ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 December 2017, ৭ পৌষ ১৪২৪, ২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রথম দিনে ১১৩ রানে অলআউট ঢাকা

স্পোর্টস রিপোর্টার : জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডের প্রথম দিনেই ১১৩ রানে অলআউট হয়েছে ঢাকা। জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ড মাঠে গড়িয়েছে গতকাল। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩ নম্বর মাঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন খুলনা মুখোমুখি হয়েছে ঢাকা বিভাগের। সকালে ম্যাচটি ৯ টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কুয়াশার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।  খেলা শুরু হয় ১২টা ৪৫ মিনিটে।

খুলনা বিভাগ টস জিতে ঢাকা বিভাগকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায়। খুলনার অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাক কী কারণে টস জিতেও ব্যাটিং নেননি সেটার প্রমাণ দিয়েছেন তরুণ তুর্কি মেহেদী হাসান মিরাজ ও  মোস্তাফিজুর রহমান। মিরাজের ঘূর্ণি যাদুতে ব্যাট করতে নেমে ৩৮.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৩ রানের বেশি করতে পারেনি মো. শরীফের ঢাকা বিভাগ। বল হাতে ঢাকার ১০ উইকেটের ৭টিই নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২টি নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। অপর উইকেটটি নিয়েছেন অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজ। মিরাজ ১১.৪ ওভার বল করে ৫টি মেডেনসহ মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৭টি উইকেট নেন! দুপুর ১২.৪৫ এ ব্যাট করতে নেমে বিকেল ৩.৫৩ মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় ঢাকা বিভাগের ইনিংস! ব্যাট হাতে ঢাকা বিভাগের রকিবুল হাসান সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন। ২১টি রান করেন শুভাগত হোম। নাজমুল অপু ১৪ ও শাহাদাত হোসেন ১০ রান করেন। বাকিদের কেউ দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেনি।

জবাবে খুলনা বিভাগ তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪.৫ ওভার ব্যাট করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৩ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে। ঢাকা বিভাগের চেয়ে এখনো তারা ৯০ রানে পিছিয়ে রয়েছে। ক্রিজে আছেন এনামুল হক বিজয় (১২) ও  সৌম্য সরকার (১১)। তারা দুজন আজ দ্বিতীয় দিনে আবার ব্যাট করতে নামবেন। অবশ্য আলো স্বল্পতার কারণে বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে দিনের খেলা শেষ করতে বাধ্য হন ম্যাচ অফিসিয়ালসরা।

জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডে দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে বুধবার ২১৫ রানে অলআউট হয়েছে চট্টগ্রাম। তবে খুব স্বস্তিতে প্রথম দিন শেষ করতে পারেনি সিলেটও। রান তাদের ৩ উইকেটে ৫৪। জাতীয় লিগের সবশেষ ম্যাচে দুই ইনিংসেই নিয়েছিলেন ৫টি কওে উইকেট। মাঝে ২ মাসের বিরতিতে বোলিংয়ে মরচে খুব একটা পড়েনি। আবার নেমেই এনামুল হক জুনিয়র নিলেন ৩ উইকেট। তিনটি নিলেন আবুল হাসানও। সিলেটের দারুণ  বোলিংয়ের বিপক্ষে লড়লেন কেবল চট্টগ্রামের ইয়াসির আলি রাব্বি। টস হেওে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রাম ওপেনার জসিম ও তিনে নামা মুমিনুল হককে হারায় দ্রুত। দারুণ খেলতে থাকা আরেক ওপেনার সাদিকুর রহমান আউট হয়ে যান ৭ চারে ৪৬ রান করে। সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই ৩৮ রানে রান আউট তাসামুল। ১১২ রানে ৫ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। বাকিটা শুধু ইয়াসিরের একার লড়াই। ষষ্ঠ উইকেটে ৬৩ রানের জুটিতে সাইদ সরকারের অবদান ছিল রে স্রেফ ১৩ রান। এই জুটি ভাঙার পর ভেঙে পড়ে ইনিংসও। ৪০ রানে হারায় তারা শেষ ৫ উইকেট। ১৩৬ বলে ১২ চারে ৮১ রান কওে ইয়াসির আউট হন শেষ ব্যাটম্যান হিসেবে। আবুল হাসান ও এনামুল জুনিয়র ছাড়া উইকেটের দেখা পেয়েছেন আবু জায়েদ, এবাদতরাও। বোলিংয়ে ভালো করার তৃপ্তি ব্যাটিংয়ে ধরে রাখতে পারেনি সিলেট। ওপেনার শানাজের পর অভিজ্ঞ ইমতিয়াজ ও তরুণ প্রতিভা জাকিরের উইকেটও হারিয়েছে তারা।

দ্বিতীয় দিনে তাই সিলেটের ব্যাটসম্যানদের অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রথম স্তরের ম্যাচে মাত্র এক রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি বরিশাল বিভাগের সোহাগ গাজী। রংপুর বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম দিনে ৯৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই অলরাউন্ডার। দিনশেষে বরিশালের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৮০ রান। সাজেদুল ইসলামের ঘূর্ণিতে নাসির হোসেনের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সোহাগ গাজী। ১০৪ বলের ইনিংসে ১৩টি বাউন্ডারি আর একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। বরিশালের পক্ষে ফিফটি পেয়েছেন আল আমিন আর মোহাম্মদ নুরুজ্জামানও। আল আমিন ৫০ করে আউট হয়েছেন। তবে নুরুজ্জামান অপরাজিত আছেন ৫১ রান নিয়ে । রংপুরের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন শুভাশীষ রায় আর তানবীর হায়দার। একটি করে উইকেট পান সাজেদুল ইসলাম আর আরিফুল হক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ