ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 December 2017, ৭ পৌষ ১৪২৪, ২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বাস্থ্যকর আহারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে

ডায়াবেটিস নিয়ে পৃথিবী জুড়ে যারা জীবনযাপন করছেন তাদের জীবনের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে সারা বিশ্বে চলছে নানা আয়োজন। এই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর আহার। ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও টেকসই উন্নয়নে একে বলা হচ্ছে মূল চাবিকাঠি।
স্বাস্থ্যকর আহার করলে দুটো সুফল : টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সূচনা প্রতিরোধ করতে সহায়ক হবে।
সব ধরনের ডায়াবেটিসের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং জটিলতা এড়াতে যে কার্যক্রম-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্বাস্থ্যকর আহার। এ কাজ করতে গিয়ে কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন উদ্যোক্তারা-
স্বাস্থ্যকর খাবার সবার কাছে সহজলভ্য করে তোলা নিশ্চিত করা যায় কিভাবে? কোন কোন স্বাস্থ্যকর খাবার টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সহায়ক হবে।
 কোন স্বাস্থ্যকর খাবার সব ধরনের ডায়াবেটিস কার্যকর ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে। ডায়াবেটিস যে হারে বাড়ছে সারা পৃথিবীতে, এমন ধারা চলতে থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ে বেঁচে থাকবে ৬০০ মিলিয়ন মানুষ।
স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস ৭০% প্রতিরোধ করা সম্ভব, স্বাস্থ্যকর আহার কমায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।
তাই জীবনে পরিবর্তন আনার এই তো সময়। সব ধরনের ডায়াবেটিসকে মোকাবেলার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো স্বাস্থ্যকর আহার।
আগামী পৃথিবীকেও তাই বদলে দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর আহার আসুক সবার আওতায়।
ডায়াবেটিস থাকলে তা আগাম চিহ্নিত করা খুবই প্রয়োজন। রোগ নির্ণয়ে দেরি হওয়া মানে টাইপ ২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত অনেক মানুষ রোগ চিহ্নিত হওয়ার মুহূর্তে আবিষ্কার করবে যে তারা এক বা একাধিক জটিলতার ইতিমধ্যে শিকার হয়ে গেছে।
স্বাস্থ্যকর আহার মানে পত্রবহুল সবজি, শাক, টাটকা ফল, হোলগ্রেণ, কচি মাংস, মাছ, চিনিছাড়া দধি এবং বাদাম, জীবনস, ডাল এসব খেলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে এবং ডায়াবেটিসের জটিলতার সম্ভাবনা অনেক কমে।
কিছু লোকের হতে পারে টাইপ-১ ডায়াবেটিস। টাইপ ১ ডায়াবেটিস প্রতরোধ না করে গেলেও রোগের কার্যকরি মোকাবেলার জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর আহারের অভ্যাস উৎসাহিত করা হলো ডায়াবেটিস মহামারী আকারে বেড়ে যাওয়া রোধের বড় উপায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা গেলে, টেকসাই উন্নয়নের পথে যাত্রাপথ হবে সুগম। স্বাস্থ্যকর খাদ্য হবে সুলভ ও সাশ্রয়ী, যত বেশি সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যকর খাদ্য মানুষের আওতার মধ্যে আসবে, ডায়াবেটিসের বড় বোঝার ভার অনেক লঘু হবে। ২০১৪ সালে ৩৮৭ মিলিয়ন পাপ্তবয়স্ক মানুষের ডায়াবেটিসের এই বড় বোঝাকে যদি কার্যকর উপায়ে কমানো না যায় তাহলে এমন অনুমান, ২০৩৫ সালে তা হয়ে দাঁড়াবে ৬০০ মিলিয়ন। ডায়াবেটিস চিকিৎসা ও এর জটিলতা মোকাবেলার জন্য অর্থ ব্যয় হবে ৬১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাই টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রতিরোধ করলে বিশ্বের প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ব্যয়ের ১১% কমানো সম্ভব হবে। কেবল স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের এই কৌশল অবলম্বন করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ৭০% প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এদিকে ডায়াবেটিস ক্রমে বাড়তে থাকবে নিম্ন আয় ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে, টেকসই উন্নয়নের পথে তা বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে। খাদ্যের ব্যাপারে কেমন পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বজোড়া খ্যাতিসম্পন্ন ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞরা। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় ও কমায় এমন সব খাদ্য চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় এমন সব শর্করা হলো-মিলে ছাটা সাদা চাল, ময়দা ও আলু, চর্বি ও আমিষের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত মাংস, লাল গোস্ত। এছাড়া মিষ্টি, ফলের রস, কোমল পানীয়। এছাড়া ফাস্টফুড ও হাইক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার খেলেও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় এমন খাদ্য হলো- লাল চাল, আটা, পপকর্ণ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, বাদাম, পত্রবহুল সবুজ শাক সবজি, টাটকা ফল, চিনি ছাড়া দধি, চা মেডিটারিয়ান ডায়েট বেশ উপযোগী মনে করা হয়।
কিভাবে স্বাস্থ্যকর আহার করে ঝুঁকি কমানো যাবে ডায়াবেটিসের-
 ফলের রস, সোডা, কোমল পানীয়ের বদলে বেছে নিতে হবে বিশুদ্ধ খাবার পানি, চিনি ছাড়া চা ও কফি।
দিনে অন্তত: ফলের তিনটি সার্ভিং। সবজির তিনটি সার্ভিং। একটি সার্ভিং মানে ধরা যাক একটি ছোট আপেল বা অর্ধেক কাপ কাঁচা সবজি বা ফল বা
 একটি বড় কমলা বা এক বাটি পত্রবহুল সবজি শাক। বা একটি কলা। বা একটি ছোট ক্যাপসিকাম। অর্ধেক কাপ জাম বা  আঙ্গুর। রান্না করা আধা কাপ স্কোয়াশ। পত্র বহুল শাক সবজি প্রতিদিন খাওয়া যায়। সে সঙ্গে টাটকা মওসুমী ফল।
 নাস্তার জন্য একমুঠ বাদাম বা এক টুকরা তাজা ফল বা মিষ্টি ছাড়া দধি।
ছাল ও চর্বি ছাড়ানো কচি মাংস, পোলট্রি, মাছ বা সি ফুড। প্রক্রিয়াজাত গোস্ত ও রেডিমিট পরিহার করা ভালো। খেলেও দু’এক টুকরা, উৎসবে কদাচিৎ। চকোলেট বা জ্যামজেলির বদলে পিনাট বাটার।
ময়দার রুটির বদলে লাল আটার রুটি, সাদা চালের বদলে ব্রাউন রাইস।
 আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সামান্য। জলপাই তেল, ক্যানোলা তেল, কর্ন তেল, রাইসব্রান তেল। মাখন, ঘি, ডালডা, প্রাণীজ চর্বি, নারকেল তেল বাদ দেয়া ভালো, খেলেও কদাচিৎ। এমন খাবার খেলে ডায়াবেটিস থাকলেও তা থাকবে সুনিয়ন্ত্রণে।
-অধ্যাপক ডা: শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম, ঢাকা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ