ঢাকা, রোববার 24 December 2017, ১০ পৌষ ১৪২৪, ৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্মৃতিতে-স্মরণে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক কার্যালয়

জিয়া হাবীব আহসান ; ‘মানবাধিকার ও মার্কিন বিচার ব্যবস্থা’ শীর্ষক মাসব্যাপী ইন্টারন্যাশন্যাল ভিজিটরস লিডারশীপ প্রোগ্রামে প্রায় একমাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য সফর করেছি। এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বৃহত্তর মানবাধিকার সংগঠন “হিউম্যান রাইটস ওয়াচ- এইচ.আর.ডব্লিউ, এ্যামোনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ফাস্ট, জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়, ইউ.এন.এইচ.সি.আর কার্যালয়, সুপ্রীম কোর্ট, এটর্নী জেনারেলের কার্যালয়, আটলান্টা পুলিশ হেডকোয়াটার, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, ওম্যান প্রিজন, ইউ. এস. সুপ্রীম কোর্ট, ইউ.এস এসোসিয়েশন বার প্রভৃতি কার্যালয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে মতবিনিময় ও টেলিকনফারেন্সে কাটিয়েছি। ২০০৮ সালের ৬ই আগস্ট বুধবার ১২.৪৫ টার দিকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয় নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে। এর সামনে বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার মাঝে বাংলাদেশের সবুজ জমিনে রক্ত লাল সূর্যের অংকিত পতাকা দেখে অত্যন্ত পুলকিত হয়েছি। ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে পিস্তলের নল মুচড়ে দেয়া যুদ্ধ বিরোধী এক বিশাল প্রতীক। গিঁট বাঁধা নল সহ একটি ৪৫ ক্যালিবার পিস্তলের ব্রোঞ্জ নির্মিত প্রতিরূপের ভাস্কর্যটি সুইডিস শিল্পী ফ্রেডরিক রয়টার্স ওয়ার্ড নির্মাণ করেন। লুক্সেমবার্গের উপহার এই চমৎকার ভাস্কর্যটি ৪৫তম সড়কের ফাস্ট এভিনিউ এর মুখামুখি সাধারণ পরিষদ বিল্ডিং সংলগ্ন বাঁধানো চত্বরে অবস্থিত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বারান্দায় অবস্থিত আছে শান্তির পায়রা চিহ্নিত এক অসাধারণ শিল্পকর্ম। ১৭৯৬ সালে তৈরি ফ্রেমটি গিলটি করা ব্রোঞ্জের। আমাদের ইন্টারপ্রিটার জনাব সেলিম নূর (শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেন এর পুত্র) এবং ভয়েজ অব আমেরিকা’র বাংলা বিভাগের পরিচালক প্রখ্যাত সাংবাদিক রোকেয়া হায়দার থেকে এইসব অমূল্য তথ্য জানতে পারলাম। জাতিসংঘের ইনফরমেশন সেলে গিয়ে জানতে পারলাম আমাদের নির্ধারিত বৈঠক জাতিসংঘের মূল ভবনের অপর দিকে আরেকটি ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ইউ.এন.এইচ.সি.আর (ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর রিফুজিস) এর নিউইয়র্ক কার্যালয় অবস্থিত। ২২০ ইষ্ট ৪২ ষ্ট্রিট এ পায়ে হেঁটে গিয়ে উক্ত ভবনের নীচ তলায় রিসিপসনের সামনে এ সাত সদস্যের বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল নিজেদের পরিচয় দিলাম। সাথে সাথে সিকিউরিটি চেকআপ শেষে আমাদের প্রত্যেককে ছবি সম্বলিত আইডি কার্ড দেয়া হলো। লিফটে ৩১ তলায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন কার্যালয়ে পৌঁছলাম। আমাদের স্বাগত জানালেন ইউ.এন.এইচ.সি.আর এর নিউইয়র্ক কার্যালয়ের সিনিয়র তদানীন্তন পলিসি এডভাইজার মিঃ ব্রিয়েন গোর্লিক। স্যুইট নং ৩০০০ এ তিনি আমাদের নির্ধারিত বৈঠক স্থলে নিয়ে গিয়ে বসলেন। স্ব স্ব পরিচিতি শেষে শুরু হয় রিফুজি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। আলোচনা ছিল অত্যন্ত খোলামেলা ও প্রাণবন্ত। গোর্লিক বলেন, ১৯৫০ সালে আমাদের এ সংস্থা কাজ শুরু হয় জাতিসংঘের জেনারেল এসেম্বলীর সিদ্ধান্ত মতে। শরণার্থীদের রক্ষা করা এবং তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান খোঁজাই হচ্ছে এই অফিসের মূল দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘আমরা রিফুজিদের নিয়ে কাজ করি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশে নিজ দেশে অনেকেই বাস্তুহারা গৃহহারা হয়ে পড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশে। আবার অনেকে নিজ দেশ ত্যাগে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং অনেকে রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় ৫লাখ রোহিঙ্গারা নিজ দেশে গৃহহারা, আড়াইলাখ প্রায় আন্তর্জাতিক সীমানা পার হয়ে বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে (সম্প্রতি আরো এসেছে প্রায় ৬ লক্ষাধিক)।

এটি একটি গুরুত্বর মানবাধিকার লংঘন এর ঘটনা। বসনিয়ার রিফুজি আমেরিকার রাস্তায় পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।” তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীরা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছে। তারা নির্যাতিত সংখ্যালঘু বা জাতিগোষ্ঠী। আই.ডি.পি বা ‘ইন্টারন্যাল ডিসপ্লেস পারসন’ যারা তাদের জন্য জাতিসংঘের কোন ফান্ড নেই। তবে আন্তর্জাতিক সীমানা যারা ক্রস করে তারা ‘রিফুজি’। শ্রীলংকায় ৫০ লক্ষ মানুষ গৃহহারা।” তার সাথে একমত হয়ে আমরা বললাম, অভ্যন্তরীণ গৃহহারাদের সাহায্যের জন্য আই.ডি.পি কনভেশন তৈরি করা জরুরী। কেননা তারা নিজ দেশে পরবাসী। আমি এসময় ইউ.এন.এইচ.সি.আর কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম, “বাংলাদেশ এমনিতেই জনসংখ্যার ভারে ন্যুজ একটি দেশ। তার ওপর রোহিঙ্গা এবং আটকেপড়া পাকিস্থানীদের বিরাট সংখ্যা ‘গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার’ মতে হয়ে আছে। ২ লক্ষ আটকেপড়া পাকিস্থানীরা প্রায় বাংলাদেশের ১১৬টি জেনেভা ক্যাম্পসমূহে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাংলাদেশও তাদের নাগরিক বলে না, পাকিস্থানও তাদের গ্রহণ করে না। এসময় মিঃ গোরলিক বলেন, ‘স্টেটল্যাসপারসনদের নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ চিন্তা করতে পারে।’ আমি সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বললাম, তারা নিজ দেশে ফিরে যাবে নতুবা তাদের তৃতীয় কোন দেশে যেখানে জনসংখ্যা সমস্যা নেই সেখানে পুনর্বাসনের বা রিপ্লেসম্যান্ট করার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে পাল্টা প্রস্তাব দেই। কেননা নিজের দেশে শরণার্থী তৈরি করা আবার সে সাথে অন্য দেশ থেকে শরণার্থী গ্রহণ করার তিক্ত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে। এসময় ‘শরণার্থী’ ‘রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি সহ এতদ সংক্রান্ত কনভেনশন, প্রটোকল ও রিফুজি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। আলোচনায় শরণার্থী বলতে বলা হয় “যিনি ধর্ম, বর্ণ, জাতীয়তা, বিশেষ কোন গোষ্ঠীর সদস্য বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারনে নিপীড়ত হওয়ার ভয়ে নিজ রাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করছেন এবং নিজ রাষ্ট্রের সহায়তা গ্রহণ  করতে পারছেন না বা নিপীড়নের ভয়ে নিজ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্রহনে আগ্রহী নন; অথবা যে জাতীয়তাবিহীন ব্যক্তি তার পূর্বের আবাস রাষ্ট্রে ফিরে যেতে পারছেন না বা একই ভীতির কারনে তার পূর্বের আবাস রাষ্ট্রে ফিরে যেতে ইচ্ছুক নহেন তাকেই বুঝায়।” ১৯৫১ সালের কনভেনশনটিকে সার্বজনীনরূপ দেয়া হয় ১৯৬৭ সনের শরণার্থীদের মর্যাদা সংক্রান্ত প্রোটোকলে। আলোচনাকালে মিঃ গোর্লিক বলেন যে, রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কারনে যদি কেউ অপরাধী হয় তাহলে অবশ্যই তিনি শরণার্থী। কিন্তু সবার চোখে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কোন কার্যের অপরাধী তার পলায়ন পর অবস্থায় শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে না। যুদ্ধে গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী কিংবা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গকারী কোন গণসন্ত্রাসী কখনোই শরণার্থী হিসেবে বিবেচিত হবে না। শরণার্থীদের জন্য নিদিষ্ট কোন নিরাপত্তা ও সাহায্য তারা ভোগ করতে পারবেন না। তবে রাজনৈতিক কারণে কেউ প্রতিহিংসার ও হয়রানির শিকার হলে তিনি এ সুবিধা ভোগ করবেন।

বাংলাদেশী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, ১৯৭৫ সাল থেকে সাধারন পরিষদ ইকোসক (ECOSOC)  এবং ইউ.এন.এইচ.আর (UNHCR) নির্বাহী কমিটি ইউরোপের বাইরের শরণার্থীদের সৃষ্ট অবস্থাকে সায় দেয়ার জন্য বিচিত্র পদ্ধতি অবলম্বন করে। মানবতা ও প্রকৃতি প্রদত্ত যে কোন ধরনের ভিকটিমকে, যারা শরণার্থী, তাদের সাহায্য করার জন্য ইউ.এন.এইচ.সি.আরকে ক্ষমতা দেয়া হয়। তারা শরণার্থী হোক বা না হোক তাদেরকে ‘ম্যান্ডেট রিফুজি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং ‘হোষ্ট কান্ট্রি’ তাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে কি দিচ্ছে না তা বিবেচ্য নয়। আলোচনাকালে আমরা আমাদের বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা ও আটকেপড়া বিহারীদের ‘অস্থায়ী সুরক্ষার’ ব্যবস্থা জোরদার করে বাংলাদেশকে এধরনের চাপ থেকে রক্ষার আহ্বান জানাই। আলোচকরা বলেন, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি রা চরম অবহেলিত অবস্থায় আটকে আছে। তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষার সুযোগ নেই। বাংলাদেশে উর্দ্দুভাষী জনগনের সুষ্ঠু প্রত্যাবসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে বসবাসরত রিফুউজিদের জন্য “রিফুউজিনিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ আইন” তৈরি ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমার একটি প্রস্তাব সম্পর্কে আলোচনা হয়। সুরক্ষা শরণার্থীদের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের নিজস্ব কোন শরণার্থী আইন নেই। ১৯৫১ সালের শরণার্থী বিষয়ক কনভেনশন- এ সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ আছে আর ১৯৬৭ সালের প্রটোকল সে কনভেশনের সুরক্ষা দেয়া হলেও বাংলাদেশ এ দুটির কোনটিই স্বাক্ষর করেনি। ফলে এখানে একটি আইনি কাঠামোর শূন্যতা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শরণার্থী বিষয়ক আইন থাকলেও বাংলাদেশের এ ধরণের কোন আইন না থাকায় বাংলাদেশে ভূখন্ডে আশ্রয় নেয়া এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা দেয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। বিধায় অবিলম্বে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিশাল শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার জন্য একটি আইনী কাঠামো তৈরির জন্য সরকার, আইন প্রণেতাগণ, বিচারপতি ও আইন কমিশনের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। রোহিঙ্গারা ‘রাষ্ট্রহীন’ না ‘উদ্ভাস্তু’ নাকি শরণার্থী বুঝা দরকার। এখানে উল্লেখ্য, মায়ানমার সরকার ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন যে “ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস” গৃহিত হয় তার পক্ষে যে ৪৮টি রাষ্ট্র ভোট দেয় তাদের অন্যতম ছিল মায়ানমার সরকার। অথচ ইউনাইটেড ন্যাশনস কনভেনশন এ্যগেইনস্ট টর্চার” যার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের যে কোন স্থানে নির্যাতন এবং যাবতীয় নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা অবমাননাকর আচরণ অথবা যাবতীয় শাস্তি প্রদান প্রতিরোধ করা, সু চি সরকার ২০১৬ সালেও তাতে স্বাক্ষর করেনি অথবা তাতে অনুমোদন দেয়নি। এছাড়াও জাতিসংঘের “কনভেনশন রিলেটিং টু দ্য স্টেটাস অব স্টেটলেস পার্সনস” সনদ যার উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্রহারা মানুষদের রক্ষা দেয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল কভেনেন্ট অন সিভিল এ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস” যার উদ্দেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্র জনগণের প্রত্যেকের সামাজিক এবং রাজনৈতিক অধিকার যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জীবন যাপনের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা, রাষ্ট্র তার সুরক্ষা দিচ্ছে- এ দুটি সনদেও সু চি সরকার অনুমোদন দেয়নি। ১৯৪৮ সালে মায়ানমার সরকার জাতিসংঘের যে হিউম্যান রাইটস সনদের পক্ষে ভোট দেয় তার আর্টিকেল ২-এ বলা হয়েছেঃ “এই ঘোষণার যে সব অধিকার এবং স্বাধীনতা তালিকাভুক্ত হয়েছে, কোন প্রকার জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম, রাজনৈতিক অথবা সামাজিক মতামত, জাতিগত অথবা সামাজিক পশ্চাদপদ, সম্পত্তি, জন্ম অথবা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষ সকলের তা ভোগ করার অধিকার রয়েছে।” আর্টিকেল ৫ -এ বলা হয়েছে, “কাহারো উপর নির্যাতন, নিষ্ঠুরতা, অমানবিক অথবা অবমাননাকর ব্যবহার করা অথবা শাস্তি দেয়া যাবে না।” বৈঠকে শরণার্থী সৃষ্টির কারণসমূহ দূর করতে একযোগে সকলকে কাজ করতে আলোচকরা সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানান। বর্তমান বিশ্বে এটি একটি মারাত্মক সমস্যা যার সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরী। এসময় বিশেষভাবে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত বা আই.ডি.পি (Internally Despl aecd Person) সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপস্থিত আলোচকরা উৎকন্ঠা প্রকাশ করেন। কেননা এটা শরণার্থী সমস্যা থেকে কম নয়, বরং অধিকতর জটিল ও ভয়াবহ, যাদের সংখ্যা দিন দিন আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার সংখ্যা প্রায় ৪০ মিলিয়নের উপরে হতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতিগত নিপীড়ন, সশস্ত্র সংঘর্ষ মানবাধিকার লংঘন প্রভৃতি কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রমকারীরা আশ্রয়দানকারী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সাহায্য গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাস্তুহারা তা পায়না। তারা নিজ দেশেই বান্তুহারা হয়ে অমানবিক নিষ্ঠুরতার শিকার হয়। অনেক সময় রাষ্ট্র নিজেই নিপীড়কের ভূমিকায় অবর্তীন হয়। এদের জন্য জাতিসংঘের কোন ফান্ড নেই। ইউনিসেফ এর জন্য অর্থের অভাব হয় না, ৮০ হাজার কোটি টাকা সামরিক খাতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রিফুজিদের জন্য টাকা পাওয়া যায় না। শুধু শ্রীলংকাতেই ৫০ লক্ষ মানুষ বান্তুহারা, কলম্বিয়া, ইতালি, সাউথ আমেরিকা ও ইউরোপেও এদের সংখ্যা অনেক। সভায় আলোচকগণ আভ্যন্তরীন গৃহহারাদের সাহায্যের জন্য জরুরী ভিত্তিতে আই.ডি.পি কনভেনশন তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় এব্যাপারে তারা ইউ.এন.এইচ.সি.আর- এর একক কর্তৃত্ব, মান্ডেট ও সম্পদ বৃদ্ধির উপর জোর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় ইতিপূর্বে আমি গত ২০০১ সালের ৪ ডিসেম্বর মাসে ‘ওয়াকশপ অন রেফিউজি ল’ শীর্ষক একটি ওয়ার্কসপে অংশ নিই। এর আয়োজক ছিল ‘লিগ্যাল এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং ইনেস্টিউশন অফ বার কাউন্সিল’, ইউনাইটেড নেশন হাই কমিশনার ফর রিফুউজি ((UNHCR) এন্ড চিটাগং ডিস্ট্রিক বার এসোসিয়েশন, হোটেল আগ্রবাদ, চিটাগং- এ এর ইছামতি হলে এটি অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্কশপটিতেও এ সকল আলোচনা প্রাধান্য পায়। একজন আইনের ছাত্র হিসেবেও রিফুজি ‘ল অধ্যয়নকালে এসব বিষয় সম্পর্কে অবহিত হই। (অসমাপ্ত)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ