ঢাকা, সোমবার 25 December 2017, ১১ পৌষ ১৪২৪, ৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মনের আনন্দে যুবদলকে ক্রিকেট খেলতে হবে-মাশরাফি 

স্পোর্টস রিপোর্টার : আগামী ১৩ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ডে পর্দা উঠবে অনূর্ধŸ-১৯ বিশ্বকাপের। এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে চায় বাংলাদেশ যুবক্রিকেট দল। তাই নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল একটু আগে ভাগেই দেশ ছাড়ছে। আজ দিবাগত রাতে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট দল। যুব বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে ডানেডিনে ১০ দিনের ক্যাম্প করবে সাইফ বাংলাদেশ দল। এ ছাড়া স্থানীয় দলের সঙ্গে ৫০ ওভারের তিনটি প্রস্তুত ম্যাচও খেলবে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখছে না বাংলাদেশ। তারপরও ভয় যেটা আছে সেটা কন্ডিশনকে নিয়ে। কারণ নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে সিনিয়র দলেরও স্বাভাবিক খেলা খেলতে কষ্ট হয়। তবে তাদের সাহস জোগাতে এগিয়ে এলেন বাংলাদেশের ওয়ানডের অধিনায়ক মাশরাফির বিন মুর্তজা। গতকাল যুব দলের অনুশীলনের পর মাশরাফি তাদের সঙ্গে বসেছিলেন প্রায় এক ঘন্টা। দলটিকে সাহস দিয়ে উদ্দীপ্ত করার চেস্টা করেছেন। আর বলেছেন, ‘মনের আনন্দে ক্রিকেট খেলতে।’ মাশরাফির বলেন, ‘ওদের মানসিকভাবে শক্ত থাকতে বলেছি। কারণ ওখানে গিয়ে চিন্তা করতে হতে পারে আবহাওয়া-কন্ডিশন সব কিছ নিয়ে। কারণ এটা আমাদের বিরুদ্ধে। ফলে এটা চিন্তায় আসা স্বাভাবিক। ওদের বলেছি, মনের আনন্দে ক্রিকেট খেলবে। যতটা ওরা ফ্রি ক্রিকেট খেলবে ততটা ওরা উপভোগ করতে পারে। সেমিফাইনাল কিংবা বিশ্বকাপ জিততে হবে, ওরকম চাপ না নেওয়ার।’ নিউজিল্যান্ডে যুবাদের জন্য কী কী চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, সে ধারণাও দিয়েছেন মাশরাফি। তিনি বলেন,‘উইকেটগুলো পেতে পারে। তবে বোলারদের কষ্টটা একটু বেশি হবে। বাতাসের বিপক্ষে বোলিং করতে হবে। নিউজিল্যান্ডে বাতাস বড় ভূমিকা পালন করে। ওরা তো ১৫-২০ দিন আগে যাচ্ছে। ওরা মানিয়ে নেওয়ার সময় পাচ্ছে। এ সময়ে ভালো পরিকল্পনা করলে ভালো ফল পাবে।’ সাইফ হাসান, আফিফ হোসেন কিংবা কাজী অনিকদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য এ বিশ্বকাপ সফরকে শিক্ষণীয় করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মাশরাফি। শুধু যুব দল নয়, আগামী চার-পাঁচ বছর পর তারাই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে প্রতিনিধিত্ব করবে। তাই তাদেরকে প্রস্তুতিটা এখন থেকেই শুরু করার কথা বলেছেন মাশরাফি। মাশরাফি বলেন,‘ওরা বাংলাদেশকে প্রাতনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। মাঠে কঠোর পরিশ্রম করবে। শতভাগ উজাড় করে ক্রিকেট খেলবে, এতটুই প্রত্যাশা করছি। চার বছর পরে বাংলাদেশকে ওরাই প্রতিনিধিত্ব করবে। ওখানে গিয়ে কাপ জিতল বা কী করল, এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। গুরুত্বপূর্ণ হলো ওরা কী শিখছে এবং ওদের ওই অনুভূতিটা আছে কি না যে, ওরা বাংলাদেশের হয়ে খেলছে এবং সেরাটা খেলছে কি না। আমাদের জাতীয় দল যখন যায় এটাই নরমাল থাকে। ওদেরকে বলেছি মনের আনন্দে ক্রিকেট খেলতে। আমি বুঝি ওরা যত ফ্রি ক্রিকেট খেলবে যত এনজয় করবে ততই ভালো। আমাদের সেমিফাইনালে যেতে হবে বা বিশ্বকাপ জিততে হবে এই প্রেসারটা ওদেরকে না দেয়াই শ্রেয়। ওরা যেন ফ্রি ক্রিকেট খেলতে পারে এটাই ওদেরকে বলেছি।’ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে ‘সি’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নামিবিয়া, কানাডা ও ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের বার্ট সাটক্লিফ ওভালে ১৩ জানুয়ারি নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে যুবরা। দুই দি পর একই  ভেন্যুতে কানাডার মুখোমুখি হবে সাইফরা। প্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ মাঠে নামবে ১৮ জানুয়ারি। এখন পর্যন্ত যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য তৃতীয় স্থান অর্জন। এবার আগের অর্জনকে ছাপিয়ে নতুন কিছু করার মন্ত্র তরুণদের মনের মধ্যে বুনে দিলেন মাশরাফি। তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে অধিনায়ক সাইফ হাসান বলেন, ‘মাশরাফি ভাই আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি সবসময়ই আমাদের সমর্থন করে আসছেন। এবার নতুন নয়, এর আগেও করেছেন। তার অনুপ্রেরণা অনেক কাজে  দেয়। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি চাপমুক্ত হয়ে খেলার কথা বলেছেন। খেলাটা উপভোগ করে স্বাধীনভাবে খেলতে বলেছেন। আশা করি তার কথাগুলো সবার মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করবে।’ যুব দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান পিনাক ঘোষও মাশরাফির কথায় অনুপ্রাণিত। তিনি বলেন, ‘চাপ না নিয়ে খেলা উপভোগ করতে বলেছেন তিনি। আমরা সবাই তার কথায় অনুপ্রাণিত। মাশরাফি ভাই নিজেও যুব বিশ্বকাপ খেলেছেন,  সেই সব কথা আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন। এমন একটি বড় ইভেন্টে ভালো  খেলার জন্য কী কী করা উচিত, সেটা নিয়ে কথা বলেছেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ