ঢাকা, মঙ্গলবার 26 December 2017, ১২ পৌষ ১৪২৪, ৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে করার দাবি

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে করার দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সাবেক মেয়র, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সম্মানপ্রদ আজীবন সদস্য এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকসভা থেকে এ দাবি জানানো হয়।
শোকসভায় বক্তারা চট্টগ্রাম দরদী এ বর্ষীয়ান রাজনীতিকের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী হচ্ছে একটি সংগ্রামের নাম। আমৃত্যু চট্টগ্রাম-চট্টগ্রামবাসীর জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি কর্মজীবী মানুষের পক্ষে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। দাবি আদায়ে তিনি ছিলেন আপোষহীন। নিজ দলের সরকারের সময়েও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তিনি রাজপথে নেমেছেন। তার জনবান্ধব কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামবাসীর মনে চির ঠাঁই করে নিয়েছেন তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের সব দল মতের মানুষের কাছে অভিভাবকের মতো ছিলেন তিনি। তিনি মানবতার জন্য কাজ করে গেছেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের সম্পদ ছিলেন, তিনি যে রাজনীতি ও মানবতার পক্ষে আদর্শের মশাল জ্বেলে গেছেন তা কখনো নিভবে না। একজন মহিউদ্দিন চৌধুরী আর কখনো হবেন না। রাজনৈতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে তিনি স্বশিক্ষিত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। অসাধারণ সব কাজের মাধ্যমে নিজের অবস্থান গড়ে তুললেও আমৃত্যু সাধারণ জীবনযাপন করে গেছেন এ কর্মবীর মানুষটি।
 চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পিএইচপি ভিআইপি লাউঞ্জে ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোকসভায় বক্তারা চট্টগ্রাম  মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মবীর এ মানুষটির নামে করার দাবি জানান। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দাবির প্রতি সমর্থন রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয় সভা থেকে।
 শোকসভা থেকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মহিউদ্দিন চৌধুরীর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে বলা হয়, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব যতদিন থাকবে ততদিন মহিউদ্দিন চৌধুরীর অস্থিত্ব জানান দেবে। প্রেসক্লাবের ক্রান্তিকালে তিনি ভবন নির্মাণে এগিয়ে এসেছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণে এগিয়ে এসেছেন। সাংবাদিকদের রুটিরুজির আন্দোলনে তিনি সমবসময় পাশে ছিলেন।
শোকসভায় মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমার বাবা কাজ করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাবার অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করার ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় ভবিষ্যতেও আপনাদের সহযোগিতা চাই। আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার পরও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে একটা শক্ত ভিত দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। জীবনে বিলাসিতা ও সুখকে বিসর্জন দিয়ে সারাজীবন শোষিত মানুষের কাতারে থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ব্যারিস্টার নওফেল বলেন, দেশের বাইরে নিয়ে বাবার চিকিৎসা প্রদানসহ সার্বিক বিষয়ে তিনি সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
 মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন বলেন, আমাদের বাবা আজ আমাদের মাঝে নেই। তিনি চট্টগ্রামের সবাইকে নিজের পরিবারের সদস্য মনে করতেন। তার ধ্যান-ধারণা ছিল শুধু চট্টগ্রামের উন্নয়ন। তিনি কয়েকবছর অসুস্থ থাকলেও কাউকে অসুস্থতা বুঝতে দিতেন না।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম বলেন, চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের রুটি রুজির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সবসময় আমাদের পাশে থেকেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার বলেন, চট্টগ্রামের একমাত্র অভিভাবক মহিউদ্দিন চৌধুরী আরেকজন কখনো আসবেন না। চট্টগ্রাম তথা দেশের রাজনৈতিক সম্পদ মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে তার পরবর্তী প্রজন্মকে। তিনি প্রেসক্লাবের কর্মকাণ্ডে মহিউদ্দিন চৌধুরীর অবদানের কথা স্মরণ করেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন ক্লাবের কার্যকরী সদস্য হেলাল উদ্দিন চৌধুরী ও মোয়াজ্জেমুল হক, বিএফইউজে’র যুগ্ম-মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, সিইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির সহ-সভাপতি সমীর কান্তি বড়ুয়া, সাবেক চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, সিইউজের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক ও মোস্তাক আহমদ, সিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র দাশ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য জাহিদুল করিম কচি, দেব প্রসাদ দাস দেবু প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ