ঢাকা, রোববার 24 December 2017, ১০ পৌষ ১৪২৪, ৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভরা মওসুমেও বাড়ছে  চালের দাম!

 

খুলনা অফিস : বছর জুড়ে অস্থির চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা পদক্ষেপেও কোন ফল না মেলায় নিম্ন আয়ের মানুষ আশায় ছিল আমন মওসুম এলে হয়তো চালের দাম কমবে। কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি। কারণ চলতি আমন মওসুমে নতুন চালের আমদানি শুরু হলেও বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি বাজারে। বরং ভরা মওসুমে এসে চালের দাম আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা খেটে খাওয়া মানুয়ের মাঝে ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, স্থানীয় বাজারে এ সময় চালের দাম নিম্নমুখী হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে তার উল্টো। গত দু’সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিপ্রতি অন্তত বেড়েছে চার টাকা। আর পাইকারীর সাথে খুচরা দামের পার্থক্যও বেশ। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারনে দাম উর্ধ্বমুখী হয়েছে এমনও মন্তব্য করেছেন ভোক্তারা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে চালের দাম বেড়েছে। চলতি বছর জুড়েই চালের বাজার রয়েছে অস্থির। বছরের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে দাম বাড়তে থাকে অত্যাবশ্যকীয় এ পণ্যটির। ভাল মানের ৩৫ টাকা কেজি চালের দাম বেড়ে হয় প্রায় দ্বিগুণ। আর খেটে খাওয়া মানুয়ের মোটা চালের দাম বেড়ে হয় প্রায় ৫০ টাকা। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের প্রত্যাহিক বাজেটেও কাটছাট করতে বাধ্য হয়। এ সময় দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার গ্রামে রেশনিং পদ্ধতিতে ১০ টাকা ও  শহরে ওএমএস পদ্ধতিতে খোলা বাজারে ট্রাকে করে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করেও বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। এক কথায় ব্যবসায়ী সিন্ডিকিটের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে সরকারসহ ভোক্তারা। তবে খেটে খাওয়া মানুষ আশায় ছিল আমন মওসুম এলে হয়তো চালের দাম কমবে। কিন্তু আমন মওসুমের নতুন চাল বাজারে আসা শুরু করলেও এর বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি। বরং চালের দাম বেড়েই চলেছে। গত দু’সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা।  

নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি মিনিকেট ৬১ থেকে ৬২ টাকা, ২৮ বালাম ৫২ টাকা ও স্বর্ণ মোটা ৪৪ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি মিনিকেট মিনিকেট ৫৮ টাকা, ২৮ বালাম ৪৮ টাকা ও স্বর্ণা মোটা ৪১ থেকে ৪২ টাকা দামে বিক্রি হয়। 

এদিকে পাইকারী বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট ৫৭ থেকে সাড়ে ৫৭ টাকা, ২৮ বালাম ৫১ থেকে সাড়ে ৫১ টাকা ও স্বর্ণা মোটা ৩৮ থেকে ৩৯ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। নতুন চাল মোটা ৩৮ টাকা, আতপ ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।  অন্যদিকে থাইল্যান্ড বালাম চালের সামান্য আমদানী রয়েছে। যার প্রতিকেজি ৩৯ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  

নগরীর নতুন বাজারে আসা ক্রেতা শেখ রহিমা রহমান বলেন, চালের দাম এখন কমে যাওয়ার কথা, কিন্তু হয়েছে তার বিপরীত। তিনি বলেন, প্রায় ১০/১২ দিনের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে চার টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আরেক ভোক্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েক দিন আগে চালের দাম একটু কম ছিল। ভরা মওসুমে চালের দাম কমাও কথা অথচ কমছে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই। 

নগরীর কেসিসি সন্ধ্যা বাজারে আসা ক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, চালের দাম দিন দিন বাড়ছে। তবে কয়েক দিন আগে ৪/৫ টাকা কমে গিয়েছিল।

নগরীর বড় বাজার এলাকার চাল ব্যবসায়ী মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে চালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজি প্রতি প্রায় চার টাকা বাড়তি। ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারগুলোতে নতুন চাল আমদানি হয়েছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণে আসেনি দাম।  বড় বাজার এলাকার আরেক ব্যবসায়ী আশ্বাব ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. সোলায়মান মোল্লা বলেন, স্থানীয় বাজারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নতুন চাল আমদানি থাকলেও দাম কমেনি এখনও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ