ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঘন বসতির মধ্যেই গড়ে উঠছে ইটভাটা, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

সংগ্রাম অনলাইন ডেক্স: মাদারীপুরে আবাসিক এলাকা ও ঘন বসতির মধ্যে ফসলি জমি নষ্ট করে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গড়ে উঠছে একের পর এক ইটভাটা। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় একদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে ভাটার পাশের বাসিন্দারা। অন্যদিকে ফসলি জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেক কৃষক। ভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানোতে ক্ষুব্ধ পরিবেশবিদরা। অবশ্য, আইন অমান্যকারী ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক।  

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ফসলি জমি ও ঘন বসতি এলাকার ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা নির্মাণ নিষিদ্ধ। অথচ মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুরে গত ৬ বছর ধরে ঘন বসতির মধ্যে চলছে মেসার্স পদ্মা ব্রিকস্ নামের একটি ইটভাটা। এনিয়ে আদালতে লিলি বেগম নামের এক নারী মামলা করলে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে ভাটার মালিকরা।

শুধু মেসার্স পদ্মা ব্রিকস্ নয়, এ বছরও ফসলি জমি দখল করে মাদারীপুরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইটভাটা। যেগুলোর অধিকাংশ’র নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। নিয়ম অনুযায়ী ১শ’ ২০ ফুট চিমনি দিয়ে, কয়লা ব্যবহার করে হাওয়া ভাটায় ইট পোড়ানোর কথা। কিন্তু স্থানীয় গাছপালা কেটেই মাত্র ২০ ফুটের ড্রাম চিমনিতে ভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। যার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া নষ্ট করছে আশপাশের পরিবেশ। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের পাশাপাশি পরিবেশবিদরা।

এলাকাবাসীরা বলেন, থাকার সমস্যা ঘুমের সমস্যা হয়। আমাদের অসুখ বিসুখ হচ্ছে।  

ড. বশির আহম্মদ বলেন, প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে এই কাঠ পোড়ানো বন্ধ করা। এতে পরিবেশ রক্ষা পাবে। অন্যদিকে বায়ু দূষণ হবে না।

তবে, ইটভাটা কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়ম মেনেই চলছে তাদের ভাটা। তারা বলেন, শুনেছি কাগজ পত্র আছে লাইসেন্স আছে।

জেলার সিভিল সার্জন বলছেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় শ্বাস কষ্টের পাশাপাশি এতে হতে পারে ক্যান্সারের মত ভয়াবহ রোগ। তিনি বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া শ্বাস কষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে ব্রঙ্কাইটিস এজমা সিওপিডির মত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আইন অমান্য কারী ইটভাটা মালিকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটা ইটভাটা দেখা হবে। তারা কাঠ পোড়ায় কিনা দেখা হবে। যদি তা হয় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদারীপুরের ৪ উপজেলায় ৪০টি ইটভাটার মধ্যে ১৮টিই ইটভাটা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া চলছে দীর্ঘদিন ধরে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ