ঢাকা, শুক্রবার 22 December 2017, ৮ পৌষ ১৪২৪, ৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাগমারায় গরুর খাবারের  প্রধান তালিকায় আলু

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা ঃ রাজশাহীর বাগমারায় কৃষকরা স্টোরজাত আলুর অব্যাহত দরপতনে এখন গরুর খাদ্য হিসেবে সস্তা দামে বিক্রি চলছে। গরুর ভুসির চেয়ে কম দামে পেয়ে গাভী ও মৎস্যচাষিরা স্টোরে কমদামে আলুর বস্তা ক্রয় করতে স্টোরে ছুটছেন। বর্তমানে ১ বস্তা আলু (৮৫ কেজি) ৩ শ’ থেকে ৪ শ’ টাকা বিক্রি চলছে। আলুর বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় ও অব্যাহত দরপতনে অতিরিক্তি আলু স্টোরজাত থাকায় স্টোর মালিক, ব্যবসায়ী ও চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মওসুমে আলু বিক্রির পর তারা পুনরায় আলু চাষের জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও বেশী দামের আশায় আলু স্টোরে মজুত করে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে অন্য তরি-তরকারির দাম বেশী হলেও আলুর দাম নিতান্তই কম। পটল ৩০ টাাকা, বেগুন ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ২৫ টাকায় বিক্রি চলছে। অথচ আলু বিক্রি চলছে ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা কেজি। বাজারে নতুন আলু উঠায় স্টোরে পাইকাড়ি হিসেবে ক্রেতা মিলছে না। বাধ্য হয়ে স্টোরজাত আলু ফাঁকা করতে কম দমে আলু ছাড়তে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে ক্রেতা শুন্য অবস্থা কমদামে গরু ও মাছ চাষিরা স্টোরে সস্তা আলু খাদ্য সাশ্রয়কররুপে স্টোরে ভিড় করছে। উপজেলার দ্বিপুর গ্রামের গরুর খামারী সাইফুল ইসলাম জানান, খইল, ভুসির মূল্য বেশী। এ থেকে গরুর সুস্বাদ খাদ্য তালিকায় প্রধান হিসেবে আলু হিসেবে বেছে নিয়েছেন। গত ৪ দিন পূর্বে ৪ শ’ টাকা করে ৬ বস্তা আলু ক্রয় করে। তা শেষ হবার কারণে বৃহস্পতিবার ২৫০ টাকা দরে ৮ বস্তা আলু ক্রয় করেছেন। সস্তা দামে আলু ক্রয় করে তার মত অনেকে স্টোরের আলু গরু ও মাচের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করছেন বলে তিনি জানান।  এদিকে স্টোরের মালিক, আলু ব্যবসায়ী ও আলুচাষীরা ন্যায্যমূল্যে আলু বিক্রি করতে না পেরে মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম জানান, উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। মওসুূমে আলু বিক্রির পর পতিবারের ন্যায় অতিরিক্ত আলু এলাকার কৃষকরা স্টোরজাত করে। এলাকায় যে পরিমাণ স্টোর রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম সংকলণ ক্ষমতা। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌর সভা মিলে ৪টি স্টোরে ৮ লক্ষ বস্তা রাখা যায়। এবারে অব্যাহত আলুর দরপতনে আলুর বেহাল অবস্থা। তবে আগামীতে এই অবস্থার পরিবর্তন হয়ে দাম বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে উপজেলার বসার কোল্ড স্টোরের স্টোর কিপার আইনুল হক জানান, নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে বর্তমানে তা ২০ টাকায় মিলছে। সে কারণে পুরাতন আলুর ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্টোর ফাঁকা করতে হবে। এ কারণে তারা অলস সময় কাটাচ্ছে। মাত্র ২/৩ মাস পর আলু স্টোরজাত করতে সময় হয়ে যাবে। আলুর দুরাবস্থায় তারা বেকায়দায় রয়েছেন বলে জানান। একই ভাবে উপজেলার বালানগর গ্রামের আলুচাষি মজিবর রহমান বলেন, চাষের আবারো সময় আসলেও স্টোরজাত আলু বিক্রি করতে না পেরে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে আলুর মূল্য প্রতি বস্তা বার্মা (৮৫ কেজি) ৩৫০/-টাকা থেকে কার্টিনাল ২৫০/-টাকায়। খুচরা বাজারে পুরাতন আলু বিক্রি চলছে ৫ টাকা থেকে ৭ টাকায়। মওসুমের চেয়েও দাম কম হওয়ায় ও অতিরিক্ত আলু চাষের উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে এবারে আলু চাষিরা আলুর পরিচর্যায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ