ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় গরুর খামার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে লাভজনক ঘাসের আবাদ

এফ,এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা জেলায় দিন দিন বাড়ছে গরুর খামার। খামার বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিেেয় বাড়ছে গো খাদ্যর চাহিদা। বৃদ্ধি পাচ্ছে নেপিয়ার ও পাকচং-১ ঘাসের চাষ। বাড়তি লাভের আশাই অনেক চাষি গম, ভুট্টার আবাদের পাশাপাশি গো খাদ্য হিসাবে ঘাসের চাষ করে বাজারে বিক্রি করছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণীস¤পদ অফিস সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় গত বছর ঘাসের চাষ হয়েছিল ১২ একর জমিতে। চলতি বছরে এই ঘাসের আবাদ বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ১৫ একর ৭৯ শতক। গরুর আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বাড়ছে ঘাসের চাহিদা। এই জেলায় ৪১৭টি রেজিষ্ট্রেশন ভুক্ত গরুর খামার রয়েছে। এছাড়াও ছোট বড় বেশ কিছু খামার গড়ে উঠা ছাড়াও গ্রাম গঞ্জে প্রায়ই বাড়িতে শুরু হয়েছে গরু মোটাতাজা করন। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ঘাসের হাট চালু হয়েছে। ঐ সকল হাটে মেলে বিভিন্ন ধরনের ঘাস। এ ছাড়াও গ্রামে গ্রামে ফেরী করে বিক্রি হচ্ছে ঘাস। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জেলায় ১৫ একর ৭৯ শতক জমিতে নেপিয়ার ঘাসের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ৩ একর ৮০ শতাংশ,আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১ একর ৭৫ শতাংশ,দামুড়হুদায় ১ একর ৯৪ শতাংশ ও সবচেয়ে জীবননগর উপজেলায় ৮একর ৩০ শতাংশ জমিতে ঘাস চাষ হয়েছে। পাকচং ঘাসের আবাদ ইতিপূর্বে চুয়াডাঙ্গা জেলায় শুরুনা হলেও কয়েক জন খামারি সামান্য পরিমান জমিতে এই নুতন ঘাসের চাষ করেছে।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সদরের মাদরাসা পাড়ার মাহামুদ হাসান মাসুদের একটি ছোট গরুর খামার রয়েছে। এই খামারে রয়েছে ছোট বড় ৮টি গরু। এই গরুর জন্য সে ২৩ কাঠা জমিতে পাকচং -১ জাতের ঘাসে আবাদ করেছে। মাসুদ জানায়, তার বাড়ীতে টিনের সেড দিয়ে ৩ বছর আগে গরুর চাষ শুরু করে। বর্তমানে তার ৩টি গাভি,২টি ছোট এড়ে বাছুর ও ৩টি ষাড় গরু রয়েছে। সে গরু গুলোকে প্রতিদিন ৫ কেজি শুকনা খড় (বিচালি) ও ২০ কেজির উদ্ধে পাকচং-১ জাতের ঘাস খাওয়ায়। এতে তার গরুগুলো ভালো হিষ্টো পুষ্ট হয়েছে। তবে সে কোন সময় গরুর মোটা তাজা করনের জন্য ভ্যাকসিন বা কোন রকম ওষুধ খাওয়ায় না। ২টা গাভী গরু প্রতিটি গাভী ১৭ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত দুধ দিয়ে থাকে।জেলায় গরুর খামার ও গ্রাম গঞ্জে বাড়ি বাড়ি গরু মোটা তাজাকরণ শুরু হওয়ায় ঘাসের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও অনেকে ক্ষেতের ফসল গম,ভুট্টা,ভুরো বুনে অধিক লাভের ফলে গো খাদ্য হিসাবে বিক্রি করছে। ঘাষের চাহিদা বাড়ায় জেলা সদরসহ দামুড়হুদা, জীবননগর, আলমডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে ঘাসের হাট বসেছে।এসকল হাট সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে। এই সকল হাটে ভোর থেকে বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ থেকে ব্যবসায়ীরা স্যালোইজ্ঞিন চালিত আলমসাধু, করিমন, ব্যাটারী চালিত পাখিভ্যান যোগে বিভিন্ন ধরনের ঘাস এনে হাটে জড়ো করে। ক্রেতারা ঐ সকল হাট থেকে নিজেদের চাহিদা মত পছন্দের ঘাস ১৫/২০ টাকা আটি দরে কিনে নিয়ে যায়।
জেলার দামুড়হুদা উপজেলা প্রানী স¤পদ অফিসার ডাঃ মশিউর রহমান জানান, জেলায় গরুর খামার ও গ্রাম-গঞ্জে প্রায় বাড়ী বাড়ী গরু মোটা তাজা করন শুরু হওয়ায় ঘাসের চাহিদা ও বেড়েছে। সাথে সাথে বাড়ছে ঘাসের চাষ। দীর্ঘ দিন ধরে এই এলাকায় নেপিয়ার ঘাসের আবাদ হলেও সম্প্রতি থাইল্যান্ড থেকে আমদানী কৃত পাকচং ঘাসের আবাদ শুরু হয়েছে। নেপিয়ার ঘাস সাধারনত উচু জমিতে হয়ে থাকে। এই ঘাস বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে শক্ত হতে থাকে। নেপিয়ার ঘাস ছোট অবস্থায় গরুর খাওয়ানো যায় বড় হয়ে গেলে গরুর খাওয়া সমস্যা হয়। এই ঘাসে মাটি বিশেষ ৮ থেকে ১২ % প্রোটিন থাকে অপর দিকে পাকচং ঘাস সাধারনতঃ উচু নিচু সকল জমিতে ভালো হয়। এই ঘাষের মেয়াদ কাল ৬ থেকে ৭ বছর হয়ে থাকে। পাকচং ঘাসে মাটি বিশেষ প্রটিন থাকে ১৮ থেকে ২৪%।এই ঘাস সাধারনতঃ নরম থাকে,এতে করে ঘাসের বয়স বেশি হলেও শক্ত হয়না। এ কারনে গরুর খাওয়াতে ও কোন ঝামেলা হয়না। পরিমান মত এই ঘাস খাওয়ালে গরুর সহজেই মোটা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ