ঢাকা, সোমবার 25 December 2017, ১১ পৌষ ১৪২৪, ৬ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডামুড্যায় এক গৃহবধূ গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

শরীয়তপুর সংবাদদাতা: স্বামী ও শ্বশুর পরিবারের নিমর্ম নির্যাতন সইতে না পেরে তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধু নিজের গায়ে কেরোশিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেস্টা করে। এতে ঐ গৃহবধুর শরীরের অধিকাংশ স্থানে দগ্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ঘটনাটি ঘটেছে ডামুড্যা উপজেলার পূর্বডামুড্যা ইউনিয়নের ভয়রা গজারিয়া গ্রামে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত স্বামীসহ স্বজনরা কেউ খোজ খবর নেইনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ডামুড্যা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ডামুড্যা থানা ও আহত গৃহবধু সেফালী বেগম জানান, ২০১২ সালে শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের ভয়রা গজারিয়া গ্রামের মৃত নুরু সরদারের ছেলে সেকুল সরদারের সঙ্গে একই উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গঙ্গাসকাঠি গ্রামের আলী আহমদ এর মেয়ে সেফালী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শশুর পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন কওে আসছে। এরই মধ্যে তাদেও কোল জুড়ে তিনটি সন্তান জম্ম নেয়। গতকাল বৃহস্পিতিবার সন্ধায় যৌতুকের জন্য সেফালীকে স্বামী সেকুল সরদারসহ শ্বশুরের পরিবারের লোকজন মারধর করে। এ ঘটনার পর রাত ৮টার দিকে গৃহবধু সেফালী শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন সইতে না পেরে নিজেই নিজ ঘরে তার শরীরে কেরোশিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। সেফালীর আত্মচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেণ। তার আত্মীয় স্বজনরা হাসপাতালে না আসায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের অনুরোধে তাকে পূনরায় ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ভর্তি রাখা হয়। অসহায় গৃহবধূ অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত দুই দিনেও ঢাকায় যেতে না পেরে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এদিকে গত দু’দিনেও স্বামীসহ শশুর বাড়ীর লোকজন কেউ দেখতে যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ইমরান বলেন, অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ সেফালীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তার শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। আমরা তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিকেলে বার্ণ ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রেরণ করলেও রোগীর কোন স্বজনরা এখনো পর্যন্ত ঢাকায় নেইনি। তবে ঐ গৃহবধুর অবস্থা খুবই আশংকাজনক।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, স্বামী নির্যাতন করার পর গৃহবধু কেরোসিন ঢেলে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার চেস্টা করে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ