ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 December 2017, ৭ পৌষ ১৪২৪, ২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার সব মামলার ডকুমেন্ট ওভাররাইটিং-ঘষামাজা -আইনজীবী

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার মামলার শুনানি চলাকালে গতকাল বুধবার বকশি বাজারস্থ বিশেষ আদালতে হাজির হন -সংগ্রাম

# খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের জন্যই এই মামলা
# মামলায় সর্বোচ্চ সাজা দাবি করা অযৌক্তিক
# পত্র-পত্রিকায় কী লিখেছে- তা আমরা দেখতে চাই না
# রাস্ত-ঘাটে কী স্লোগান দেয়া হচ্ছে- তা আমরা শুনতে চাই না
# শাহবাগ ও চকবাজার এলাকা থেকে বিএনপি নেতাকর্মী আটক
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির চেয়ার পারসন বেগম খালেদা জিয়ার সব মামলার ডকুমেন্ট ওভাররাইটিং এবং ঘষামাজা বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা। একইসঙ্গে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের জন্যই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা। গতকাল বুধবার রাজধানীর পুরান ঢাকায় সরকারি মাদরাসা-ই আলীয়ার মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে তারা এসব কথা বলেন। যুক্তিতর্ক মুলতবি ঘোষণা করে আজ বৃহস্পতিবার আবার এর শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় যত ডকুমেন্ট এসেছে তার সবই ‘ওভাররাইটিং-ঘষামাজা’। সব সাক্ষীরাই বলেছেন, তারা জানে না এগুলো (ওভাররাইটিং-ঘষামাজা) কে করেছে। ঘষামাজা, ঘষামাজা আর ঘষামাজা দিয়েই চলছে এই মামলা।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার একটি রাজনৈতিক জীবন রয়েছে। সেখানে কলঙ্ক দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা অপপ্রয়াস মাত্র, এটা কোনো দিনই সফল হবে না। সার্বিকভাবে এটি একটি যুক্তিহীন মামলা।
আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, পত্র-পত্রিকায় কী লিখেছে- তা আমরা দেখতে চাই না। রাস্ত-ঘাটে কী স্লোগান দেয়া হচ্ছে- তা আমরা শুনতে চাই না। মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে যত কোলাহলই থাক না কেন, এই বিচারাঙ্গণে তা প্রবেশ নিষেধ।
তিনি বলেন, দুদকের আইনজীবীর পক্ষ থেকে মামলা প্রমাণিত হয়েছে বলে সর্বোচ্চ সাজা দাবি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হলে সর্বোচ্চ কমপ্লায়েন্স দরকার। কিন্তু কীভাবে খালেদা জিয়া সম্পৃক্ত হলেন- কিছুই এখানে নেই। এফআইআর ও চার্জশিটে ঘটনাস্থল ও ঘটনার তারিখ- কিছুই মিল নেই। আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, ফৌজদারি আইনে বিচারে ৪০৯ ধারার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এখানে অর্পিন করা বা গচ্ছিত করা হয়েছে- এ ধরনের কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি প্রসিকিউশন। ৪০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার কোনো উপাদান চার্জের মধ্যে সন্নিবেশিত হয়নি। এই চার্জ ডিফেক্টিভ। কোনো সাক্ষী আদালতে বলেননি যে, খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অর্গানোগ্রাম ও সাক্ষীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বহু সচিব চাকরি করতেন। অনেক পরিচালক পদ মর্যাদার লোকজন চাকরি করতেন। তারা কেউই এই মামলার সাক্ষী নন। এই মামলায় খালেদা জিয়া আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কোনো অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেছেন বা পরিচালনার জন্য কাউকে নোটশিটে আদেশ দিয়েছেন-এমন কোনো নোট শিট আদালতে উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে প্রসিকিউশন।
তিনি বলেন, চার্জগঠন সঠিক হয়নি। যে অভিযোগ এসেছে তা ঢালাও অভিযোগ। একসঙ্গে অনেক আসামীর সঙ্গে একই উদ্দেশ্যে চার্জগঠন করা হয়। এজাহারে ঘটনার তারিখ একটা আর চার্জশিটে আরেকটা। ঘটনাস্থল সোনালী ব্যাংক নয় সেখানে দেখানো হয়েছে প্রাইম ব্যাংক। এটা একটা অসংগতিপূর্ণ চার্জ। চার্জের সঙ্গে মামলার বিষয়বস্তুর কোনো সম্পর্ক নেই।
দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে এ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থান শেষ হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে দুটি আবেদন দাখিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এর একটি হলো সাফাই সাক্ষী উত্তোলন করা ও অপরটি লিখিত আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য না দিয়ে তা মৌখিকভাবে উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া। আদালত শুনানি শেষে দুই আবেদনই নাকচ করেন। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাস ত্যাগ করলে এরপর খালেদা জিয়াও আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
এর আগে গতকাল সকাল ১১টার দিকে এ আদালতে হাজির হন বেগম খালেদা জিয়া। এর আগে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।
খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে এ দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, মির্জা আব্বাস, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।
আজও তার অসমাপ্ত বক্তব্য রাখবেন :
এদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে আজও আরো তিনজন সিনিয়র আইনজীবী এ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। তারা হলেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ও এ জে মোহাম্মদ আলী।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক।
২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামীরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
শাহবাগ ও চকবাজার থেকে বিএনপির নেতাকর্মী আটক
এদিকে রাজধানীর শাহবাগ ও চকবাজার থেকে বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীকে আটক করছে পুলিশ। তাদের বিষয় তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। ৫ ডিসেম্বরের নাশকতা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হতে পারে।
বুধবার সাড়ে ১১টার দিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে যাওয়ার সময় তাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা নেতাকর্মীরা হাইকোর্ট মোড়, বঙ্গবাজার, বকশিবাজার এলাকায় ভিড় করেন। তাদের মধ্য থেকে এই ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, আটককৃতদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রমনা জোনের পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ৫ ডিসেম্বর সচিবালয় এলাকায় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার দেখানো হবে।
এদিকে, চকবাজার থানা পুলিশও এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন থানার ডিউটি অফিসার এসআই দেলোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, আমাদের থানা পুলিশ একজনকে আটক করেছে। তাকে থানায় রাখা হয়েছে। তার বিষয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ