ঢাকা, মঙ্গলবার 19 December 2017, ৫ পৌষ ১৪২৪, ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শ্বশুরবাড়িতে আগুনে ঝলসে গেল জাহিদ

খুলনা অফিস : শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর কাছে জ্যাকেট ও কোট দিতে গিয়ে আগুনে ঝলসে গেছে স্বামী জাহিদ হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তি। ওই বাড়িতে থাকা অবস্থায় তাকে পেছন থেকে কেউ বোতলে থাকা দাহ্য পদার্থ ছুঁড়ে মেরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনই বক্তব্য জাহিদের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার শরীরের ৮০-৯০ শতাংশ আগুনে ঝলসে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হাওয়ায় তাকে ঢাকা বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা বার্ন ইউনিটে আইসিসিইউতে ভর্তি রয়েছেন তিনি। এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ রয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য জাহিদের স্ত্রী রুম্মান খুমেক হাসপাতালে ভর্তির সময় জরুরি বিভাগে বলেন, তার স্বামী গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়ে আগুনে পুড়ে যান। তার হাতও আগুনে পুড়ে যায় বলে দাবি স্ত্রীর। এ ঘটনায় রুম্মানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর বাগমারা বাই সোবহান লেন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাতে যখন জাহিদকে তার স্ত্রী উম্মে রুম্মান ভর্তি করাতে আসে তখন সে বলে, গ্যাস সিলিন্ডার বার্স্ট হয়ে তার স্বামীর গায়ে আগুন ধরে যায়। এই কথা বলে বার্ন ইউনিটে রাত পৌনে ৮টার দিকে ভর্তি করা হয়। উম্মে রুম্মানের বড় বোন পারভিন আক্তার রোববার সকালে প্রিজন সেলের সামনে তার বোনকে দেখতে আসলে ঘটনার বিষয়ে বলেন, গত ৬ ডিসেম্বর তার বোন উম্মে রুম্মান তার স্বামী জাহিদকে তালাক প্রদান করেন। শনিবারের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই দিন সন্ধ্যায় জাহিদ তার বাপের বাড়িতে যায়। তিনি জানতে পারেন ওই সময় তার বোন রুম্মান ছাড়া আর কেউ ছিল না। জাহিদ কাপড় থাকা ব্যাগ ঘরের মধ্যে রাখেন এবং তার বোনকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বললে সে যেতে রাজি হয়নি। তখন তার বোন বলে তুমি আবারও বিদেশে যাও সেখানে যাওয়ার পর তোমার ওপর আচরণ ঠিক হয় কি না দেখবো। তারপর আমি চিন্তা- ভাবনা করবো। ওই সময় জাহিদ নিজের গায়ে বোতলের পেট্রোল দিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে দাবি করেন। এ সময় বোন জাহিদের গায়ে লেপ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। প্রতিবেশী এসে তাকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রোববার সকাল সাড়ে ১১টার পর যখন উম্মে রুম্মান পুলিশ হেফাজতে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিতে আসেন তখন ছবি তুলতে গেলে উম্মের বড় বোন পারভিন আক্তার বাধা দেন।
পারভিনের এই বক্তব্যের সাথে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ দায়িত্বরত ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে মিল পাওয়া যায়নি। শনিবার রাতে একটি ইজিবাইকে করে উম্মে রুম্মান তার স্বামী জাহিদ হোসেনকে একাই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কেউ কিছু জানতে চাইলে বলেন, সিলিন্ডার বাস্ট হয়ে আগুন শরীরে লাগে। জাহিদকে ভর্তি করে উম্মে উধাও হয়ে যান। কয়েক ঘন্টা পর সে আবার হাসপাতালে ফিরে এসে বার্ন ইউনিটে তার হাত পুড়ে গেছে এই কথা বলে ভর্তি হয়। জরুরি বিভাগে রাত ১০টায় ভর্তির সময় উল্লেখ করা হয়। অনুসন্ধানে জাহিদ হোসেনের বাসার এলাকা নগরীর ২নং কাশেমনগরে গেলে জাহিদ ও উম্মে রুম্মানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ