ঢাকা, রোববার 24 December 2017, ১০ পৌষ ১৪২৪, ৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শুধু দম্ভ নয় পরাজিত হয়েছে কর্তৃত্ববাদও

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো হুমকিদাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও সাফল্য লাভে ব্যর্থ হয়েছে। ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জেরুসালেম প্রশ্নে ভোট গ্রহণের আগে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলেছিল যে, কে কীভাবে ভোট দেয় তার হিসাব রাখা হবে। তারা বলেছিল, জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সমালোচনা করে যে প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে উঠছে, কেউ যদি সে প্রস্তাব সমর্থন করে ভোট দেয়, তাহলে তাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য বন্ধ করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হেইলি বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সুনির্দিষ্টভাবে আরো জানান, এই ভোটের হিসাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়ে ছাড়বেন।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, মার্র্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পরও বিশ্ব সংস্থার ১২৮টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ক্ষুদ্র ও দরিদ্র মাত্র সাতটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেছে। এই ভোটের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক পরাজয়। ইসরাইলি দৈনিক হারেৎস লিখেছে, এই ভোট ইসরাইলের জন্য ‘হালকা তিরস্কার’ কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য ‘রীতিমতো এক থাপ্পড়’। নিউইয়র্ক টাইমস মন্তব্য করেছে, এই ভোট ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি জাতিসংঘের (সদস্য রাষ্ট্রসমূহের) সম্মিলিত ‘প্রকাশ্য প্রত্যাখ্যান’। এদিকে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দানকারী দেশগুলোর মনোভাবকে তুলে ধরে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসোগলু বলেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে কাজ হবে না, যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু তাতে ভুল কাজকে ঠিক প্রমাণ করা যাবে না।’ প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, যেসব দেশের রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে নিকি হেইলি হুমকিবার্তা পাঠিয়েছেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তবে সে চিঠি উপেক্ষা করে বাংলাদেশ শুধু যে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে তাই নয়, অধিকাংশ ইসলামিক কনফারেন্সভুক্ত দেশের মতো বাংলাদেশও এই প্রস্তাবের অন্যতম উত্থাপক বা কো-স্পন্সর ছিল।

জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকে জেরুসালেম প্রশ্নে ভোটযুদ্ধে সত্য, ন্যায় ও ইতিহাসের জয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন ‘হামাস’। বৃহস্পতিবারের ভোটের পর হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া এই মন্তব্য করেছেন। হামাস প্রধান আরো বলেন, জাতিসংঘের এই ভোটে জনগণের আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব জনমতকে কতটা গুরুত্ব দেয়। তবে এখানে বলার মতো বিষয় হলো, জনমতকে উপেক্ষা করে দাম্ভিক শাসকরা বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। আর ‘সত্যের জয়’ বলেও তো একটা কথা আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ