ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 December 2017, ৭ পৌষ ১৪২৪, ২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হত্যার প্রতিবাদে কাশ্মীরে বনধ হুররিয়াত নেতারা গৃহবন্দী গ্রেফতার রশিদ

মীরওয়াইজ ওমর ফরুক, সাইয়্যেদ আলী শাহ্ গিলানি এবং মুহাম্মদ ইয়াছিন মালিক                     (ফাইল -ছবি)

২০ ডিসেম্বর, পার্স টুডে : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সামরিক বাহিনীর অভিযানে তিন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বনধ পালিত হয়েছে। বনধের ফলে দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও ঘেরাও-তল্লাশির প্রতিবাদে গতকাল বুধবার হুররিয়াত নেতা সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক এবং জেকেএলএফ নেতা মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিকের পক্ষ থেকে কাশ্মির উপত্যকায় বনধের ডাক দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১১ ডিসেম্বর হান্দওয়াড়াতে ইউনসো গ্রামে মিসরা বানু কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন। গত শনিবার রাতে থান্ডিপোরা গ্রামে আসিফ ইকবাল নামে এক ক্যাব চালক নিহত হন। সর্বশেষ ঘটনায় সোপিয়ানে গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর ছোঁড়া বুলেটের আঘাতে রুবি জান (২৪) নামে এক নারী নিহত হন।

বনধে কাশ্মীরের জনজীবন স্থবির ওই হত্যাকা-ের প্রতিবাদে আজ বনধকে কেন্দ্র করে কাশ্মীর উপত্যাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় প্রচুর নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ ওমর ফারুককে গৃহবন্দী করা হয়েছে। হুররিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি আগে থেকেই গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে, গতকাল বুধবার সংঘর্ষকবলিত সোপিয়ানে যাওয়ার চেষ্টা করলে নির্দলীয় বিধায়ক ও আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টির প্রধান ইঞ্জিনিয়ার রশিদকে আজ পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে তাকে রাজবাগ পুলিশ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার সোপিয়ানে গেরিলা ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে স্বাধীনতাকামীদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করতে স্থানীয় মানুষজন সড়কে নেমে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর বর্ষণ করে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করাসহ গুলি চালাতে হয়। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছোঁড়া বুলেটের আঘাতে রুবি জান (২৪) নামে এক বেসামরিক নারী নিহত হন।

বনধকে কেন্দ্র করে গতকাল খানইয়ার, রায়নাওয়াড়ি, নৌহাট্টা, এম আর গঞ্জ ও সাফাকদল থানা এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া মৈসুমা ও ক্রালখুদে আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩১৮ : এছাড়াও ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে চলতি বছর ২০৩ জন, ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক ও ৭৫ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছে বলে মঙ্গলবার ভারতের লোকসভায় জানানো হয়েছে।

 লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হানসরাজ অহির এ কথা জানান।

তিনি আরো জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহ সম্পর্কিত ঘটনায় ৫১ জন স্বাধীনতাকামী ও ১২ জন নিরাপত্তাকর্মীসহ ৯৭ জন মারা গেছে।

চলতি বছরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৩৭টি সন্ত্রাসী ঘটনায় ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক, ৭৫ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং ২০৩ জন স্বাধীনতাকামী নিহত ও ৩২১ জন আহত হন। ৯১ জন স্বাধীনতাকামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাম- চরমপন্থী প্রভাবিত এলাকার সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে অহির বলেন, এতে এই বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৮১৩টি ঘটনায় ১৭০ জন বেসামরিক লোক, ৭৫ জন নিরাপত্তা কর্মী ও ১১১ বাম চরমপন্থী নিহত হয়। আরো ১৪৫ জন আহত ও ১,৭১২ বাম চরমপন্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে দুইটি করে হামলা হলেও ২০১৬ সালে ছয়টি হামলা হয়। চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি প্রতিরক্ষা স্থাপনা জঙ্গি হামলার সম্মুখীন হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ