রকৌশলী পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। ওই দুর্নীতিবাজ নিজেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ করে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির (কনজারভেন্সী বিভাগ) চেয়ারম্যান ও ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, তেল চুরির ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হালিমকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্তটিম গঠন করা হয়েছে। হাতেনাতে ধরার পরও কেন কোন ব্যবস্থা নেয়া হলো না। 

এ ব্যাপারে তিনি জানান, কারোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হলে একটি তদন্ত রিপোর্ট দরকার হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ দু’জনকে দায়ি করে নোট শিট দিয়েছেন। তারা হলো কনজারভেন্সী সহকারী ওমর ফারুখ এবং নাজমুল হক। তিনি বলেন, নাজমুল দীর্ঘদিন এ শাখা থেকে অন্যত্র কাজ করছে। তারপরও তাকে জড়িয়ে মূল অপরাধীদের আড়াল করতে এ নোট শিট দেয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ওমর ফারুক অপরাধী এটা ঠিক আছে। কিন্তু নির্দোষ নাজমুলের বিরুদ্ধে নোটশিট দেয়া কোনভাবেই ঠিক হয়নি বলে এ প্রতিনিধি মনে করেন।

কেসিসির সচিব মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ একটি নোট শিট জমা দিয়েছেন।

কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল হালিম বলেন, বিভিন্ন পক্ষের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসেই কেসিসির বরাদ্দকৃত তেল পাচার হচ্ছিল। ‘নিউ রেইনবো ট্যুরস’ কর্তৃক পাম্প থেকে নেয়া তিনশ’ লিটার তেলের স্বপক্ষে কোন প্রমাণ দেখাতে না পারায় তা জব্দ করা হয়েছে।

কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তাদের পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ