ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সোনাডাঙ্গায় দু’টি প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস হচ্ছে এক সাথে : পাঠদান ব্যাহত

খুলনা অফিস: খুলনার মহানগরীর নিউমার্কেট এলাকায় সোনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত। এ কারণে সোনাডাঙ্গা থানাধীন ময়লাপোতা এলাকায় আবুবক্কর খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই ক্লাস হচ্ছে একই সাথে। মাত্র ৪টি ক্লাস রুমে দু’টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে দু’বছর ধরে। তবে শিক্ষকদের গাফিলতিতে কোন ক্লাসই ঠিকমত হয় না এখানে। হ-য-ব-র-ল এর মধ্যে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে নিয়ে যাওয়াতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমেছে। অভিভাবকরা বলছেন বস্তি এলাকার স্কুল হওয়ায় চোখের সামনেই দু’টি স্কুল ধ্বংস হয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ রয়েছে নির্বিকার।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থিত সোনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হয় ২০১৫ সালে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে থানা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে সোনাডাঙ্গা ময়লাপোতায় কেসিসি’র জায়গায় অবস্থিত আবুবক্কর খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (জাতীয়করণকৃত) দু’টি স্কুলেরই ক্লাস শুরু হয়। স্কুলে মোট ক্লাস রুম রয়েছে ৪টি প্রি-প্লে থেকে ৫ম শ্রেণি ৬টি ক্লাসের কার্যক্রম চলতো দু’টি ধাপে। এখনও চলে তবে কোন বিষয়ের পিরিয়ড নেয়া হয় ৩০ মিনিট আবার কোনটি ১৫ মিনিট। সকাল পৌনে ৮টায় শুরু হয়ে পৌনে ১২টায় শেষ হয় আবু বক্করখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এ স্কুলে প্রধান শিক্ষকসহ মোট চারজন শিক্ষক আছে। স্কুলের অপর একটি রুম পরিত্যক্ত হওয়ায় তা স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দিয়ে স্কুলের বিদ্যুৎ বিল ও আয়ার বেতন প্রদান করা হয়। তবে এটার কোন লিখিত আদেশ বা ভাড়ার কোন লিখিত চুক্তিপত্র নেই বলে জানিয়েছেন মো. ইউসুফ আলী। বিদ্যালয়ের সভাপতি সব বিষয় জানেন এবং তিনি বিষয়টি দেখভাল করে বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।
দুপুর ১২টার পরে শুরু হয় সোনাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণির কার্যক্রম। স্কুলটিতে শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন থাকলেও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন তিনজন শিক্ষক। বিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার অনুযায়ী ২০১৫ সালে ২৩০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ১৩৪ জন, যার বেশিরভাগই অনিয়মিত। প্রতিদিনের ক্লাসে ৩০ থেকে ৪০ জনের বেশি স্কুলে আসে না।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও ২টার পরে অন্তত ৪ দিন গিয়ে কোন ক্লাসে কোন শিক্ষককে দেখা যায়নি। সব মিলে ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী মাঠে ও ক্লাসে খেলাধুলা করতে দেখা গেছে। শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ লাইব্রেরিতে তখন অবস্থান করলেও সকল শিক্ষক নিয়মিত আসেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা বলেছেন, সকালের স্কুলে কোন রকম ক্লাস চললেও বিকালের স্কুলে ছাত্রছাত্রীও নেই স্যাররাও ঠিকমত আসেনা। এভাবে চলতে থাকলে। আগামী সেশনে একটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে।
প্রধান শিক্ষক সন্ধ্যা রাণী বলেছেন, কিছুদিন সমাপনী পরীক্ষায় সকল শিক্ষককের দায়িত্ব থাকায় ঠিকমত ক্লাস নেয়া সম্ভব হয়নি। এখন থেকে আবার নিয়মিত ক্লাস নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা অর্ধেকে নামার প্রশ্নে তিনি বলেন, পাশে আরও একটি স্কুল হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেখানে চলে গেছে। তবে আমাদের নিজস্ব স্কুলে আসতে পারলে আবার শিক্ষার্থী বাড়ানো সম্ভব হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রামেন্দ্রাথ পোদ্দার বলেন, জায়গা না থাকায় জরুরি ব্যবস্থা হিসাবে সেখানে ক্লাস পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে অবশ্যই সুষ্ঠুভাবে নিয়মিত ক্লাস নিতে হবে। ক্লাসে ফাঁকি সহ্য করা হবে না। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ