ঢাকা, মঙ্গলবার 26 December 2017, ১২ পৌষ ১৪২৪, ৭ রবিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভোট ডাকাতদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগর বিএনপির এক জরুরী সভায় নেতৃবৃন্দ আগামী ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে রেজিষ্টার্ড গ্রাজুয়েটস প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী পরিষদকে ভোট দেয়ার জন্য সম্মানিত ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানানো হয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের করণীয় সম্পর্কে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই দিন আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ কেন্দ্রে সকাল ৯টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটার তালিকা অনুযায়ী থানাওয়ারী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থণা, ভোটের দিন তাদেরকে কেন্দ্রে আসতে সহায়তা করা এবং ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়া হয়।
শনিবার দুপুর ১২ টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় নেতৃবৃন্দ এ সব জানান।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন শেখ খায়রুজ্জামান খোকা, রেহানা আক্তার, স ম আব্দুর রহমান, ফখরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান মুরাদ, সিরাজুল হক নান্নু, মহিবুজ্জামান কচি, মুজিবর রহমান, ইকবাল হোসেন খোকন, এহতেশামুল হক শাওন, শেখ সাদী, কে এম হুমায়ুন কবীর, এশরামুল হক হেলাল, হাসানুর রশিদ মিরাজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ ইমাম হোসেন, শরিফুল ইসলাম বাবু, মেজবাহউদ্দিন মিজু, জি এম রফিকুল হাসান, ময়েজউদ্দিন চুন্নু, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
সভায় জানানো হয়, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী জানুয়ারী মাসে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ খুলনায় সাংগঠনিক সফর করবেন। সফরের তারিখ নির্ধারিত হলে পরবর্তী প্রস্ততি সভার মাধ্যমে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়। খুলনায় সাংগঠনিক সফর টিমের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী বর্ষিয়ান জননেতা জনাব তরিকুল ইসলাম।
সভা থেকে খুলনা শিশু ফাউন্ডেশন নির্বাচনের কলংকিত অধ্যায় জেলা স্টেডিয়ামে নজিরবিহীন ভাংচুর, তান্ডব, লুটপাট, ব্যালট পেপার ছিনতাই, অস্ত্র প্রদর্শন, গুলি বর্ষণ, ককটেল ফাটিয়ে আতংক তৈরি ও তৎসম্পৃক্ত ঘটনা প্রবাহের নিন্দা জানিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়ার প্রতিবাদে নগর আওয়ামী লীগের নামে যে বিবৃতি সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে তার নিন্দা জানানো হয়। সভায় বলা হয়, নগর আওয়ামী লীগের সিংহভাগ নেতাই যে বিবৃতির সাথে একমত নন, তা প্রমাণিত। কারণ ওই বিৃবতিতে সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতার নাম স্বাক্ষর নাই। মূলত আলহাজ মিজানের অনুসারী হিসাবে পরিচিত-অনুগত কতিপয় ব্যক্তির নামে আওয়ামী লীগের বিবৃতি পাঠানো তাদের অভ্যন্তরের দ্বিধা-বিভক্তিকে স্পস্ট করেছে।
সভা থেকে বলা হয়, ৫ জানুয়ারীর এক তরফা এক দলীয় অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারীদের মনন ও মজ্জায় বিনা ভোটে দখলদারিত্বের মাধ্যমে সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের একটি অশুভ ও অসুস্থ মানসিকতা তৈরি হয়েছে। যে কারণে ভোট ডাকাতি করে এমপি হয়েই বাসস্ট্যান্ড দখল, সকল শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রেড ইউনিয়ন দখল, সমবায় ব্যাংক দখল, ডায়াবেটিক সমিতি দখল, রেড ক্রিসেন্ট দখল, ক্রীড়া সংস্থা দখল, স্কুল-কলেজ-মসজিদ-মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি দখল, বড় বাজার ও নদী এলাকার সরকারি সম্পত্তি দখলসহ অসংখ্য অজ¯্র দখলবাজির সাথে এমপির অনুসারীদের নাম ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে। রয়েছে হত্যা, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগ। জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফলাফল ছিনতাইয়ের পর অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা ওই গোষ্ঠী সর্বশেষ খুলনা শিশু ফাউন্ডেশনের ভোটের ফল নিজেদের বিপক্ষে যাওয়ায় নজিরবিহীন তান্ডব চালাতে কুন্ঠিত হয়নি। শত শত মানুষ প্রত্যক্ষ করেছেন ওই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে ডন-রাসেল বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করে অনেকেই স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এরপরও পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত কমিটি কারো নাম উল্লেখ না করে দায়সারা মামলা করে প্রমাণ করেছেন, তারা ওই স্বঘোষিত এমপির চাপের কাছে কতোটা অসহায়।
সভা থেকে ভোট ডাকাদের সামাজিকভাবে বয়কট করার জন্য খুলনাবাসীর প্রতি আহবান জানানো হয়। শিশু ফাউন্ডেশন নির্বাচনে তাদেরকে ভোটের মাধ্যমে উচিৎ শিক্ষা দেয়ায় ধন্যবাদ জানানো হয়। সেই সাথে খুলনা মিডিয়া কর্মীদের অতীতের ন্যায় আরো বেশি সাহসী ও নির্ভিক ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়ে বলা হয়, বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে হামলাকারীদের পরিচয় ও তাদের নেপথ্য গডফাদারদের রক্ষার যে প্রয়াস দেখা গেছে তাতে আমরা হতাশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ