ঢাকা, শুক্রবার 22 December 2017, ৮ পৌষ ১৪২৪, ৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আইনি প্রক্রিয়ায় লিগ্যাল  নোটিশের জবাব দেয়া হবে   -আইনমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার : আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার লিগ্যাল নোটিশের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এর জবাব দেয়া হবে। যেহেতু লিগ্যাল নোটিশ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ তাই আইনগতভাবে এর জবাব দেয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁও-এ ন্যাশনাল চিলড্রেন'স টাস্কফোর্স আয়োজিত ‘চাইল্ড পার্লামেন্ট অধিবেশন-২০১৭' শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, লিগ্যাল নোটিশ আমরা এখনো হাতে পাইনি। পাওয়ার পর এটা নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে। এরপর জবাব দেয়া হবে। লিগ্যাল নোটিশ একটি আইনি পদক্ষেপ, আমরাও আইনি প্রক্রিয়ায় তার জবাব  দেবো।

সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের সম্পদ নিয়ে দেয়া বক্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত মঙ্গলবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠান বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

‘শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাইল্ড পার্লামেন্টের ১৫তম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, শিশুদেরকে সমতা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যত। তাই শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়নে ও  শিশু অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সরকার তার সবই করবে। শিশু নির্যাতন করে কেউ পার পাবেনা।  

তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক শিশু ও তরুণ ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম, বাল্যবিবাহ, উন্নতমানের স¦াস্থ্যসেবার অভাব, অপুষ্টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার, সহিংসতা ও নির্যাতন ইত্যাদি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে যা সরকারের নজরে আছে । তাদের এসব অবস্থার উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টা সর্বদা আন্তরিক ও টেকসই।

তিনি বলেন, শিশু অধিকার রক্ষা সংক্রান্ত দুটি চুক্তি যথা, শিশু অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক কনভেনশন এর অনুস্বাক্ষরকারী প্রথম কয়েকটি দেশের অন্যতম হলো বাংলাদেশ। অনুস্বাক্ষরকারী হিসেবে শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক দায়িত্ব মূলত রাষ্ট্রের ওপর। এ দায়িত্ব পালনের জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নেয়া প্রয়োজন তা নেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন, বিধি ও নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং শিশুর প্রতি সহিংসতা দমন বিষয়ক আইনগুলোকে আরও বেশি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।

শিশু হত্যা ও সহিংসতার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুতবিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামীতে এধারা অব্যাহত রাখা হবে।  নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিদ্যমান ৫৪ টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি আরো ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে । 

আইনমন্ত্রী মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩৯.৭ শতাংশই শিশু। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং আমাদের রূপকল্প ও কৌশলগত পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এদেরকে আমাদের কর্মকান্ডের কেন্দ্রে রাখতে হবে। সে লক্ষ্যে সরকার সব শিশুর জন্য নিরাপদ আবাস, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও  শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কোথায় এবং কিভাবে শিশুরা দারিদ্র, দীর্ঘস্থায়ী ও স্বল্পকালীন পুষ্টিহীনতা, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

অধিবেশনে দেশের ৬৪টি জেলা থোকে আসা চাইল্ড পার্লামেন্টারিয়ান এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ