ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 December 2017, ৭ পৌষ ১৪২৪, ২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শ্যামনগরে বেড়ে চলছে অবৈধ ক্লিনিক

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় সর্বত্র একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ ক্লিনিক। ক্লিনিকগুলোতে সার্বক্ষণিক রোগী চিকিৎসার জন্য নেই কোন এম বি বি এস ডাক্তার। গ্রাম্য ডাক্তারা জোটগত ভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে ক্লিনিকগুলো। চিকিৎসার নামে চলছে অর্থ উপার্জনের ব্যবসা কেন্দ্র। সুচিকিৎসার নামে অসুস্থ মানুষদের জবাই করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। অথচ প্রশাসনিক ভাবে নেই কোন আইনগত ব্যবস্থা। এ সকল ক্লিনিক ব্যবসায়ী নামধারী প্রতারকদের অবৈধ ক্লিনিকের প্রাথমি লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে উঠেছে নানা গুঞ্জন।
একটি ক্লিনিক বৈধভাবে চলতে গেলে তার কতকগুলো নিয়মনীতি আছে যা নি¤œরূপ ১. স্বাস্থ্য সম্মত একটি ব্লিডিং ২. উন্নতমানের যন্ত্রপাতি থাকা ৩. সার্বক্ষণিক একজন এম বি বি এস ডাক্তার থাকা ৪. প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুইজন নার্স থাকতে হবে। শ্যামনগরের ক্লিনিকগুলোতে উপরের শর্তের কোনটাই পুরাপুরি নেই। যার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রোগীরা। গরীব রোগীরা অত্যন্ত কষ্ট করে ধার দেনা করে টাকা নিয়ে  চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয় ক্লিনিকগুলোতে, তারপর চিকিৎসা সেবা ভালো পেয়ে অন্যত্রে চিকিৎসার জন্য টাকা থাকে না।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রের বাবলাতলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করে একটি বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে ক্লিনিক। যা ক্লিনিক হওয়ার অনুপযোগী। তাছাড়া কালিগঞ্জের নাইম ক্লিনিকের পরিত্যক্ত কিছু যন্ত্রপাতি ও আসবাব পত্র ক্রয় করে শ্যামনগরের মামুন মাষ্টার , গ্রাম্য ডাক্তার আব্দুল আজিজ সহ কতিপয় ব্যক্তি ন্যাশনাল হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের একটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসা চালাতে তারা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। একটি সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, ক্লিনিকগুলোতে কসাইখানার মতো কাটাকাটি শুরু করে। কোন কোন রোগীর অপারেশন করার পর রোগীর শরীরে নানারকম অসুস্থতা বৃদ্ধি পায়। সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা শ্যামনগর হাসপাতাল। কিন্তু ডাক্তার সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। সরকারী হাসপাতালের সার্জনরা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করে এ সমস্ত ভুঁইফোড় ক্লিনিকে মানুষ ঠকানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালের দুই একজন ডাক্তার থাকলেও তারা অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য তারা নেমে পড়েছে ওই ক্লিনিক ব্যবসায়।
শ্যামনগরের সচেতন মহল অবৈধ ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের লাগাম টানতে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসন সহ উপজেলার প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ