ঢাকা, শনিবার 23 December 2017, ৯ পৌষ ১৪২৪, ৪ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বটিয়াঘাটা উপজেলায় আমন ধান কাটাকে কেন্দ্র করে ভূমিদস্যুদের লাঠিয়াল বাহিনী সক্রিয়

 

খুলনা অফিস : খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা চলতি আমন মওসুমে পাকা ধান কাটাকে কেন্দ্র করে ভূমিদস্যুদের সৃষ্ট লাঠিয়াল বাহিনী সক্রিয় হয়েছে। ভূমিদস্যুদের সহযোগী লাঠিয়াল বাহিনী তাদের পেশী শক্তি ব্যবহার করে জোর পূর্বক অন্যের রোপনকৃত ধান কাটার পায়তারা করছে। যে কারণে ভূমিদস্যু ও লাঠিয়াল বাহিনীর নেতৃবৃন্দদের থানা চত্বরের আশে পাশে ঘুর ঘুর করতে দেখা যাচ্ছে। এতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী খুলনা ইকবাল নগরের মো. মনির হোসেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর বন্দোবস্ত না দেয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জলমা ইউনিয়নের জলমা, তেঁতুলতলা, মাথাভাঙ্গা ও ছয়ঘরিয়া মৌজাসহ উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ও নদী ভাঙ্গনের চর ভরাটি নদী ও খাস জমি ভূমিহীন ও রেকর্ডীয় মালিকদের রোপণকৃত পাকা ধান ভূমিদস্যুদের সহযোগী লাঠিয়াল বাহিনী প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা/কর্মচারীদের যোগসাজশে জোর পূর্বক রোপনকৃত পাকা কেটে নেয়ার পায়তারা করছে। অপরদিকে ঐ সকল কৃষক আমন মওসুমে তাদের রোপণকৃত ধান ঘরে তুলতে না পারার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার জলমা ইউনিয়ন ও বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের জলমা মৌজা ও শোলাবুনিয়া এবং বিরাট মৌজার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ছিল কাজীবাছা নদী। উক্ত জলমা মৌজার কাজীবাছা নদীর একমুখে শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় মূল নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে জলমা মৌজার সি,এস ও এস,এ রেকর্ডীয় হাজার হাজার একর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পাশাপাশি জলমা ও কচুবুনিয়া এই দুটি গ্রাম নদী সাথে মিশে যায়। ওই দুটি গ্রামের মানুষ সরকারি ওয়াবদার সাইডে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পরবর্তীতে জলমা মৌজার সি,এস ও এস,এ এবং দেয়াড়া (আর,এস) রেকর্ডীয় মালিকগণের জমি পুনঃরায় ভরাট হয়ে চর জাগায় তাদের জমি ফিরে পেতে আদালতে একাধিক মামলা করেছে।

এছাড়া ভুয়া ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দলিল রদ করতে এবং আর কোন ভুয়া ভূমিহীনদের জরিপের পূর্বে বন্দোবস্ত না দেয়ার জন্য (এ,ডি,সি) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এল,এ শাখায় ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। অভিযোগটি আমলো নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রেরণ করেছে। অন্যদিকে জলমা মৌজার এ সকল রেকর্ডীয় মালিকদের জমিতে ডিডকৃত বর্গাদার ও ভুয়া ভূমিহীনরা মালিকদের উচ্ছেদ করে রোপনকৃত পাকা ধান কেটে নেয়ার পায়তারা করছে। 

অপরদিকে ছয়ঘরিয়া মৌজার হারাধন সরদারের ১৯৭৮ সালে ২৯২ নং রেজিস্ট্রিকৃত বর্গাদার মনোহর মন্ডল জাল জালিয়াতির মাধ্যমে মালিক হবার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া হারাধনের রোপা পাকা আমন ধান কেটে নেয়ার পাঁয়তারা করছে এবং জমির সীমানা পিলার, সাইন বোর্ড রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। উক্ত রেজিস্ট্রি বর্গাকৃত জমির মালিক হারাধন সরদারকে ডি,পি জরিপে ১৩৪৫ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত দখল দিয়েছে। 

অন্যদিক বর্গাদার মনোহর মন্ডলের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেছে। উক্ত আদেশ উপেক্ষা করে বর্গাদার মনোহর মন্ডল আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে চলেছে। 

এ ব্যাপারে থানায় সালিশ বৈঠকে বর্গাদারকে জমিতে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছে থানা পুলিশ। 

উক্ত বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক মামুন জানান, থানায় দালাল, বাটপারদের কোন স্থান নেই। জমি যার এবং যে জমি চাষ করে ফসল উৎপাদন করেছে সেই ধান কাটবে। 

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস বলেন, জলমা মৌজার নতুন জরিপ না হওয়া পর্যন্ত কোন জমি বন্দোবস্ত দেয়া হবে না এবং জলমা মৌজার সি,এস ও এস,এ রেকর্ডিয় মালিকগণ জমি চাষ করে ফসল উৎপাদন করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ