ঢাকা, বুধবার 20 December 2017, ৬ পৌষ ১৪২৪, ১ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কঙ্গোর কাসাইয়ে অনাহারে ভুগছে ৫ লাখ শিশু

 

১৯ ডিসেম্বর, বিবিসি : ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কাসাই এলাকায় প্রায় ৫ লাখের মতো শিশু অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে এমন তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। গত বছর ২০১৬ সালে দেশটির সরকার আর আঞ্চলিক নেতার সরকারের বিরুদ্ধে সৃষ্ট সংঘাতের পর প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বাড়ি ঘর হারিয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে ৩ হাজার মানুষ।

ডিআরসি প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার ঘটনায় সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে চলেছে।

কঙ্গোর কসাই এলাকার শিশুরা চরম অপুষ্টির শিকার। শিশুদের পাঁজরের হাড় দৃশ্যমান, মাথা ছোট, চোখগুলো এত বড় যে, দেখলে যেন মনে হয় বের হয়ে আসবে। স্থানীয় চিকিৎসক ও চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের মাধ্যমে সাধ্যমত চেষ্টা চালাচ্ছে।

ম্যালেরিয়া এবং অপুষ্টির শিকার দুই বছরের শিশু কালাঙ্গি। তার মা এমকেংডে বলেন, আমরা তিন মাস ধরে পথে পথে হেঁটেছি। এপ্রিল মাসে কামাকো ছেড়েছি। চিকাপায় এসেছি আগস্টে। যখন পৌঁছালাম তখনই আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল।

চিকাপা থেকে প্রাদেশিক রাজধানী কানাঙ্গা যাওয়ার পথটি ২৫০ কিলোমিটার জঙ্গল এবং বড় বড় ঘাসে আচ্ছন্ন। পথে পথে পুড়ে যাওয়া এবং ভাঙ্গা বাড়ি ঘর আর সেনা এবং পুলিশ সদস্যদের উৎকোচের দাবি। সে রাস্তায় কয়েকজনকে পাওয়া যায়, যারা সংঘাত এবং ক্ষুধার কষ্ট থেকে বাঁচতে পালাচ্ছেন।

 তেমনই একজন কালাম্বিছাবুয়া বলেন, আমাদের সাহায্য দরকার। আমরা সন্তানদের হারিয়েছে, তাদেরকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা দৈনদিন খাবারের খোঁজেও জঙ্গলে যেতে পারি না। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি, কারণ সেখানে গেলে আমাদের মেরে ফেলা হবে।

খাদ্য এবং চিকিৎসার অভাবে বহু মানুষ, কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত সাহায্য নেই। আর এটাই দেশটির প্রকৃত চিত্র।

অক্সফামের কান্ট্রি ডিরেক্টর সেনহাল ভি সোনেজি বলেন, এখানে দেশটির প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে। এ লোকেরা কোন সাহায্য পায়নি তারা প্রচন্ড ক্ষুধার্ত। এছাড়া তারা আরও অনেক সমস্যায় ভুগছে। হন্যে হয়ে তারা আমাদের সাহায্য চাইছে। আমাদের কিছু সীমিত সম্পদ ছিল যা আগে অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এখন এখানে সাহায্য দিতে চাইলে আমাদের অতিরিক্ত কিছু দরকার।

খাবারের জন্য ভিক্ষার হাত পেতে আছে লোকজন। কিছু রেশন হয়তো মিলবে। কিন্তু বিদেশি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে দেয়া অর্থ সাহায্য, যা দিয়ে অপুষ্টির সমস্যা বা স্বাস্থ্যসেবার চিকিৎসা দেয়া যেতো কিন্তু তা চলে গেছে অসাধু সম্ভ্রান্ত লোকজনের হাতে।

প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলা সেসব দুর্নীতিবাজ লুটেরার বিষয়ে নমনীয় আর এটাই সংকটের মূলে। বিষয়টি কাসাইয়ের গভর্নর অ্যালেক্সি এনকান্দে মাইওপোম্পা কাছে বিবিসি বাংলা প্রশ্ন ছিলো, এ লুটতরাজ দুর্নীতির বিষয়ে তিনি কোনপ্রকার লজ্জিতবোধ করেন কিনা?

তিনি বলেন, দুর্নীতির ধারণা সম্পর্কে জানেন যে, এটা এমন একটি বিষয় যাকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। কিন্তু কঙ্গো কিংবা আফ্রিকাতে এটা বেশি আটকানোও যাবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, যখন আপনি অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন কিছু নিশ্চয়তা থাকে এ অর্থের সদ্ব্যবহার হবে।

চিকাপা শহরে ওষুধের তীব্র সংকট, এখানে বাস্তুচ্যুত শত শত মানুষ। একজন মা তার তিন বছরের শিশুকে কোলে আঁকড়ে রেখেছে। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত শিশুটির মৃত্যু হয়েছে মাত্র কিছুক্ষণ আগে।

তারা এমন এক দেশে রয়েছে যেখানে শিশুরা প্রতিরোধযোগ্য বিভিন্ন রোগে প্রাণ হারাচ্ছে। অপুষ্টির কারণে এ সমস্ত শিশুদের শরীর দুর্বল, তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাদের জীবনে যা কিছু ছিল সবকিছু ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে। আর এখন এটাই কাসাইয়ের বাস্তবতা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ