ঢাকা, শুক্রবার 22 December 2017, ৮ পৌষ ১৪২৪, ৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতায় রংপুরে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি ----রিজভী

 

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সরকারের আজ্ঞাবহ আখ্যা দিয়ে বিএনপি বলেছে- ইসির ব্যর্থতার কারণে রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রংপুরের নির্বাচনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে এই অভিযোগ করে বলেন, আমাদের জানা মতে রসিক নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম ছিল। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সরকার নানাভাবে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করেছে। তারই প্রতিফলন ঘটলো নির্বাচনে ভোটারদের টার্ন আউটের মধ্য দিয়ে। ভীতি ছড়িয়ে পড়ায় ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির হার একেবারেই কম।

প্রসঙ্গত গতকাল রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রংপুরের নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে বার বার বিএনপি সংশয় প্রকাশ করে আসছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করে আসছিল যে রংপুরে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। 

রিজভী অভিযোগ করেন, সকালেও কয়েক জায়গায় প্রশাসনের ব্যক্তিদের সহায়তায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর খবরও আমরা পেয়েছি। ভোটের আগের রাতে শহীদুল নামে বিএনপির এক নেতাকে গ্রেফতার করে নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি ধামকিও দেখানো হয়েছে। রিজভী উল্লেখ করেন, ভোট চুরি দুইভাবে হতে পারে-একটি হলো ভোট সন্ত্রাসের মাধ্যমে অন্যটি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে। রসিক নির্বাচনে দুই পদ্ধতিই প্রয়োগ করেছে ভোটারবিহীন সরকার।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে রসিক নির্বাচনে বিএনপির পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মহাজোটের ক্যাডার এবং প্রশাসনের দায়িত্বরত সরকারদলীয়রা বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টদেরকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। এমনকি ধানের শীষের প্রার্থী কাউসার জামান বাবলাকে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে। আজ্ঞাবহ ইসির ব্যর্থতার কারণে রসিক নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারেনি। নির্বাচন শুরুর পর থেকে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য ও কেন্দ্র দখলে সেটিরই বাস্তবতা ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, ফতেপুর স্কুল এবং দেউডোবা ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। ভোট দিতে ব্যাপকভাবে বাধা দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এছাড়া কেল্লাবন্দ ভোট কেন্দ্রও সন্ত্রাসী কায়দায় দখলে নিয়ে কিছু সময় ব্যালটে সিল মারে। অন্য কেন্দ্রগুলোতেও বিএনপি সমর্থিত এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালটে সিল মারার খবর পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদ আজ সারাদিন নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে প্রভাব বিস্তার করলেও ইসি চোখ বন্ধ রেখেছে। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় দায়িত্বরত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সহায়তায় সরকারের লোকেরা কারচুপির মাধ্যমে ব্যালটে সিল মেরে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আয়োজন করছে কী না সে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে অতীতে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বার বার রসিক নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছি এবং ইসিকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু ইসি সরকারের ইশারায় ঠুঁটো জগন্নাথের মতো নীরবতা পালন করেছে। বিরোধী দলগুলোর ক্ষেত্রে ইসি বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে।

তিনি বলেন, ইসি জানিয়েছে ১৯৩টির মধ্যে ১২৮টি ভোট কেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই সংখ্যা আরো বেশি হলেও ইসি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বললেও ইসি তা করেনি। বরং সেখানে আনসার সদস্যের নামে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগের নামে বেছে বেছে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের ক্যাডারদেরই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ