ঢাকা, শুক্রবার 22 December 2017, ৮ পৌষ ১৪২৪, ৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিখোঁজের দুই বছর পর তিন জনের কঙ্কাল উদ্ধার

খুলনা অফিস : দুই বছর আগে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আরাজী গ্রামের নিখোঁজ হওয়া ইমরান (২০) এর লাশের কঙ্কাল বটিয়াঘাটার বালিয়াডাঙ্গা থেকে উদ্ধারের মামলার এক আসামির দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রোববার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মারুফ আহমেদ রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেছেন। আসামি হলেন-বটিয়াঘাটা উপজেলার আড়োয়াডাঙ্গা গ্রামের ইলিয়াস শেখের ছেলে আরিফ শেখ (২৯)। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিউদ্দিন আরিফ শেখকে আদালতে হাজির করে ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। এ মামলায় আড়োয়াডাঙ্গা গ্রামের রজব আলি সওদাগরের ছেলে জুলহাস সওদাগর (৩৫) কে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ডুমুরিয়া উপজেলার আরাজী গ্রামের মৃত নওশের আলি খানের ছেলে মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে তালাক হয়ে যায় স্ত্রী রহিমা বেগমের। তালাকের পর রহিমা বেগম এক বছরের ছেলে ইমরানকে নিয়ে দাকোপ উপজেলার কামারখোলা গ্রামের কুটি ফকিরের ছেলে মো. আজম ফকিরকে বিয়ে করে। ইমরান বড় হলে পিতা আসাদুজ্জামানের কাছে ফিরে আসে। ২০১৫ সালের ১১জুলাই আজম ইমরানকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে নিখোঁজ থাকে ইমরান। এ ঘটনায় ইমরানের পিতা আসাদুজ্জামান বাদি হয়ে আজম ফকির ও ইমরানের মা রহিমা বেগমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন যার নং- ১১ তাং- ২০/১০/১৬।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শফিউদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ আগস্ট আজমের বসত বাড়ি থেকে রহিম ও ইমরানের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তদন্তে গত ১৪ডিসেম্বর দুই বছর পূর্বে নিখোঁজ হওয়া জেলার দাকোপ উপজেলার কামারখোলা গ্রামের মো. মোস্তফা গাজীর কঙ্কাল সিআইডি’র সিনিয়র এএসপি রফিউদ্দিন মো. জুবায়ের ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. হেলাল উদ্ধার করেন।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, মামলার প্রধান আসামি আজম পলাতক রয়েছেন। তবে অপর আসামি আজমের স্ত্রী রহিমা জামিনে। এছাড়া নগরীর বাগমারা মেইন রোডের বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে নুর ইসলাম ওরফে বাবু (২২), আড়োয়াডাঙ্গা গ্রামের ইলিয়াস শেখের ছেলে আরিফ শেখ ও রজব আলি সওদাগরের ছেলে জুলহাস সওদাগর কারাগারে রয়েছেন। ধারনা করা হচ্ছে, আজম ফকিরের বাড়িতে তল্লাশি করা হলে আরো হয়তো অনেক কঙ্কাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আজম যাদের হত্যা করে লাশ মাটির নিচে চাপা দিয়েছে তাদের হত্যার আগে দেহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটে নিয়ে বিক্রি করেছে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ