ঢাকা, মঙ্গলবার 26 December 2017, ১২ পৌষ ১৪২৪, ৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিল্পকলায় ৬৫ ভারতীয় শিল্পীর ছাপচিত্র প্রদর্শনী শুরু ॥ চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে গতকাল সোমবার খ্যাতিমান ৬৫ জন ভারতীয় শিল্পীর সমসাময়িক ছাপচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৬নং গ্যালারীতে এ প্রদর্শনী চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সকাল দশটায় জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রধান অতিথি থেকে পক্ষকালব্যাপী প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অন্ষ্ঠুানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতের ন্যাশনাল গ্যালারি অব মডার্ণ আর্ট এর মহাপরিচালক অদ্বৈত চরণ গড়ানায়েক ও দেশ বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক শিল্পী মনিরুজ্জামান।
আয়োজকরা জানায়, ১১ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শেষে প্রত্যেক শিল্পী বাংলাদেশের জাতীয় চিত্রশালায় সংরক্ষণের জন্য একটি করে চিত্রকর্ম স্থায়ীভাবে প্রদান করবেন যা জাতীয় চিত্রশালার সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করবে। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বিভিন্ন সময় ছাপচিত্র প্রদর্শনী ও কর্মশালার আয়োজন এবং সম্মাননা প্রদান করে আসছে। চিত্রকলায় ছাপচিত্র একটি প্রাচীনতম মাধ্যম। বিশেষত ছাপচিত্রকে সাধারণের হাতের নাগালে এনেদিতে এই মাধ্যম বেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখে। অবিভক্ত বাংলায় ছাপাই ছবি নানাভাবে সমগ্র বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছে। যুগের প্রয়োজনে মুদ্রণশিল্পকে সমৃদ্ধ করতে যে মাধ্যমের উদ্ভব, তা আজ হয়ে উঠেছে চিত্রশিল্পের এক অনন্য মাধ্যম। যার ফলে আমাদের বাংলাদেশে ছাপচিত্র শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়-শিল্পী শফিউদ্দিন আহমেদ, শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়াসহ সমকালিন অনেক ছাপচিত্র শিল্পীর ছাপাই শিল্পকর্মের মাধ্যমে।
প্রাচীন দেশ চীনের প্রাচীনত্বকে আরও গৌরবময় করেছে তার ছাপচিত্রের ইতিহাস। কেবল প্রাচীনই নয় এই ইতিহাস, বলা ভালো চীনারাই ছাপচিত্র মাধ্যমের আবিষ্কারক। অষ্টম শতাব্দীতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বুদ্ধের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যে তা কাঠের পাটায় খোদাই করে কাগজে  ছেপে প্রথম ছাপছবির আবিষ্কার ও প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। সেটিই ছিলো ইতিহাসের প্রথম ‘ব্লক বুক’।
ছাপচিত্র দুই ধরনের। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে প্লেট বা উপকরণের উপরিভাগে লাগানো রঙের ব্যবহারে তৈরি ছবি, যেমন উডকাট ও লিথোগ্রাফ। এখানে শিল্পী রঙ ব্লকের উপরিভাগে দিয়ে খোদাই করা অংশের শূন্যতা সাদায় পরিস্ফুট করে ছবি বা নকশা ফুটিয়ে তোলেন। ছাপচিত্রের দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে ইনটাগলিও পদ্ধতি, যেখানে অন্তর্গত রেখার সমাহারে ফুটিয়ে তোলা হয় ছবি। সাধারণত এসিড দিয়ে কপার বা জিঙ্ক প্লেটে এসব লেখা পরিস্ফুট করা হয়। প্রক্রিয়াটি অনেক কষ্টসাধ্য।
১৯৯০ সালে ভারতের ছাপচিত্রশিল্পী সংস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমসামিয়ক ছাপচিত্রশিল্পীরা পুনরুদ্দিপ্ত হন। চিত্রশিল্পের মাধ্যম তৈরি এবং এর মর্যাদা বাড়াতে সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে এটি সফল একটি প্রতিষ্ঠান। ভারতের ছাপচিত্রশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এরকম ৫জন ছাপচিত্রশিল্পী সংস্থার সদস্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ