ঢাকা, রোববার 24 December 2017, ১০ পৌষ ১৪২৪, ৫ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পুরাতন রোহিঙ্গারা নানা অপরাধে জডিয়ে যাচ্ছে ॥ নতুনরা গিনিপিগ

 

শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার : সম্প্রতি মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখ নতুন রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গারা এদেশের সামাজিক পরিবেশ পরিস্থিতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সাথে একেবারেই নতুন হলেও পুরাতনরা খাপ খাইয়ে নিয়েছে প্রায় সবকিছুতেই। যার ফলে পুরাতন এসব রোহিঙ্গা খুব সহজেই জড়িত হয়ে পড়েছে অজ¯্র অনিয়মের সাথে। নতুন রোহিঙ্গাদের ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শ্রেনীর অপরাধী চক্র। আর এসব চক্রকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে পুরাতন রেজিস্ট্রার্ড আন রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গারা। এমনও দেখা যাচ্ছে পুরাতন রোহিঙ্গারা নিজেরাই জড়িত হচ্ছে নানাবিধ অপরাধকর্মে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরণার্থী বিষয়ক এক উর্ধ্বত্বন কর্মকর্তা এমনটিই ধারণা দিলেন প্রতিবেদককে।

সরেজমিন, সর্বশেষ গত ১৮ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে উখিয়া ডিগ্রি কলেজস্থ সেনা সদস্যরা তল্লাসি চালিয়ে হাছিনা বেগম (৩৫) স্বামী আলী চান (৪৫) নামে একরোহিঙ্গা মহিলাকে আটক করে। পাচারের দায়ে আটক হওয়া এই নারী তার সাথে করে পারভীন (১৩) নামে একরোহিঙ্গা কিশোরীকে চট্টগ্রামে পাচারের উদ্দ্যেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলো। কুতুপালংস্থ পুরোনো রিফিউজি হাছিনা এর আগে আরোও বেশ কয়েকজন তরুনী বয়সের মেয়েকে পাচার করে দিয়েছে বলে প্রশাসন ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

ঠিক একইভাবে, গত ২১ ডিসেম্বর  দৈনিক সংগ্রামের কাছে আরোও এক রোহিঙ্গা কিশোরী পাচার হয়ে যাওয়ার খবর আসে। ওই কিশোরীর বড়ভাই ফয়েজ তার ব্যবহৃত নাম্বার থেকে দৈনিক সংগ্রাকে জানান, কিছুদিন পূর্বে তার এক খালা তার ঐ ছোটবোনকে বিভিন্নভাবে ফুসলাতে দেখে। এবং তার খালার আচরণে বিভিন্ন সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করেছে বলেও জানিয়েছে। এরপরে গত ২০ ডিসেম্বর এশার নামাজের পূর্বে হঠাৎ করে তার ছোটবোন অদৃশ্য হয়ে যায় বলে জানিয়েছে। 

কিন্তু পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তে ফয়েজের দেওয়া ঠিকানা লম্বাশিয়া এলাকায় গেলে ফয়েজ এঘটনা নিয়ে লেখালেখি না করার অনুরোধ করতে থাকে। তার এমন রহস্যজনক আচরণের কারণে ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা যায়নি। তবে সে জানিয়েছে, সে প্রতিবেদককে আর কোনো কিছুই জানাতে চাচ্ছেনা। সে অনেক চাপে আছে। সে আর কোনকিছুই বলবেনা বলে ফোন কেটে দেয়। 

এর আগে পাচার কাজে জড়িত সন্দেহে এমন একজন নারীকে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারীবাহীনি আটক করে যার গলায় ঝুলানো ছিলো ‘মুক্তি’ নামের একটি এনজিওর পরিচিতি কার্ড। যদিও এব্যাপারে জানতে মুক্তির প্রধান নির্বাহী বিমল দাশের সাথে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি খুব ব্যাস্ত জানিয়ে সটকে পড়েন। এরকম আরোও বেশ কিছু এনজিও প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের কার্যক্রমের ব্যাপারে সরকারের নীতি নির্ধারক মহল ইতিমধ্যে যথেষ্ঠ সংশয় প্রকাশ করেছেন। এবং কতিপয় এনজিওকে নিষিদ্ধও করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও রোহিঙ্গাদের ঘিরে নতুন নতুন এনজিও গজিয়ে উঠছে। এসব এনজিওতে ঝানু দক্ষতা দেখিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারী হিসেবে পুরোনো রেজিষ্ট্রার্ড রোহিঙ্গারা কাজ করছে। 

ক্যাম্প পরিদর্শন করে আরোও দেখা গেছে, সেখানে নতুন রোহিঙ্গাদের জন্যে যেসব ত্রাণকার্ড বিতরণ করা হয়েছে সেসবেও ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর অধীনে অস্ট্রেলিয়া এইড নামে একটি প্রতিষ্ঠান হতে ত্রাণ কার্ড পান কুতুপালং ক্যাম্পের ই-টু ব্লকের তাসলিমা। কিন্তু তিনি এখনো পর্যন্ত এই কার্ডের বিপরীতে কোন সহযোগীতা পাননি। তবে এব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক ও টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে আপাতত এই মাসটি একটু ঝামেলা হতে পারে। আগামী মাস থেকে সব ঠিক হয়ে যাবে।

অন্যদিকে নতুনদের মধ্যে যারা এসব কার্ডের বিপরীতে খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন তারাও পুরোনো রোহিঙ্গা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এমনকি খুবই স্বল্পমূল্যে পুরোনো একরোহিঙ্গা মুদিদোকানদারের কাছে চাউলের বস্তা বিক্রি করে দিয়েছে ই-টু ব্লকের নুর হোছেন (৪০)। যদিও উক্ত দোকানদার নিজেকে স্থানীয় বাঙ্গালী হিসেবে পরিচয় দেয়। কিন্তু খোঁজ  নিয়ে জানা যায়, সেও পুরোনো রোহিঙ্গা। এছাড়াও নতুন রোহিঙ্গাদের প্রাপ্ত বিভিন্ন মালামাল তৈজসপত্র প্রতিদিনই স্বল্পমূল্যে বেচাকেনা হয়ে ক্যাম্পের বাহিরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ সেনাবাহিনীর তল্লাশী চৌকিতে আটক হচ্ছে নতুন রোহিঙ্গাদের মালামালসহ। এসব অপকর্মে আটকদের অধিকাংশই পুরোনো রোহিঙ্গারা জড়িত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ