ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 December 2017, ৭ পৌষ ১৪২৪, ২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নোটিশ প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা -আ’লীগ

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া বিএনপি উকিল নোটিশ প্রত্যাহার না করলে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল বুধবার  বিকাল ৫টায় দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং দলের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘তারা (বিএনপি) আইনি নোটিশ দিয়েছে। আমরা আইনিভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করব।’
হাছান মাহমুদ বলেন, যে সময় বিএনপির দুর্নীতি দেশে-বিদেশে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে, দুর্নীতির মামলার বিএনপি নেতা খালেদা জিয়া ও তার ছেলেদের শুনানি চলছে, ঠিক এই সময়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই তারা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। তারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। বিএনপিকে আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে এই আইনি নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাছান মাহমুদ জানান, ১২টি দেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের এক হাজার দুইশ কোটি মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ এসেছে। এসময় তিনি ২০০১ সাল পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের ‘দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে’র বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। খালেদা জিয়া জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসময় দুর্নীতি ও অর্থপাচারের জন্য খালেদা জিয়াকে জনগণের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের অর্থ বিনিয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কাছে কোনও তথ্যপ্রমাণ আছে কিনা। এ প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের কাছে অবশ্যই তথ্যপ্রমাণ আছে। তাছাড়া বিভিন্ন অনলাইনে এই বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।’
এসময় মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ভিত্তিহীন কোনও তথ্য প্রচার করে না। আওয়ামী লীগ কোনোদিন কোনও বানোয়াট কথা বলে না, ভিত্তিহীন তথ্য দেয় না।’
এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘উকিল নোটিশ এখনও আমাদের কাছে আসেনি। গণমাধ্যম থেকে আমরা নোটিশের বিষয়টি জেনেছি। নোটিশ পেলে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত ১৯ ডিসেম্বর ৩০ দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আইনি নোটিশ পাঠান। রেজিস্ট্রার্ড ডাকযোগে (উইথ এ/ডি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঠিকানায় নোটিশটি পাঠানো হয়।
 নোটিশে বলা হয়, ‘গত ৭ ডিসেম্বর গণভবনে মিডিয়া ব্রিফিংকালে আপনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু মানহানিকর বিবৃতি দিয়েছেন, যা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া, দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন ও অনেক সামাজিক মিডিয়া আউটলেটে প্রচার হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আপনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক বিবৃতি দিয়েছেন। আপনি বলেছেন, যে সৌদি আরবে খালেদা জিয়া একটি শপিং মলের মালিক এবং সেখানে তার বিপুল সম্পদ রয়েছে। তিনি মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত। আপনি তার ছেলেদের সম্পর্কেও কিছু মিথ্যা কথা বলেছেন। আপনি খালেদা জিয়া এবং তার ছেলেদের সম্পর্কে যে অভিযোগ এনেছেন তা সাজানো,বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক।’
নোটিশের বিষয়ে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘৩০ দিনের মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে নোটিশে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ