ঢাকা, শুক্রবার 22 December 2017, ৮ পৌষ ১৪২৪, ৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

 অর্থনীতিতে নৈতিকতার সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকিং খাত

 

স্টাফ রিপোর্টার: অর্থনীতিতে  নৈতিকতার সংকটের কারণে  দেশের ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নৈতিকতার সঙ্গে অর্থনীতি যুক্ত করতে পারলে দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব। তা না হলে অর্থনীতিতে আরও বড় ধরনের সংকট দেখা দিবে।

 গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটউটে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির তিন দিনব্যাপী ২০তম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন  চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন  চৌধুরী, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সাবেক সভাপতি ও অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত প্রমুখ।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যায় উন্নত দেশগুলোতে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট। কিন্তু সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রায় অর্থনীতির বৈষম্যের বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তবে বর্তমানে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শোষণমুক্ত সমাজ ও দারিদ্র্য বিমোচন করতে আমাদের সবার অর্থনীতির সঠিক পথটি নির্ধারণ করতে হবে। ঠিক করতে হবে কী করতে চাই এবং কী করতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে কী ধরনের সংস্কার ও নীতির প্রয়োজন সেটা ঠিক করতে হবে। এজন্য সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

স্পিকার বলেন, নৈতিকতার সঙ্গে অর্থনীতি যুক্ত করতে পারলে দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য নিরসনে আরো কার্যকর পরিকল্পনা ও নীতি গ্রহণ করা সম্ভব।

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আমরা যদি অর্থনীতিকে শুধুমাত্র মুনাফাভিত্তিক করি বা মুক্তবাজার অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি তাহলে সেটা অর্থনীতি শুধুমাত্র মুনাফা ও লোকসানের মধ্যেই থেকে যাবে। তবে যদি অর্থনীতি ও নৈতিকতার সংমিশ্রণ ঘটাতে সক্ষম হই তাহলে সেখানে বৈষম্য দূর করা সম্ভব।

স্পিকার বলেন, শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে হলে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তখনই কেবল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও গণতন্ত্র নিশ্চিত হবে। এজন্য বাধাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের সক্ষমতা ও সুযোগের সমন্বয় করতে হবে।

 রেহমান সোবহান বলেন, বর্তমানে অর্থনীতিতে নৈতিকতার প্রকট সংকট রয়েছে। এটি একটি চিহ্নিত সমস্যা। আর এই সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ব্যাংকিং খাতে। এর প্রভাব পড়ছে সার্বিক অর্থনীতিতে। তাই সুষম উন্নয়ন, রাজনৈতিক সমতা ও গণতন্ত্রের জন্য নৈতিকতা অত্যন্ত জরুরি।

আমাদের ব্যাংকিং খাতে যে সংকট দেখা দিচ্ছে এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো নৈতিকতা পতন। তা না হলে ব্যাংকিং খাতে এত বড় বিপর্যয় হতে পারে না। দেশে কোন কারণ ছাড়াই একের পর এক ব্যাংক দখল হচ্ছে। কি অপরাধে গণহারে ব্যাংকগুলোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে তা গ্রাহকরা বুঝতে পারছে না। এতে করে গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সৃষ্টি হচ্ছে।

এতে করে মানুষ ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা হারাচ্ছে। যদি এই আস্থা ফিরিয়ে আনা না যায় তাহলে দেশে বড় ধরনের সংকট দেখা দিবে। টাকা পাচার বেড়ে যাবে। একই সাথে ডেসটিনি যুবকের মত প্রতিষ্ঠানের পরিমাণও বেড়ে যাবে। লাভের আশায় মানুষ ব্যাংকের টাকা না রেখে এসব প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুকবে।

এর আগে সকালে অর্থনীতিবিদ ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাতের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দ্বিবার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়।

ড. আবুল বারকাত বলেন, প্রচলিত অর্থশাস্ত্র সমাজ ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই অনার্স ও মাষ্টার্স পর্যায়ে অর্থনীতির পাঠ্যসূচি পরিবর্তন করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, অর্থনীতির শিক্ষার্থীদের ব্যহ্যিক ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে আবদ্ধ থাকলেই চলবে না- বরং তাদেরকে নীতি দর্শন, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান ও রাজনীতি সম্পর্কেও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ