ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 December 2017, ৭ পৌষ ১৪২৪, ২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভূমিহীনদের সম্পদ প্রভাবশালীদের দখলে অর্থ ভাগ নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা

 

আরিফুল ইসলাম, সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা : পাবনার ঐতিহ্যবাহী ভূমিহীন সংগঠন এনজিও ‘সমতা’ নিয়ে নানা নাটকীয়তা শেষে এখন বিক্রির চেষ্টা। অবকাঠামো ও সম্পদ বিক্রয়ের প্রায় ৭ কোটি টাকা ভাগ বাটরা নিয়ে তিন গ্রুপে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা। সম্পদ বিক্রি না করে সরকারি ভাবে গরীব বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরির দাবি ভূমিহীনদের।

ভূমিহীনদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে সমতা নামের এনজিওটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়। যার রেজি: এস-২৬৫৬। প্রধান অফিস পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে। আব্দুল কাদেরকে পরিচালক ও ভূমিহীন নেতা সেকেন্দার আলীকে চেয়ারম্যান করেন ভূমিহীনরা।

সাঁথিয়ার বিষ্ণুপুর এনজিও’র বিলাশ  প্রধান কার্যালয় স্থাপনসহ বিভিন্ন উপজেলা জেলায় শাখা অফিস স্থাপন করা হয়। জ্যাইকাসহ বিদেশী বড় বড় দাতা সংস্থার অর্থায়নে অল্প সময়ে সংস্থাটির পরিচালকরা রাতা রাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হতে থাকে। দাতাদের টাকায় তৈরি হতে থাকে পরিচালকদের নিজস্ব বাড়ি, গাড়ি ও সম্পদ। অর্থের লোভে তারা ভুলে যান ভূমিহীনদের কথা। গরীবদের ভাগ্যেন্নয়নে প্রাপ্ত অর্থ লুটপাটের অভিযোগে ২০০৫ সালের পর থেকে দাতা সংস্থারা এক যোগে সকল প্রকার অর্থায়ন বন্ধ করে দেন। দাতাদের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় সংস্থার কার্যাক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ থাকা কালিন সময়ে সমতার পরিচালক মৃত আব্দুল কাদের প্রধান অফিস রেখে সব সম্পদ বিক্রয় করে ঋণ পরিশোধের নামে নিজে সমদয় অর্থ আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এনজিওটির বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাবনা জেলা প্রশাসকের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়। জেলা প্রশাসক সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। নির্বাহী অফিসার আকবার আলী অতি গোপনে এনজিও সমতার অর্থ আত্মসাতের তদন্ত প্রতিবেদন পাবনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এপ্রতিবেদন আলোর মুখ না দেখায় বন্ধ এনজিওটির মালিকানা নিয়ে কাদেরের আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিতে থাকে।

সমাজ সেবা অফিসের তোয়াক্কা না করে পরিচালক কাদেরের ছোট ছেলে রাকিবুল হাসান লালিম বহিরাগত ও তার আস্থা ভাজনদের সঙ্গে নিয়ে প্রকৃত ভূমিহীনদের বিতারিত করে ঢাকা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে ভুয়া পরিচালনা কমিটি জমা দিয়ে তা অনুমোদন নিয়ে আসে।

কমিটি অনুমোদনের পর থেকেই কাদেরের ছোট ছেলে রাকিবুল হাসান লালিম সমতা নামক এনজিওটি বিক্রয়ের চেষ্টা করে আসছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সরকারের নজরদারীর অভাবে সমতার দ্বীতল ভবনের বিশাল এলাকার সম্পদটি অবকাঠামোসহ প্রায় ৭ কোটি টাকা বিক্রয়ের জন্য একটি কোম্পানির সাথে মৌখিক চুক্তি করেছে। তারা এ সম্পদ বিক্রয় করে ঢাকায় প্লট ও ফ্লাট ক্রয়সহ বিদেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছে। এতে ভূমিহীনদের নামে প্রতিষ্ঠিত সমতার বিশাল সম্পদ থেকে ভূমিহীন ও সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। 

এদিকে এ বিশাল অর্থের সম্পদ বিক্রয় করে অর্থ ভাগবাটোরাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা। তাদের দাবি বিক্রয়ের পূর্ব থেকেই সংস্থার বর্তমান পরিচালক রাকিবুল হাসান লালিম নিজ আত্মীয়দের সাথে সংঘর্ষসহ বিরোধ সৃষ্টি করে চলছে। এছাড়াও ক্রয় সূত্রে কথিত মালিক দাবি করা কফিল উদ্দিন এ সম্পদ হাত ছাড়া না করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ভূমিহীনরা জানান, এ বিশাল সম্পদ রক্ষার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তারা সরকারের নিকট এখানে গরীব ভূমিহীনের সন্তানদের জন্য কর্মসংস্থানের দাবি করেন। 

এনজিও’র বর্তমান কমিটির প্রভাবশালী এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার সর্তে এ প্রতিনিধিকে জানান, আমি শুনেছি, সম্পদসহ অবকাঠামো ৭ কোটি টাকা দাম হয়েছে। তা গোপনে লালিম বিক্রয়ের চেষ্টা করছে। আমার দাবি সম্পদ না বিক্রয় করে এখানে উন্নয়ন মূলক কাজ করা হোক।

সাঁথিয়া সমাজ সেবা অফিস সূত্রে জানাযায়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি এনজিওটি নিজের দায়িত্বে নেবার চেষ্টা করেছে। আমরা বিরোধপূর্ণ অফিসটি সিলগালা করেছিলাম। এখন বিক্রয়ের কথা নানা মুখে শুনছি। সমতার কার্যক্রম না থাকায় বর্তমান আমরা তার খোঁজ রাখতে পারছিনা। সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, সমতা বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ