ঢাকা, শনিবার 23 December 2017, ৯ পৌষ ১৪২৪, ৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার:  পেঁয়াজের দাম কমছেই না। পেঁয়াজের ঝাঁজে বাজার অস্থির। রাজধানীর কাঁচাবাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে ৭ থেকে ১৫ টাকা। বেড়েছে চালের দামও। এদিকে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাকে দায়ী করেছে ভোক্তারা।

নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় কয়েক মাস ধরে চড়তে থাকা দেশীয় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমলেও দেশীয় পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা ওই দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ এখনও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, শ্যামবাজার, কাওরান বাজার ও মহাখালীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কাওরান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁচাবাজারের পশ্চিম দিকে অবস্থিত পেঁয়াজের পাইকারি দোকানগুলোর কোনোটিতে পুরোনো আবার কোনটিতে দেখা গেছে নতুন পেঁয়াজ। দেশীয় নতুন পেঁয়াজের দাম প্রতিকেজি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পুরোনো পেঁয়াজ এখনও বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়।

কাওরান বাজারে পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা সোহরাব বলেন, গত তিন-চার দিন ধরে তারা শুধু নতুন পেঁয়াজই বিক্রি করছেন। এসব পেঁয়াজের দাম প্রতিদিনই একটু একটু করে কমছে। তবে পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। কেজিতে কমেছে ১০ টাকা।

এই বাজারের আরেক পাইকার মোহাম্মদ আলী জানান, পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার এই সময়ে বিক্রিও কমে গেছে। আগে প্রতিদিন যেখানে ১০ থেকে ১২ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতেন, সপ্তাহখানেক ধরে তা তিন থেকে চার মণে নেমে এসেছে।

ঢাকার মুদি দোকানগুলোতেও গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিকেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পুরান পেঁয়াজ এদিন চোখে পড়েনি। প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মুদি দোকানগুলোতে। আর দেশি নতুন পেঁয়াজ রাখা হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকা করে।

ভারতের এশিয়ান এজ প্রত্রিকার ১৮ ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার দেশটির পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার লাসালগাঁও এগ্রিকালচারাল প্রডিউস মার্কেট কমিটিতে (এপিএমসি) প্রতিকেজি পেঁয়াজের গড় মূল্য ছিল ২৮ রুপি। অথচ সে পেঁয়াজ বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়।

চলতি বছর জুলাইয়ের শেষভাগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ২০-২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকার উপরে ওঠে। এরপর মাস দুয়েক স্থিতিশীল থেকে অক্টোবরের শুরুতে দাম আবারও বাড়তে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত কেজিপ্রতি ১৩০ টাকায় গিয়ে উঠে।

শীত শুরুর পর ঢাকার বাজারে অধিকাংশ শাক সবজির দাম কমলেও গাজর, টমেটো ও কাঁচামরিচের দাম ছিল চড়া। তবে এদিন মিরপুর-২ নম্বর কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি টমেটো ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর ভারতীয় টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।

মো. ইউনুস নামের এক বিক্রেতা জানান, গত তিনদিন ধরেই টমেটোর দাম কমছে। এতদিন যেটা   ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হত, এখন সেটা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচের দামও কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়, যা এতদিন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

এছাড়া শিম ৩০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, পেঁয়াজের কলি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে। ফুল কপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে।

শুক্রবার রাজধানীর হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ (পুরনো) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ (নতুন) ৭৫ টাকা, এবং আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। এছাড়া রসুনের দাম দেশি ৬০ টাকা, আমদানি করা ৭৫ টাকা।

এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি বেগুন প্রকারভেদে ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, পটল ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিচ ২৫ টাকা, কাচামরিচ ২০ টাকা কমে ১০০ টাকা, পেঁপে ৩৫ টাকা, সিম প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, মূলা ৩০ টাকা, নতুন আলু ২৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, প্রতি পিস বাধাকপি ৩০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গোশতের বাজারে প্রতি কেজি গরুর গোশত ৫০০ টাকা, খাসির গোশত ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৩৫ টাকা, লেয়ার মুরগি প্রতি পিস আকারভেদে ১৫০ থেকে ২২০ টাকা ও পাকিস্তানি মুরগি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেটসহ সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজিতে গড়ে ২ টাকা। তবে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা।

কাওরান বাজারের পাইকারি বিক্রেতারা প্রতিকেজি মিনিকেট বিক্রি করছেন ৬০ থেকে ৬৮ টাকায়। আটাশ জাতের চাল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায়। আর আমদানি করা স্বর্ণা চাল ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা দরে। খুচরা পর্যায়ে এই দাম আরও বেশি। ধানের দাম বেশির অজুহাতে মিলাররা দাম বাড়িয়েছেন, বলছেন বিক্রেতারা।

তবে স্বস্তি রয়েছে ডিম ও মুরগির দামে। হাঁসের ডিম ৪০ টাকা আর ফার্মের মুগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা হালি দরে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই ১২০ টাকা কেজিতে।

ভোক্তাদের অভিযোগ সরকারের বাজার মনিটরিং ব্যবস্তা না থাকার কারণে নিয়ন্ত্রণে আসছে না। যদি বাজার ব্যবস্থা জোরদার করা যেত তাহলে বাজার লাগামহীন হতো না। সরকার চাইলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চাই বাজার ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ