ঢাকা, শুক্রবার 22 December 2017, ৮ পৌষ ১৪২৪, ৩ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সেই জোড়া লাগানো শিশু দুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন শ্রীনগর উপজেলা ইউএনও

এম তরিকুল ইসলাম, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পেটে জোড়া লাগানো নেই শিশু দুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার শ্রীনগর উপজেলা ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম দোগাছি গ্রামে গিয়ে শিশু দুটির খোঁজ খবর নেন। এ সময় শিশু দুটির খাবার ও চিকিৎসার জন্য যাতায়াত সহায়তা বাবদ তিনি নগদ ১২ হাজার টাকা শিশুদের বাবা মো. আবু কালামের হাতে তুলে দেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মাহফুজা পারভীন। আজ শুক্রবার শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিক্যালে কলেজে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর থেকে তিনি শিশু দুটি সম্পর্কে অবগত হন। ঘটনাটি তার হৃদয় স্পর্শ করে। তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার সাথে কথা বলেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিনি শিশু দুটি চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সমাজ সেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তির উদ্যোগ নিয়েছেন। আজ শুক্রবার শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসার বিষয়। শিশু দুটির পরিবারের অর্থিক অবস্থা তেমন ভাল নয়। তাই শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসন শিশু দুটির চিকিৎসার ভার গ্রহণ করেছে।  

উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার দোগাছি গ্রামের মো. আবু কালামের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার রিতা (৩৪) গত ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ঢাকার ধুপখোলা আজগর আলী হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে এক সাথে পেটের সাথে জোরা লাগানো দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান দুটি এ ভাবে জন্ম নেয়ার ফলে মা-বাবা আতœীয় স্বজন সবাই দুচিন্তায় পড়েন। শিশুদের বেড়ে উঠা ও খাওয়া দাওয়ায় মারাত্মক সমস্যার সৃস্টি হচ্ছিল। তারা এ পযর্ন্ত প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরছ করেছেন বাচ্চা দুটো সুস্থ রাখার জন্য। অবশেষে একসাথে পেটে জোড়া লাগানো জমজ শিশু দুটিকে তাদের মার সাথে গতকাল ১০ ডিসেম্বর রোববার হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়ার পরে গ্রামের বাড়ি দোগাছিতে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশু দুটির বাবা মো. আবু কালাম জানান, বাচ্চা দুটি আজগর আলী হাসপাতালের চিকিৎসক প্রফেসর (নবজাতক) জাবরুল এসএম হক এর তত্ত্বাবধানে ছিলো। চিকিৎসক জানিয়েছেন শিশু দুটির একটি হার্ট ও একটি লিভার রয়েছে। তাছাড়া একটি শিশুর মাথার তালুটা পুরোপুরি হয়নি। আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশু দুটিসহ তার মাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। চিকিৎসক জানিয়েছেন, যদি বাচ্চা শিশু দুটি ৪ থেকে ৬ মাস বেঁচে থাকে, তবে অপারেশনের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে দুটি বাচ্চার মধ্যে যে কোন একজনকে বাঁচানো সম্ভব হবে। কেননা শিশু দুটির একটি হার্ট ও একটি লিভার রয়েছে।  একটি হার্ট ও একটি লিভার দিয়ে দুজনকে একসঙ্গে বাঁচানো সম্ভব নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ