ঢাকা, শুক্রবার 22 December 2017, ৮ পৌষ ১৪২৪, ৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীতে পৃথক দুূর্ঘটনায় তিন নারীসহ  চার জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

 

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বনানী ও মহাখালী এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে পৃথক দুটি দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। এদের মধ্যে একজন পুরুষ (৩০) ও একজন নারী (৪৫)।

ঢাকা রেলওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রবি উল্লাহ জানান,  বনানী রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর পাশে রেললাইন ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ট্রেনের নীচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার পরনে ছিল কাল-লাল রঙয়ের হাফ প্যান্ট ও সাদা শার্ট।

এএসআই আরো জানান, মহাখালীর আমতলী রেলগেটের উত্তর পাশে হেঁটে রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের নীচে কাটা পরে অজ্ঞাত এক নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার পরনে ছিল চেক শাড়ি। দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে বলে পুলিশ জানায়।

এদিকে , পুরান ঢাকায় ছাদ থেকে পড়ে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার মেয়ে নিহত হয়েছে। নিহতের নাম তানজিয়া সালাম সেতু (২০)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডের ৯৩ নম্বর বাসায় এই ঘটনা ঘটে। পরে তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল।  

নিহত তানজিয়া সালাম সেতু (২০) সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুস সালামের মেয়ে। সেতুর বড় ভাই ক্যাপ্টেন তানভীর গত রমজান মাসে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত হন।

 সেতুর মামা ফারুক হোসেন জানান, আব্দুস সালামের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে। কিন্তু তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের পাশের মাটিকাটা এলাকায়। দুইদিন আগে আবদুস সালাম স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী যান। এর আগে তারা সেতুকে পুরান ঢাকার মামার বাসায় রেখে যান। ফারুক বলেন, ‘গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সেতু বাসার পাঁচতলার ছাদ থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বেলা দেড়টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া , কলাবাগান থানাধীন উত্তর ধানমন্ডির একটি বাসায় নিপা মৃধা (২৭) নামের এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সে তেজগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স হিসেবে চাকরি করতো। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ঘরঘাটা গ্রামের বিনয় মল্লিক মেয়ে নিপা। বিগত সাত বছর আগে উপজেলার পাকশী গ্রামের অনিমেষের সাথে বিয়ে হয় তার। বর্তমানে কলাবাগান থানাধীন ৩০ নম্বর উত্তর ধানমন্ডির ৫ম তলা বাসার ২য় তলায় স্বামী ও ৬ বছরের ছেলে ওয়ন মৃধাকে নিয়ে থাকতো। মৃত নিপার স্বামী অনিমেস মৃধা দাবি করে জানান,  সকালে তিনি স্ত্রী নিপার কাছে কিছু টাকা চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। পরে অনিমেস কাজের উদ্দেশ্যে দোকানে চলে যান।

১১টার দিকে তাদের বাসায় থাকা নিপার বোন মালা মল্লিক অনিমেসকে ফোন করে জানান, নিপা অনেক্ষণ হয় বাথরুমে ঢুকেছে। বের হচ্ছেনা। পরে তিনি বাসায় এসে বাথরুমের দরজা ভেঙ্গে নিপাকে বাথরুমের ভেন্টিলেটরের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, ময়না তদন্তের জন্য লাশটি মর্গে রাখা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জে জুয়েলার্সে ককটেল ফাটিয়ে ডাকাতি

কেরানীগঞ্জ উপজেলার নিলয় জুয়েলার্সে ককটেল ফাটিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনটি ককটেলসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ৮টার দিকে আটিবাজার এলাকায় ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তির নাম মো. নাসির উদ্দিনের (২৫)। তার বাড়ি বরিশালে।

 কেরানীগঞ্জ থানার এসআই এখলাস উদ্দিন নিলয় জুয়েলার্সের মালিক মাখনের বরাতে জানান, রাতে হঠাৎ সংঘবদ্ধ ডাকাতদল কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দোকানে ঢোকে। ডাকাতরা দোকানমালিক মাখন ও কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩০ ভরি সোনার গয়না লুট করে। তারপর আবার কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। তবে আশপাশের লোকজন ধাওয়া দিয়ে নাসিরকে তিনটি ককটেলসহ আটক করে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে যার  তদন্তও চলছে বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ