ঢাকা, শনিবার 23 December 2017, ৯ পৌষ ১৪২৪, ৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িকতা,  উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের ইতিবৃত্ত

 

মাহমুদ ইউসুফ ॥ পূর্বপ্রকাশিতের পর ॥ : তাদের নৃশংস অবিচার প্রসঙ্গে শামসুদ্দিন তালিশ লিখেছেন, ‘আকবরের সময় থেকে শায়েস্তা খানের চট্টগ্রাম বিজয়কাল পর্যন্ত আরাকানের মগরা ও পর্তুগিজ জলদস্যুরা (পূর্ব) বাংলা লুণ্ঠন করত। তারা হিন্দু-মুসলিম স্ত্রী-পুরুষ ছোটো বড় সকলকেই বন্দি করে তাদের হাতের পাতা ছিদ্র করে তন্মধ্যে সরু বেত প্রবেশ করিয়ে বাঁধত এবং একজনের উপর আর একজনকে চাপিয়ে জাহাজের পাটাতনের নি¤েœ ফেলে রাখত। লোকে যেমন পাখীকে আহার দেয়, সেরূপ তারা প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় উপর হতে বন্দিদের আহারের নিমিত্ত চাউল ছড়িয়ে দিত। মগেরা বহুকাল ধরে দস্যুতা করার ফলে তাদের দেশ শ্রীসম্পন্ন হয়েছে ও তারা সংখ্যায় বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রমেই জনশূণ্য হয়েছে এবং দস্যুদিগকে বাধা দিবার শক্তিও কমে আসতেছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে এই দুস্যদের যাতায়াতের পথে বাকলা অঞ্চল এবং বাঙালার অন্যান্য অংশ পূর্বে শস্যশালী  এবং গৃহস্থের পল্লী দ্বারা পরিপূর্ণ ছিলো। প্রতিবর্ষে এই প্রদেশ হতে বহু পরিমাণ সুপারির কর আদায় হয়ে রাজকোষ পূর্ণ করত। কিন্তু এই দুস্যদল লুণ্ঠন ও নরনারী হরণ করে এই প্রদেশে অবস্থা এমন করে ফেলেছে যে, তথাও একখানিও বসতবাটি নাই অথবা একটি প্রদীপ জ¦ালাবার লোকও নাই।’ (জে এন সরকার: স্টাডিজ ইন মুঘল ইন্ডিয়া ও মধ্যযুগের বাঙলা;  উদ্বৃতি: আবদুল মওদুদ: মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশঃ সংস্কৃতির রূপান্তর, পৃ ৩১)

জঙ্গি রাজা গণেশের গণহত্যা : রাজা গণেশ (১৪১০-১৪১৭) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ, তাঁর পুত্র সাইফুদ্দিন হামজা শাহ, তদীয় পুত্র মুহাম্মাদ শাহ, শিহাবউদ্দিন বায়েজিদ শাহ, আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ- এই পাঁচ জন মুসলিম সুলতানকে পর্যায়ক্রমে খুন করে বাংলার সিংহাসন দখল করে ১৪১০ সালে। (সুখময় মুখোপাধ্যায়: বাংলার ইতিহাস, পৃ ২৬৭-২৭৩) কংস গণেশ ক্ষমতারোহনের সাথে সাথে মুসলিম সুফি সাধক ও দরবেশদের কঠোর হাতে দমন করেন। পা-ুয়ার নামজাদা দরবেশ বদর উল ইসলামকে হত্যা করেন গণেশ বা কংস। একই দিনে পা-ুয়ার অন্যান্য দরবেশকে পানিতে ডুবিয়ে বধ করা হয় গণেশের হুকুমে। স¤্রাট আকবর ও জাহাঙ্গিরের সভাসদ মুল্লা তকিয়ার লেখা বয়াজ থেকে জানা যায়, ‘যখন হিন্দু জমিদার কানস সমগ্র বাংলা প্রদেশের উপর আধিপত্য অর্জন করলেন, তিনি মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার সংকল্প করলেন এবং তার রাজ্য থেকে ইসলাম মূলোচ্ছেদ করাই হয়ে দাঁড়ায় তাঁর লক্ষ্য।’ (সুখময় মুখোপাধ্যায়: বাংলার ইতিহাস, পৃ ২৮২-২৮৬)

ইউরোপে দানবীয় উল্লম্ফণ : ইউরোপর ইতিহাস মাত্রই রক্তহানির ইতিহাস, জীবনহানির ইতিহাস। ১৫৬২ সালে ফ্রান্সের ভ্যাসিতে গাইজের (ক্যাথলিক) সৈন্যরা গির্জায় ঢুকে উপাসনারত সকল উগারাদের হত্যা করে। ১৫৭২ সালের আগস্টে ফ্রান্সে উগানোদের ওপর নরনিধন যজ্ঞ সংঘটিত হয়। শুধু প্যারিসেই ৩-৪ হাজার উগানোকে খুন করা হয়। সকল প্রদেশে চলে হত্যাকা-। ধর্মীয় হাঙ্গামায় তাদের লাশ খ--বিখ- করে ক্যাথলিকরা। ফ্রান্সে ক্যাথলিক ও উগানোদের মধ্যে ৭টি যুদ্ধের পর তাদের বিবাদ নিষ্পত্তি হয়। (এইচ.এ.এল.ফিসার: ইউরোপের ইতিহাস, পৃ ৭৬-৭৯)

আমেরিকায় অভ্যন্তরীণ গণহত্যা : আমেরিকা গঠনের পর ১৮৬১ সালে সিভিল ওয়ারে জড়িয়ে ইউনিয়ন ও ফেডারেসির মধ্যে দ্বন্দ্বে প্রায় ৮ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটে। আজও এর দায়দায়িত্বে সদুত্তর এখনও ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়নি। (মাসিক প্রেরণা, মার্চ ২০১৭, পৃ ৩০)

রাজা কন্দর্পনারায়ণ রায় ও রাজা রামচন্দ্রের নাশকতা : বাকলা চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম বরিশাল। প্রাচীন ও মধ্যযুগে এটি একটি স্বতন্ত্র দেশ ছিলো। মধ্যযুগে এ অঞ্চল শাসন করত কায়স্থ রায় রাজারা। দনুজমর্দ্দন দে ছিলো এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা; যার রাজধানী ছিলো বাউফলের কচুয়া। দুনজমর্দ্দন দের উত্তরসূরী কন্দর্পনারায়ণ রায় (১৫৮২-১৫৯৮) ছিলেন এ বংশের অষ্টম রাজা। তিনি প্রথমে রাজধানী কচুয়া থেকে বাকেরগঞ্জের বিশারীকাঠিতে স্থানান্তর করেন। কিছুকাল পৃরে বিশারিকাঠি পরিত্যাগ করে বর্তমান বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলাধীন ক্ষুদ্রকাঠিতে আসেন। কাছাকাছি পঞ্চনদের সঙ্গমস্থলে হোসেনপুর গ্রাম মন:পুত হওয়ায় তথায় রাজধানী স্থাপন করাই সুস্থির করেন। তৎকালীন হোসেনপুরে একজন বলবান সরদারের অধীনে বহু মুসলমান সমাকীর্ণ জনপদ ছিলো। রাজা কন্দপনারায়ণ রায় উক্ত মুসলমান সরদারকে তার অনুচরগণসহ হোসেনপুর ত্যাগ করতে বলেন; কিন্তু সরদার তেমন সহজ লোক ছিলেন না, তার যথেষ্ট লোকবল ও কিছু যুদ্ধোপকরণ ছিলো। তজ্জন্য সরদার দম্ভের সাথে রাজার আদেশ প্রত্যাহার করলেন এবং হোসেনপুরের  উত্তরাংশে বর্তমান কথিত ডহরপাড়া নামক স্থানে উভয় পক্ষে তুমুল সংগ্রাম হলো। উক্ত সংগ্রামে রাজা কন্দর্পনরায়ণ রায়ের অমিততেজে মুসলমান সরদার সদলবলে নিহত হলেন। অনেক মুসলমান ভীত ও ত্রাসিত হয়ে হোসেনপুর পরিত্যাগ করে অন্যত্র প্রস্থান করেন। হোসেনপুরের উত্তর পূর্বে দুই মাইল পরিমাণ স্থান মুসলমান শূণ্য হলো। রাজা রায় স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে আহন হন এবং ক্ষুদ্রকাঠিতে পৌঁছেই দেহত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে রামচন্দ্র রায়ের নবম রাজা হিসেবে অভিষেক ঘটে ১৫৯৮ সালে। সিংহাসনে বসেই তিনি হোসেনপুর পুরোপুরি মুসলিম শূন্য করে তদস্থলে হিন্দু আবাস গড়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক বৃন্দাবন চন্দ্র পূততু- তাঁর ‘চন্দ্রদ্বীপের ইতিহাস’ বইয়ে বলেন, ‘হোসেনপুরের মুসলমান অধিবাসীগণকে বিতাড়িত করে রাজা রামচন্দ্র রায় রাজধানীর চতুর্দিকে নানা শ্রেণির ব্রাহ্মণ, বৈদ্য, উচ্চ ও নি¤œ শ্রেণির কায়স্থ, শঙ্খবণিক, গন্ধবণিক, মালাকার, কুম্ভকার রাজ, পাটনী, কাহার, তৈলিক, কর্মকার প্রভৃতি জাতির বসতি করান। (বৃহত্তর বাকরগঞ্জের ইতিহাস, সংগ্রহ ও সম্পাদনায়: তপংকর চক্রবর্তী ও সিকদার আবুল বাশার,  পৃ ৫৪৯-৫৫১)

মারাঠা বর্গীদের কোপন-ক্রূরতা : আঠার শতকে ভারতবর্ষে আবির্ভাব ঘটে এক ভয়ঙ্কর ত্রাস বাহিনী। হিন্দু মারাঠা-বর্গীদের লুণ্ঠনবৃত্তির কাহিনি স্মরণে আজ কেঁপে ওঠে মানব হৃদয়। সবরকম পাপাচারে তারা ছিলো দক্ষ ও পটু। ১৭৪২ থেকে ১৭৫০ সাল পর্যন্ত তারা বিহার ও বাংলায় দস্যুকার্য চালায়। সারা দেশের ওপর মারাঠা দস্যুদল নিঃশঙ্কচিত্তে সফর করত ধ্বংস ও বীভৎস অত্যাচারের মূর্তিমান প্রেত-মূর্তির মতো। হলওয়েল লিখেছেন, ‘তারা ভীষণতম ধ্বংসলীলা ও ক্রুরতম হিংসাত্মক কার্যে আনন্দ লাভ করত। তারা তুঁতগাছের বাগানে ঘোড়া চড়িয়ে রেশ উৎপাদন একেবারে বন্ধ করে দেয়। দেশের সর্বত্র বিভীষিকার ছায়া পড়ে। গৃহস্থ, কৃষক ও তাঁতিরা সকলেই গৃহত্যাগ করে পলায়ন করেছে। আড়ংগুলো পরিত্যক্ত, চাষের জমি অকর্ষিত...খাদ্যশষ্য একেবারে অন্তর্র্হিত, ব্যবসা বাণিজ্য একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে উৎপীড়নের চাপে।’ (হলওয়েল: ইন্টারেস্টিং হিস্টরি: ইভেন্টস, পৃ ১২১-১৫১; উদ্বৃতি: আবদুল মওদুদ: মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশঃ সংস্কৃতির রূপান্তর, পৃ ৩১-৩২) মারাঠা বর্গীদের অমানুষিকতা, নিষ্ঠুরতা ও দানবীয় দানবতায় বাংলার সকল শ্রেণি, পেশা, ধর্ম, বর্র্ণের মানুষ ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল। সেই মারাঠা জাতির জনক শিবাজীর উদ্দেশে ‘শিবাজি-উৎসব’ কবিতা লিখে বাংলাভাষার কথিত শ্রেষ্ঠ কবি, বিশ^কবি। ‘তবে রাজকর লয়ে আটকোটি বঙ্গের নন্দন/দাঁড়াইব আজ।’

গঙ্গারাম নামক জনৈক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ থেকে জানা যায়, বর্গীরা সহসা উদিত হয়ে গ্রাম ঘিরে ফেলে, তখন সকল শ্রেণির মানুষ যে যা পারে অস্থাবর মালপত্র নিয়ে পলায়ন করে। বর্গীরা সবকিছু ফেলে দিয়ে কেবল সোনা-রূপা কেড়ে নেয়। তারা কারও হস্ত কর্তন করে, কারও কর্তন করে কর্ণনাসিকা, কাউকে একেবারে হত্যা করে। সুন্দরী স্ত্রীলোক দেখলেই টেনে নিয়ে যায় ... তারপর বর্গীরা তার উপর অকথ্য পাপাচার করে পরিত্যক্ত করে যায়। লুণ্ঠন শেষে গ্রাম-কে-গ্রাম জ¦ালিয়ে দেয়। প্রদেশের সর্বত্র এরূপ বীভৎস লুণ্ঠন ও অত্যাচার চালায় ... তারা কেবল চীৎকার করে ‘‘টাকা দাও, টাকা দাও’’ টাকা না পেলে তারা হতভাগ্য মানুষের নাকে পানি ঢুকিয়ে কিংবা পুষ্করিণীতে ডুবিয়ে হত্যা করে ... ভাগিরথী পার হয়ে অপর তীরে গেলে তাদের অত্যাচার থেকে নিষ্কৃতি মিলে।’ বর্ধমান রাজার সভাপ-িত বানেশ^র বিদ্যালঙ্কারের লেখা থেকে জানা যায়, ‘শাহু রাজার সৈন্যদের তথা মারাঠা-বর্গীদের থেকে গর্ভবর্তী নারী ও শিশুরাও রক্ষা পেত না। সকল মানুষকে হত্যা করা ও লুটতরাজ করাই ছিলো তাদের ব্রত।’ (হিস্টরি অব বেঙ্গল, দ্বিতীয় খ-, পৃ ৪৫৭-৪৫৮; উদ্বৃতি: আবদুল মওদুদ: মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশঃ সংস্কৃতির রূপান্তর, পৃ ৩২)

পোপ দ্বিতীয় জুলিয়াসের দুরভিসন্ধি : ষোড়শ শতকের গোড়ার দিকে ভেনিস প্রজাতন্ত্র শক্তিশালী হলে পোপ দ্বিতীয় জুলিয়াস ঈর্ষান্বিত হয়। ভেনিসকে দখল ও লুটতরাজ করার জন্য তিনি ১৫০৮ সালে ক্যামব্রাই সংঘ গঠন করেন। মিলানের অধিপতি ফ্রান্সের রাজা দ্বাদশ লুই প্রায় সব যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং ভেনিস দখল করে নেন। পোপ লুণ্ঠিত দ্রব্যের কিছু অংশ পান। মিলান ও ভেনিস অধিকারের পর ইতালিতে ফ্রান্স কর্তৃক অত্যাধিক আধিপত্র প্রতিষ্ঠায় পোপ অত্যান্ত ভীত হন। তাই ইতালির দুই প্রদেশ থেকে ফ্রান্সকে বিতাড়িত করার নিমিত্তে ১৫১১ সালে তিনি পবিত্র সংঘ গঠন করেন। এর সদস্য পোপ জুলিয়াস, ম্যাক্রিমিলিয়ান, ফার্দিন্যান্ড ও ভেনিস। (প্রফেসর ড. ওয়াজেদ আলী, ইংল্যান্ডের ইতিহাস, পৃ ৩০)

ইউরোপে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধ : ইউরোপে সাত বর্ষব্যাপী যুদ্ধ শুরু হয় ১৭৫৬ সালে এবং এর খতম হয় ১৭৬৩ সালে। এ সময়ে বৃটেন, ফ্রান্স, আমেরিকা, স্পেন, সুইডেন, স্কটল্যান্ড, জার্মান, কানাডা জড়িয়ে পড়ে। এ যুদ্ধে অগণিত ইনসান নিহত হয়। এ যুদ্ধের ফলে ইংল্যান্ড বিশ^ শক্তিতে পরিণত হয় এবং বিশ^ রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। (প্রফেসর ড. ওয়াজেদ আলী, ইংল্যান্ডের ইতিহাস, পৃ ২০৩-২০৯)

তাসমেনিয়ানদের ওপর ইংরেজদের হত্যাযজ্ঞ : তাসমেনিয় দ্বীপে বাস করত তাসমেন উপজাতি। প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে দুনিয়ার বুক থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায় এ সম্প্রদায়। বিচিত্র ছিলো তাদের জীবনযাত্রা। আর বড়ই করুণ তাদের ধ্বংস হওয়ার ইতিহাস। সে ইতিহাসের পাতায় পাতায় রয়েছে শে^তাঙ্গ উপনিবেশকারীদের নারকীয় অত্যাচারের বিভীষিকা। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণপূর্ব উপকূল থেকে ১৫০ কিমি দূরে ২৬০০ বর্গমাইল আয়তন বিশিষ্ট তাসমেনিয় দ্বীপটি পর্বতময়। শ্যামল বনবনানীতে পূর্ণ দ্বীপটির ভূমি খুবই উর্বর ও নদীবিধৌত। ১৬৪২ সালে ডাচ নাবিক তাসম্যান এখানে প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে আগমন করেন। ১৭৭২ সালে দ্বীপটিতে আসে ফরাসিরা। এর ৩১ বছর পর ১৮০৩ সনে ইংরেজরা পাকাপাকিভাবে উপনিবেশ স্থাপন করে। ১৮০৪ সনের ঘটনা : বৃটিশদের দেখে কৌতুকবশত একদল আদিম নরনারী ও শিশু তাদের দেখে হাসছিল। তারা ছিলো নিরস্ত্র ও কোনো প্রকার আক্রমণ করার মতলব তাদের ছিলো না। কিন্তু শে^তাঙ্গ ইংরেজরা সেই নিরপরাধ ও নিরস্ত্র দলটিকে গুলী করে নৃশংসভাবে খুন করে। 

এখানকার সাদা মনের মানুষদের ওপর বৃটিশদের জুলুম নির্যাতন প্রবাদ বাক্যের মতো হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে যেসব ইংরেজ খুন বা রাহাজানি করে ফেরারি হয়ে জঙ্গলে পলায়ন করত আদিম লোকদের ওপর তাদের হিং¯্রতা ছিলো বর্ণনাতীত। তারা আদিবাসীদের শিকারী জন্তুর মতো গুলী করে মেরে আনন্দ লাভ করতে অভ্যস্ত হয়েছিল। মরদদের খুন করার পর জেনানাদের চুরি করে এন জোর করে বেঁধে রাখত, ধর্ষণ করত। এবং অবশেষে করত হত্যা। শুধু তাই নয়, পোষা কুকুরকে গোশত খাওয়ানোর জন্য আদিম দম্পতি ও নাবালক বাচ্চাদের গুলী করে মারত। নি¤েœর দুটি ঘটনা থেকে বৃটিশদের অমানুষিক ও বীভৎস জুলুমের কিছুটা নমুনা পাওয়া যাবে। এক. ইংরেজদের ভয়ে কতিপয় আদিম ইনসানের সবাই জঙ্গলে পালিয়ে গেছে। কিন্তু একজন নয়-দশ মাসের গর্ভবতী মেয়ে পালাতে না পেরে গাছে চড়ে পাতার আড়ালে লুকিয়েছিল। একজন বনরক্ষী শে^তাঙ্গ সেই মেয়েটিকে দেখামাত্র গুলী করে ও গাছ থেকে টেনে নিচে ফেলে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে মেয়েটির মৃত্যু হয়। দুই রাতে আগুনের চারপাশে একদল আদিম পুরুষ, স্ত্রী ও শিশু বসে মৃত আত্মীয়ের জন্য শোক প্রকাশ করছিল। এটা তাদের সমাজরীতি। যাই হোক, একদল বন্দুকধারী ইংরেজ সেখানে হাজির হয়ে সেই নিরস্ত্র অসহায় ও শোক সন্তপ্ত দলটির উপর বেপরোয়া গুলী ছুঁড়তে থাকে। গুলীর আঘাতে নরনারী সবাই আহত হলো ও অনেকেই মারা গেল। তারপর আহত লোকগুলোর ওপর চলেছিল বেওনেটের খোঁচা। অবশেষে তাদের মাথাগুলো ভেঙে দেয়া হলো এবং সর্বশেষে জীবন্ত শিশুগুলোকে নিক্ষেপ করা হলো জ¦লন্ত অগ্নিকু-ে। (ড. নিজামউদ্দিন আহমেদ: পৃথিবীর আদিম সমাজ, পৃ ১৭৪-১৮৩) তাসমেনিয় আদি জনগোষ্ঠীর শেষ লোকটির মৃত্যু হয় ১৮৭৬ সালে। এভাবেই একটি বনেদি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয় কথিত সভ্যরাষ্ট্র ইংল্যান্ড। অথচ আমরা বলি-লিখি-প্রচার করি, স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ে শিখাই ‘বৃটেন হলো আধুনিকতার জনক, সুসভ্যতার সূতিকাগার’! শরমে মাথা হেট হয়ে যায়! মাটি ফাঁক হয়ে যাও! ভেতরে ঢুকে মরে যাই!

স্টালিনের সন্ত্রাস : ১৯২৭ সালে ক্রিমিয়ার স্বায়ত্বশাসন রহিত করে স্টালিন। তার হুকুমে তাতার মুসলিমদের ইতিহাস ঐতিহ্য, তাহযিব তামাদ্দুন ধ্বংস করা হয়। নির্বাসন বা হত্যা করা মুসলিম শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের। শুধু তাই নয়। সাধারণ মুসলমানদেরকে জোর করে নির্বাসনে পাঠানো হলো। যারা নির্বাসনে যেতে অস্বীকার করে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করে স্টালিন ফোর্স। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, স্টালিনের ঘাতক বাহিনীর হাতে প্রায় ১ লাখ মুসলিম শাহাদাত বরণ করে। তবে অভিজ্ঞমহলের ধারণা নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণ হবার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ হত্যাকা-ের কোনো পরিসংখ্যান করা হয়নি। কেবল হত্যাযজ্ঞই নয়, তাতার মুসলিমদের ঐতিহাসিক কীর্তিগুলোও মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। দেড় সহ¯্রাধিক মসজিদ ধ্বংস করে দেয়া হয়। ক্রিমিয়ার মুসলিমরা নাস্তিক হতে অস্বীকার করেছিল বিধায় তাদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়। (কাজী মুহাম্মদ নিজামুল হক: বিশ^ময় ইসলামের পুনর্জাগরণ, পৃ ১৯৫-২০২) সরকারি বাহিনীও তার কবল থেকে নিস্তার পেত না। ১৯৪২ সালের ২৭ জুলাই ঘোষিত স্টালিনের ২২৭ নং অর্ডারে তার নৃশংসতার ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। হুকুম দেয়া হয়, যেসব সৈন্য অনুমতি ছাড়া তাদের অবস্থান ত্যাগ করবে অথবা পিছু হটবে তাদের তখনি গুলী করা হবে। আরো হুকুম দেয়া হয়, যেসব সৈন্য আত্মসমর্পণ করবে তাদের পরিবার এনকেভিডির সন্ত্রাসের শিকার হবে। পিছু হটে যাওয়া সৈন্যদের মেশিনগান দিয়ে গুলী করে হত্যা করার জন্য রনাঙ্গনের পশ্চাতভাগে এনকেভিডির ক্যারিয়ার সৈন্যদের মোতায়েন করা হয়। আত্মসমর্পণকারী সোভিয়েত সৈন্যদের দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। (শাহাদত হোসেন খান: বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, পৃ ৫৭)

১৯৪৬ সালে কলকাতায় মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা : ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে অগণিত বনিআদম হতাহত হয়। হতাহতদের বেশিরভাগই ছিল মুসলমান। এই দাঙ্গা ১৬ই আগস্ট শুরু হয়ে ২০ শে আগস্ট পর্যন্ত পুরোদমে পাঁচদিন ধরে চলেছিল। এটি ছিল কলকাতার হিন্দুদের মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আয়োজিত একটি সহিংস ঘটনা। কলকাতার এই ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সম্পর্কিত সব গবেষণাই প্রাথমিকভাবে হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেসকে দোষী সাব্যস্ত করে। অন্যদিকে দাঙ্গার জন্য মুসলিম লীগ নেতৃত্বের একটি অংশকে দায়ী করে হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেস।

দাঙ্গার আলামত পর্যালোচনা করে প্রফেসর জয়া চ্যাটার্জি লিখেছেন, আশ্চর্য্যজনকভাবে দাঙ্গার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বিশাল সংখ্যক হিন্দুরা ছিল অভিজাত শ্রেণির ... বাঙালি হিন্দু ছাত্র এবং অন্যান্য পেশাজীবী, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ বেশি তৎপর ছিলো ... একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল শিক্ষিত হিন্দু তরুণরা, যাদের হাতে নিহত হয়েছিলেন প্রখ্যাত চক্ষুবিশেষজ্ঞ ডা. জামাল মোহাম্মদ। (জয়া চ্যাটার্জি, বেঙ্গল ডিভাইডেড)।

হিন্দুদের পক্ষে আরও জড়িত ছিল মুক্তিপ্রাপ্ত আইএনএ সৈন্য ও মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা। অধ্যাপক জয়া চ্যাটার্জির গবেষণা থেকে দেখা যায়, ‘এটি ছিল হিন্দু ছাত্র, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সাবেক কর্মচারি ও কর্মকর্তা, কংগ্রেস ও মহাসভার সদস্য, দোকানদার, এবং আশে পাশের মাস্তান ছেলেদের একটি জোট, যারা ১৯৪৬ সালে কলকাতার রাস্তায় হিন্দু দাঙ্গাকারীদের নিষ্ঠুর ও রক্তাক্ত বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিল’ ফলশ্রুতিতে, “দাঙ্গায় হিন্দুদের চেয়ে মুসলিমদের নিহতের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি, এবং প্যাটেল তাঁর স্বভাবসুলভ, শীতল ও ভীতিকর কণ্ঠে এই পাশবিক ঘটনাকে ‘হিন্দুদের শ্রেষ্ঠত্ব’ বলে অভিহিত করেছিলেন” (জয়া চ্যাটার্জি, বেঙ্গল ডিভাইডেড)।

দাঙ্গার সময় মুসলিমদের উপর হিন্দুদের নৃশংসতা এতোই পাশবিক ও বর্বর ছিলো যে, অনেক ইতিবাচক চিন্তাসম্পন্ন হিন্দু মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে আবুল মনসুর আহমদ আলীগড় কোর্টে একজন তরুণ ব্রাহ্মণ মুনসেফের কথা উল্লেখ করেন। হিন্দু ধর্মান্ধদের নির্দয় তান্ডবলীলা দেখার পর সে তরুণ ব্রাহ্মণকে মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। সেই তরুণ দেখেছিল, ‘কিভাবে উচ্চ শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান হিন্দুরা, বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং সিনিয়র আইনজীবীরা তরবারি ও রামদা দিয়ে তাদের আশেপাশের বস্তিবাসী মুসলিম পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের হত্যা করেছিল।’ (আবুল মনসুর আহমেদ, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর, পৃ ১৯৬)

দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর, কলকাতা পুলিশ, যেখানে হিন্দু কর্মকর্তা ও কনস্টেবলের সংখ্যা ছিল বেশি, তারা উত্তপ্ত অবস্থা দমন করতে বেশি উদ্যম দেখায় নি। এর পরিবর্তে তাদের অনেকের ব্যাপারে হিন্দু সহ-ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারীরিক ও মানসিকভাবে পক্ষাবলম্বনের অভিযোগ রয়েছে । উল্লেখযোগ্য যে, সে সময়ের ৬০ লক্ষ মানুষের কলকাতা শহরে মাত্র ১ হাজার দু’শ সদস্যের একটি পুলিশ বাহিনী ছিলো যাদের মধ্যে মাত্র ৬৩ জন ছিল মুসলিম। এছাড়া অফিসারদের মধ্যে একজন ডেপুটি কমিশনার ও একজন অফিসার-ইনচার্জ ছাড়া বাকি সব ছিলো হিন্দু (মোহাম্মদ এইচআর তালুকদার [ইডি], হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জীবন ও কর্মের স্মৃতিকথা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড) পুলিশের ইংরেজ মহাপরিদর্শক মুখ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীকে বলেন, চরমপন্থী হিন্দুদের দ্বারা সংগঠিত দাঙ্গার প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনিও জানতেন না কারণ পুলিশের সবগোয়েন্দা শাখা শুধু হিন্দু সদস্যদের দ্বারা গঠিত এবং তারা সরকারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

নেহরু কর্তৃক হায়দারাবাদের স্বাধীনতা লুট : ১৯৪৭ সালে ভারত আযাদি লাভের পরপরই হায়দারাবাদের উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী দলগুলোর ইন্ধনে দেশের অভ্যন্তরে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে মুসলিম জমিদার ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গুপ্ত হত্যা শুরু হয়। এক হিসাব মতে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি তাদের হত্যাকা-ের শিকার হয়। এ পরিস্থিতিতে নিযাম স্থানীয় যুবকদের নিয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বা রাজাকারদের দায়িত্ব দেন হত্যাকা- প্রতিরোধের। রাজাকারেরা কমিউনিস্টদের পাকড়াও অভিযান শুরু করে, অভিযুক্তদের মৃত্যুদ- দেয়া হয়। কমিউনিস্টরা সবাই ছিল হিন্দু, সুতরাং এ সুযোগকে কাজে লাগাল ভারত সরকার। বহুল প্রতীক্ষিত হায়দ্রাবাদ দখলের অজুহাত এখন তাদের হাতে, তারা প্রচার করলো উগ্র মুসলিম রাজাকারেরা পাইকারী হারে হিন্দুদের হত্যা করছে।

১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সালে ‘অপারেশন পোলো’ সাংকেতিক নামে ভারতীয় সেনাবাহিনী চারদিক থেকে হায়দ্রাবাদ আক্রমণ শুরু করে। বিশ্বের কেউ সেদিন হায়দ্রাবাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। লক্ষাধিক ভারতীয় সৈন্যের বিপরীতে হায়দ্রাবাদের ট্রেনিংপ্রাপ্ত প্রফেশনাল সৈন্যের সংখ্যা ছিল মাত্র ছয় হাজার, তাদের সাথে ছিল আর বিশ হাজার রাজাকার বাহিনী। এ অসম লড়াইয়ে চারদিন প্রতিরোধ করে অবশেষে পরাজয় মানে হায়দ্রাবাদ বাহিনী। ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ সকালে সিকান্দারাবাদে ভারতীয় মেজর জেনারেল জয়ন্ত নাথ চৌধুরীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন হায়দ্রাবাদের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল সাইয়েদ আহমেদ এল এদরুস। স্বাধীনতা হারিয়ে হায়দ্রাবাদ ভারতের একটি প্রদেশে পরিণত হয়।

“হায়দারাবাদ : একটি মুসলিম ট্র্যাজেডি” শীর্ষক এক প্রবন্ধে অধ্যাপক উইলফ্রেড ক্যান্টওয়েল স্মিথ প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য উল্লেখ করে লিখেছেন, “যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর মুসলমানরা (গণহারে) ব্যাপক আঘাত ও পাশবিক হামলার শিকার হয়। ধ্বংসযজ্ঞের পর যারা বেঁচে ছিলেন তারাও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। তাদের হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয় এবং উচ্ছেদ করা হয় কয়েক লাখ মানুষকে। মুসলিম বাহিনীর সহযোগীদের কথিত সহিংসতার প্রতিশোধ নেওয়ার অজুহাত দেখিয়েই এইসব নারকীয় অভিযান চালানো হয়েছিল। (দ্য মিডল-ইস্ট জার্নাল’, খ- ৪, প্রকাশিত ১৯৫০ ইসায়ি সাল, উদ্ধৃতি: ১০ অক্টোবর ২০১৩, সাম্প্রতিক দেশকাল)

হায়দ্রাবাদ দখলের পরপরই গণহত্যার খবর আসতে থাকে। আবার ভারতজুড়ে মুসলিমদের গণঅসন্তোষের ভয়ে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু কংগ্রেসের সংসদ সদস্য পন্ডিত সুন্দরলালের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন যাতে হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মেরই সদস্য ছিলো। এ কমিটি হায়দ্রাবাদ ঘুরে এসে তাদের রিপোর্ট জমা দেয় যা সুন্দরলাল রিপোর্ট নামে পরিচিত। নেহেরু থেকে শুরু করে মনমোহন পর্যন্ত, ভারত সরকার এ রিপোর্ট সম্পর্কে গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। গণহত্যার বিষয়ে বহির্বিশ্ব ও ভারতের জনগণকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়। সর্বশেষে ২০১৩ সালে দিল্লীর নেহেরু স্মৃতি জাদুঘরে এ রিপোর্ট জনসম্মুখে আসে। কমিটির মতে, খুব কম করে ধরলেও ২৭০০০ থেকে ৪০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। (বিবিসি নিউজ, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, derabad 1948: India’s hidden massacre)  যদিও এ জি নুরানি ও অন্যান্য গবেষকদের মতে এ সংখ্যা ২ লাখ বা তার থেকেও বেশি। কমিটির রিপোর্টে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনী এ সকল গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলো। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ