ঢাকা, শনিবার 23 December 2017, ৯ পৌষ ১৪২৪, ৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মোরেলগঞ্জে ধানকাটাকে কেন্দ্র করে  দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত

 

খুলনা অফিস : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ধানকাটাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও নারীসহ ১০/১৫জন আহত হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার পুঁটিখালি ইউনিয়নের সোনাখালি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মোরেলগঞ্জ উপজেলার চালিতাবাড়ি গ্রামের তোরাব শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ (৪৮) ও একই গ্রামের শাহজাহান শেখের ছেলে পলাশ শেখ (৩২)। এ ঘটনার পর পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোনাখালী গ্রামের শহিদুল পক্ষের শহিদুল খান (৪৫), মজিবুর খান (৬০), ওহাব খান (৬৫), বারেক খান (৬২), মজিবুুুর খানের ছেলে ইব্রাহীম খান (২৭) এবং নুুুর ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রামবাসীরা জানায়, সোনাখালি গ্রামের আব্দুর রহিম খানের সঙ্গে প্রতিবেশী শহীদুল খানের এক বিঘা জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে চলতি আমন মওসুমে রহিম খান আমনের চাষ করে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে প্রতিপক্ষ শহীদুল খান ১২/১৪ জন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে যায়। এ সময় রহিম খানের লোকজন ধান কাটার খবর পেয়ে তাদের বাধা দিতে যায়। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে রহিম খানের আত্মীয় ইব্রাহিম শেখ ও পলাশ শেখ নিহত হয়েছে। এ সময় ১৫/২০জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে কবির শেখ, মজিবর শেখ, হেমায়েত খান, জাহিদ শেখ, শিউলী ও নাজমার নাম জানা গেছে। এদের মধ্যে কবির শেখ ও মজিবর শেখকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকোল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য চারজনকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুঁটিখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহচান মিয়া শামীম ও তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম খান জানান, এক বিঘা জমি নিয়ে সোনাখালি গ্রামের আব্দুর রহিম খানের সঙ্গে প্রতিবেশী শহীদুল খানের বিরোধ রয়েছে। ওই জমিতে আব্দুর রহিম আমন ধান চাষ করেছেন। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শহীদুল ১২/১৪ জন শ্রমিক নিয়ে ওই ধান কাটতে যান। এসময় আব্দুর রহিমের আত্মীয় স্বজন বাধা দিলে শহীদুলের লোকজন সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি ও কাস্তে নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই আব্দুর রহিম খানের আত্মীয় ইব্রাহিম ও পলাশের মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে আহত হন দু’পক্ষের অন্তত ২০ জন। 

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, ‘ইব্রাহিম শেখ ও পলাশ শেখকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ দু’জনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের চিহৃ রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়। অন্যদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছে।’

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, ‘ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুইজনের প্রাণহানির ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দু’জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ