ঢাকা, রোববার 24 December 2017, ১০ পৌষ ১৪২৪, ৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝুঁকি বাড়ছেই অর্থনীতিতে

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অর্থনীতি যত বাড়ছে ঝুঁকিও তত বাড়ছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে যে সংকট দেখা দিয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে আরও কঠোর হতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। প্রয়োজনে বেসরকারি ফারমার্স ব্যাংক বন্ধ করে দেয়া উচিত। যা অর্থনীতিতে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 গতকাল শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ইনস্টিটিউটের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সমাপনী অধিবেশনে  বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তৌফিক আহমদ বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়ম কমিয়ে আনতে ফারমার্স ব্যাংক বন্ধ করে দেয়া হলে উদাহরণ হয়ে থাকবে। আর্থিক খাত পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি আরও কঠোর না হতে পারে তাহলে সংকট আরও ঘনিভূত হবে। দেশের অর্থনীতি গতি হারাবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বুঝতে কষ্ট হচ্ছে ব্যাংকিং খাত আসলে কোন দিকে যাচ্ছে। এনিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। তা না হলে অর্থনীতি আরও গভীর আন্ধকারে প্রবেশ করবে।

তার ভাষ্য, বাংলাদেশে একবার কেউ ব্যাংকের লাইসেন্স পেলে তা বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু ফারমার্স ব্যাংকে যা হয়েছে, তাতে এই ব্যাংকের অবশ্যই মরে যাওয়া উচিত।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্তিশালী হওয়ার কোনও বিকল্প নেই, এমন মন্তব্যও করেন বিআইবিএম মহাপরিচালক। তার কথায়, যত কিছুই করা হোক, শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।

বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১২ সালে অনুমোদন পায় ফারমার্স ব্যাংক। তবে এর আগেই দফতর খুলে নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর পর বছর না ঘুরতেই ঋণের অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে এই ব্যাংক। সাধারণ আমানতকারীরা এখন এর ভুক্তভোগী।

সাবেক গবর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি প্রসারের সাথে সাথে বাড়ছে ঝুঁকিও। যা মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরো জোরালো ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে মনে তিনি করেন।

তিনি বলেন, সবার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গ্রাহকের স্বার্থ দেখতে হবে। সকল গ্রাহকের আমানত রক্ষা করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব। কোন ব্যাংকে কোন ধরনের সমস্যা হলে এর দায়ভার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে আরও কঠোর হতে হবে। তা না হলে ব্যাংকিং খাতে আরো বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবর্তন আসছে সব সূচকেই, ফলও মিলছে হাতেনাতেই। তবে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। তা না হলে সুফলের চেয়ে কুফলই বেশি আসবে।

বক্তারা বলেন, জোর কদমেই এগিয়ে চলছে দেশের অর্থনীতি। কারখানায় বাড়ছে উৎপাদন, বড় হচ্ছে বাজার। তবে যোগ হচ্ছে নানারকম ঝুঁকিও। কিন্তু এত বড় ঝুঁকি নিয়ে একটি দেশের অর্থনীতি বেশি দূর এগুতে পারে না। এটি সরকারকে এখনই ভাবতে হবে।

বক্তাদের অনেকেরই মত, বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ এগিয়ে যেতো আরো আগেই। সম্ভব হত অর্থনীতির নানামুখী সমস্যা কাটানোও। তথ্য-উপাত্তে প্রমাণও মিলল তার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ