ঢাকা, শুক্রবার 22 December 2017, ৮ পৌষ ১৪২৪, ৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ধান পাটে লোকসান গুনে এবার রবিশস্য চাষে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা: কৃষকের মন ভালো  নেই। তাদের মুখের হাসি হারিয়ে গেছে। চোখের সামনেই অতি বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে সম্ভাবনাময়ী ধানী জমি। ভালো দামের আশায় বিক্রি যোগ্য পাট বিক্রি করতে হয়েছে পানির দামে। চরম প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিপর্যস্ত কৃষক যখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে ব্যাস্ত ঠিক তখনি পুনরায় প্রাকৃতিক দূর্যোগে রবি মওসুমের গম, মসুর, সরিষা নিয়ে চরম বিপাকে কৃষকরা। সঠিক সময়ে তারা রোপন করতে পারেনি গম, মসুর সরিষা সহ বোর মওসুমের আবাদ। ফলে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মুখে ভেড়ামারার কৃষকরা। 

ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতিবৃষ্টিতে ধান নষ্ট হয়ে ফলন বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে গিয়ে পুনরায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারী ভাবে প্রনোদনা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভেড়ামারা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে চলছে রবি মৌসুম। এ মৌসুমে কৃষক ব্যস্ত সময় কাটায় গম, মসুর, সরিষা, পিয়াজ, রসুন, ভুট্টা আবাদে। ৩০ নভেম্বর সময়ের মধ্যে জমিতে এসব ফসল চাষাবাদ করতে পারলে অধিক ফলনের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকরা সঠিক সময়ে গম, মসুর, সরিষা রোপণ করতে পারিনি। ক্ষেমিড়দিয়াড় গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, আমাদের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ। অতি বৃষ্টির কারনে সম্ভাবনাময়ী ধানের ফসলী জমি ডুবে গিয়ে চরম ভাবে ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছি। যেখানে ১বিঘা জমিতে ফলন হয় ১০/১২বিঘা ধান, সেখানে এ বছর ফলন হয়েছে মাত্র ৪/৫ মন। ফলন কম হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের উচ্চ মূল্য দিয়ে জমি থেকে ফসল উঠানো লেগেছে। আবার বোর মৌসুমে গম, মসুর লাগানোর সময়েও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে চাষাবাদ করা সম্ভব হয় নি। 

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ভেড়ামারা উপজেলায় যেখানে ৪হাজার হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হতো এখন সেখানে এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে মাত্র ৯'শ হেক্টর জমি। প্রায় সাড়ে ৪হাজার হেক্টর জমির মসুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রার স্থলে এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩হাজার জমিতে মসুর। এলাকা ঘুরে বিভিন্ন কৃষকের সাথে কথা বলে তারা চরম হতাশার কথা ব্যাক্ত করেছেন। তাদের মুখে কোন হাসি নেই। 

ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, এ বছর প্রাকৃতিক দূর্যোগে কৃষক ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় তারা ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেছে। তিনি মনে করেন, ভেড়ামারার কৃষকরা উদ্যোমী এবং পরিশ্রমী। প্রতিকূলতাকে জয় করে নতুন ফসল ফলিয়ে শেষ হাসি হাসবে কৃষকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ