ঢাকা, বৃহস্পতিবার 21 December 2017, ৭ পৌষ ১৪২৪, ২ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেডিএ’র ময়ূরী আবাসিক প্রকল্পে ভূমি উন্নয়ন কাজের দরপত্র আগামী মাসে

খুলনা অফিস: খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ময়ূরী আবাসিক প্রকল্পে রিভাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রোপজাল (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে অনুমাদন হয়েছে। এর ফলে ময়ূরীতে প্লট গ্রহীতাদের জন্য ভূমি উন্নয়নের (বালি ভরাট) কাজ সহজ হল। এজন্য সংস্থাটি আগামী সপ্তাহে দরপত্রের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আরমান হোসেন জানান, দীর্ঘদিন পর গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো (ডিপিপি) অনুমোদন হয়ে গত ৫ ডিসেম্বর তাদের হাতে পত্র এসে পৌঁছেছে। এর ফলে ময়ূরী আবাসিকের ভূমি উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে। তিনি জানান, প্রকল্পে গ্রহীতাদের নির্ধারিত সময়ে প্লট বুঝিয়ে দেয়ার বিষয়ে ভূমি উন্নয়নসহ ছয়টি কাজ সম্পন্ন করা হবে। কাজগুলো হল বালি ভরাটের কাজ ২৫ কোটি টাকা, রাস্তা নির্মাণ ১৯ কোটি টাকা, ড্রেন নির্মাণে ১২ কোটি টাকা, কালভার্ট নির্মাণে ১১ কোটি, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ কাজে ৮ কোটি টাকা। তিনি আরও জানান, ২০১২ সালে ময়ূরী আবাসিক প্রকল্প কেডিএ গ্রহণ করে। এরপর তা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেকে) অনুমোদন হয়। প্রথমে এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭৫ কোটি টাকা। প্রকল্প এলাকায় জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্প ব্যয বেড়ে যায় ২৩২ কোটি টাকায়। পূর্ত মন্ত্রণালয়ে মোট ২৩৪ কোটি টাকার ডিপিপি পাঠিয়ে তার অনুমোদনও হয়। কিন্তু সময়ক্ষেপণে ওই টাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বাড়িয়ে ২৬৯ কোটি টাকার ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এতদিন পূর্ত মন্ত্রণালয়ে তা অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।
অন্যদিকে জেলাপ্রশাসকের অফিস থেকে কেডিএ প্রকল্প এলাকার জমি পেতে দেরী হওয়ায় সার্বিক কাজ বিলম্বিত হওয়ার কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে লটারীর মাধ্যমে ময়ূরীতে ৬৫৩ জন আবেদনকারী প্লটের মালিক হন। এ আবাসিকে পাঁচ কাঠার ২৬৯টি এবং তিন কাঠার ৩৮৪টি প্লট এবং সংরক্ষিত ৯৭টি প্লট রয়েছে। তিন কাঠার প্লটের কাঠাপ্রতি মূল্য ছিল ৯ লাখ আর ৫ কাঠার প্লটের প্রতি কাঠার মূল্য ছিল সাড়ে ৯ লাখ টাকা করে। মোট প্লট মূল্যের ৪০ ভাগ অগ্রিম পরিশোধ করে বাকী ২০ ভাগ তিন কিস্তিতে ৩৬ মাস বা তিন বছরে পরিশোধযোগ্য।
চলতি মাসে ডিপিপি অনুমোদন হওয়ায় ওই টাকায় প্রকল্প এলাকায় বালি ভরাট, রোড, ফুটপাত, ড্রেন, কালভার্ট, পানির লাইন, পার্ক, লেক রোড ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করা হবে। ২০১৯ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে কেডিএ এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।
কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম জানান, সংস্থার বর্তমান চেয়ারম্যান খুলনাবাসীর আবাসনসহ উন্নয়নের বিষয়ে আর নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অগ্রহী। কেডিএ এর মাস্টার প্লানেও ময়ূরী আবাসিকে ৫শ’ একর জমি নির্ধারিত আছে। ইতোমধ্যে কেডিএ খুলনাতে সোনাডাঙ্গা, নিরালা, মুজগুন্নি, দৌলতপুর, শিরোমণি, মীরেরডাঙ্গা, ফুলবাড়ীসহ ৯টি আবাসিক এলাকা নির্মাণ করেছে এবং এতে ৩২৬ জন গ্রহীতা প্লট পেয়ে বসবাস করছেন। এছাড়াও ময়ূরী প্রকল্পের পাশে ৮ একরের এ ও বি দুটি রিজার্ভ ল্যান্ড সংরক্ষিত আছে। ভবিষ্যতে এখানে অ্যাপার্টমেন্ট তৈরির পরিকল্পনা কেডিএর রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ